Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মির্জাপুরে সড়ক সংস্কারের ১৫ দিনেই বেহাল অবস্থা

শেয়ার করুন

এস এম এরশাদ, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা-ধানতারা সড়কের সোয়া ৪ কিলোমিটার গত ৮/১০ দিন আগে কার্পেটিং করা হয়েছে। কার্পেটিং করার পর ১৫ দিনেই বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ফেটে চৌচির হয়ে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কাজের মান এতই খারাপ হয়েছে যে যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে নয় এখন হাত দিয়েই চাপড়া চাপড়া কার্পেটিং তুলা যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সড়কটি সংস্কার কাজ নিন্মমানের হওযায় মির্জাপুর উপজেলা এলজিইডি অফিস ঠিকাদারের বিল আটকে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা থেকে ধামরাই হয়ে ঢাকা যাওয়ার অন্যতম সড়ক দেওহাটা-ধানতারা সড়ক। এই সড়কটি মির্জাপুর উপজেলার সাথে পার্শ্ববর্তী ধামরাই, মানিকগঞ্জ, সাটুরিয়া ও ঢাকায় যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কর্পেটিং উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। মির্জাপুর এলজিইডি অফিস দেওহাটা থেকে চান্দুলিয়া শিল্পপতি নুরুল ইসলাম ব্রিজ পর্যন্ত সোয়া ৪ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। এর ব্যয় ধরা হয় ৮৩ লাখ টাকা। টেন্ডারের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের আরএস এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়। সড়কটির সোয়া ২ কিলোমিটার কার্পেটিং এবং ২ কিলোমিটার সীলকোট করা হয়। গত ১৫ দিন আগে সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সড়কটি কাজ শেষ হওয়ার ১৫ দিন না ঘুরতেই বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ফেটে চৌচির হয়ে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং হাত দিয়ে টেনে চাপড়া চাপড়া তুলা যাচ্ছে। অন্যদিকে সড়কটি সমতল না হওয়ায় ওই সড়কে চলাচলরত ছোট ছোট যানবাহন ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে বলে জানা গেছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলরত এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটি সংস্কার কাজ নিন্মমানের করায় উপজেলা এলজিইডি অফিস ঠিকাদারের বিল আটকে দিয়েছেন বলে সড়কটির দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিইডি অফিসের উপসহকারি প্রকৌশলী আব্দুল জলিল জানিয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটি মাঝে মাঝে ফেটে চৌচির হয়ে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। অনেক স্থানে স্থানীয় লোকজন হাত দিয়েই কার্পেটিং চাপড়া চাপড়া তুলে পথচারীদের দেখাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সড়কটিতে হালকা যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে অনেক স্থানে কার্পেটিং উঠে এবং দেবে গেছে। নতুন সড়ক দিয়ে চলাচল করেও এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
এছাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিস না করারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি মির্জাপুরে যোগদানের পর থেকে এলজিইডি অফিসের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজে সরেজমিন পরিদর্শনে যান না বলে এলজিইডি অফিসের কয়েকজন উপ-সহকারি প্রকৌশলী জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী টিনিউজকে অভিযোগ করেন, সড়কটিতে কার্পেটিং করার আগে ট্যাককোট ও প্রাইমকোট সঠিকভাবে না করা এবং মেকাডামের উপর কাদামাটি পরিস্কার না করেই কার্পেটিং করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সড়কটি দিয়ে চলাচলরত পথচারী রফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, ভ্যান চালক সৈকত ও ট্রাক চালক শামীম টিনিউজকে জানান, ৮/১০ দিন আগে সড়কটি কার্পেটিং করা হয়েছে। ১৫ দিন যেতেই উঠে যাচ্ছে। এছাড়া সড়কটি সমতল না হওয়ায় যানবাহনের চলাচলের সময় ঝাকুনি লাগছে বলে তারা জানান।
মীর দেওহাটা গ্রামের টুটুল, কাদের, জুয়েল, শাজাহান ও রাজ্জাক টিনিউজকে জানান, সড়কটি ব্যস্ততম সড়ক। সময় বাঁচাতে ও দুর্ঘটনা এড়াতে ঢাকা, ধামরাই, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ ও মির্জাপুরের লোকজন এই সড়কটি ব্যবহার করে থাকেন। সড়কটি নির্মানে নিন্মমানের কাজ করা হয়েছে। কার্পেটিংয়ের আগে সড়কটি পরিস্কার করা হয়নি। তাছাড়া কার্পেটিংয়ের আগে আলাদা পিচ দেয়া হয় তাও দেয়া হয়নি। এ কারণে হাত দিয়েই কার্পেটিং চাপড়া চাপড়া তুলা যাচ্ছে। তাছাড়া ভালো ভাবে রোলারও করা হয়নি। কাজের মান খারাপ করে সরকারের টাকা ঠিকাদার ও অফিসের লোকজন খাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরএস এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী সারোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি টিনিউজকে জানান, সড়কটিতে ৮/১০ টনের যানবাহন চলাচলের উপযোগী। সেখানে ২০/২৫ টনের যানবাহন চলাচল করছে। এছাড়া সড়কটি দিয়ে ২৩টি ভাটার ট্রাক চলাচল করে থাকে। এ কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়কটির দায়িত্বে থাকা মির্জাপুর এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল জলিল টিনিউজকে জানিয়েছেন, সড়কটি গত কয়েকদিন আগেই কার্পেটিং করা হয়েছে। সড়কটি দিয়ে ভাড়ি যানবাহন চলাচল করায় কিছু কিছু যায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারকে কোন বিল দেয়া হয়নি। তাকে সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কার্পেটিং ফেলে দিয়ে নতুন করে করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ