Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মির্জাপুরে ৫শ’ কেজি চালে টাকা পেলেন ৫ হাজার

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীর হোসেন, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শারদীয় র্দুগাপূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদানের চাল কালোবাজারিদের কবলে পড়েছে। কালোবাজারারিরা সিন্ডিকেট করে বাজার দরের তিন ভাগের এক ভাগ মূল্যে চাল কিনে নিচ্ছেন। আর এতে সহযোগিতা দিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিভাগ। সিন্ডিকেট তৈরি করায় সুবিধাভোগীরা কম মূল্যেই চাল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। এ নিয়ে পূজারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মির্জাপুর পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ বছর ২৩৬টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা মন্ডপগুলোর বিপরীতে সরকারিভাবে প্রতি মন্ডপে ৫০০ কেজি করে ১১৮ মেট্রেক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। অধিকাংশরাই এই চাল উত্তোলন না করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন কালোবাজারিরা। তারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যোগসাজশে সিন্ডিকেট তৈরি করে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি কেজি চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১০ টাকা করে। সে অনুযায়ী প্রতিটি পূজা মন্ডপের কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু চালের বর্তমান বাজার দর কেজি প্রতি ২৮ থেকে ২৯ টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাশ্ববর্তী টাঙ্গাইল সদর ও দেলদুয়ার উপজেলায় প্রতি কেজি চাল ১৮ থেকে ১৯ টাকা দেয়া হয়েছে।
হিসেব মতে, মির্জাপুর উপজেলায় কেজি প্রতি ১০ টাকা করে চালের দাম কম দেয়া হয়েছে। সে হিসেবে ১১৮ টন চাল থেকে ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকা সিন্ডিকেট সদস্যদের পকেটে গেছে। বাজার অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা চাল পাইকারি দরে ২২ থেকে ২৩ টাকায় বিক্রি করেছেন। এ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বাড়তি আরও ৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা লাভ করেছেন। এতে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যদের মোট লাভ দাড়ায় ১৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে সন্ডিকিটে সদস্য উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা ছিবার উদ্দিন টিনিউজকে বলেন, আমরা তাদের বলেছিলাম চালের দাম ১০ টাকা কেজি দিব। ইচ্ছে হলে চাল দিতে পারেন, না হলে নিয়ে যেতে পারেন। পরে তারা আমাদের কাছে চাল বিক্রি করেছে। আমরা ১০ টাকা কেজি ধরে চাল বিক্রি করতে কাউকে বাধ্য করিনি। লতিফপুর ইউনিয়নের সুবিধাভোগী চিত্তরঞ্জন সূত্রধরের বাড়রি পূজা মন্ডপের সহসভাপতি স্বপন সূত্রধর টিনিউজকে জানান, তার ৫০০ কেজি চালের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা পেয়েছেন। অনেক কাকুতি মিনতি করেও কোন লাভ হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি পূজা মন্ডপ কমিটির সভাপতি টিনিউজকে জানান, চালের দামের বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করেছিলাম। তারা খাদ্য গুদামে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে তারা কোন আশার বানী শুনাননি। বরং ৫ হাজার টাকা করে নিতে বলেছেন। বিষয়টি রহস্যজনক বলে তারা মন্তব্য করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক টিনিউজকে বলেন, এ বিষয়ে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার শুণ টিনিউজকে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। টাঙ্গাইল জেলার অন্য স্থানে যেখানে ৫০০ কেজি চালের দাম ৯ থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে সেখানে মির্জাপুরে মাত্র ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, আমাদের দায়িত্ব মন্ডপ প্রতি ৫০০ কেজির ডিও লেটার বুঝিয়ে দেয়া। সেটা আমরা করেছি। তারা চাল নিয়ে বিক্রি করেছে, না কি করেছে তা জানি না।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ টিনিউজকে বলেন, ডিও লেটার দেখে মন্ডপের সভাপতি-সম্পাদকের কাছে চাল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা গোড়াউনের বাহিরে নিয়ে বিক্রি করেছে কিনা, তা আমার জানা নেই বলে তিনি জানান।
চালের এ বিষয় জানতে চাইলে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মালেক টিনিউজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ