Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মির্জাপুরে সন্ত্রাসী ও পুলিশের ভয়ে গৃহহারা পরিবারদের সাংবাদিক সম্মেলন

শেয়ার করুন

এসএম এরশাদ, মির্জাপুর ॥
গ্রীন সিটি নামে একটি হোল্ডিং কোম্পানীর কাছে জমি বিক্রি করতে অস্বীকার করায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তিনটি পরিবারকে সন্ত্রাসী ও থানা পুলিশ দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ জুলাই) ওই তিন পরিবারের সদস্যরা মির্জাপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নজরুল ইসলাম। গৃহহারা এই তিন পরিবার হলো- উপজেলার শিল্পাঞ্চল এলাকার গোড়াই ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামের আব্দুল মজিদ, লুৎফর রহমান ও নজরুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকার রাজাবাড়ী মৌজায় ১৪৮৮, ১৪৮৯ ও ১৫৯৯ দাগে পৈত্রিক সূত্রে তারা তিন পরিবার মালিক হয়ে ৪৯ শতাংশ জমি ভোগ দখল করে পাঁকা ঘরবাড়ি বানিয়ে বসবাস করে আসছেন। এরমধ্যে পার্শ্ববর্তী গ্রীন সিটি কর্তৃপক্ষের লুলোপ দৃষ্টি পড়ে ওই জমির ওপর। এজন্য তারা একাধিকবার ওই বাড়ি দু’টি কেনার জন্য প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু এতে তারা রাজি না হওয়ায় গ্রীন সিটি কর্তৃপক্ষ তাদের বাড়ি ছাড়া করতে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দেয়। পরে গ্রীন সিটির স্থানীয় দালাল গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (পূর্ব) সভাপতি আশরাফ খান বাড়ি বিক্রি করতে তাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকেন। পরে তার নির্দেশে স্থানীয় ৮/১০ জন সন্ত্রাসী তাদের বাড়ি দু’টি দখলে নেয়ার পায়তারা করে। গত (১ জুলাই) রাতে সন্ত্রাসীরা ওই বাড়িতে গিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। বাড়ি ছেড়ে না দিলে ভুলড্রোজার দিয়ে বাড়ি গুড়িয়ে দেয়া হবে এবং রাতের অন্ধকারে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেয় সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য গত (২ জুলাই) টাঙ্গাইল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একই ইউনিয়নের ভানুয়াবহ দক্ষিণপাড়া গ্রামের কাদেরের ছেলে আরিফ হোসেন, জৈয়ন উদ্দিনের ছেলে আতোয়ার, কুজরত আলী, মুক্তার আলী, মফেজ উদ্দিনের ছেলে আরিম হোসেন, আব্দুল করিমের ছেলে আলামীন ও লালবাড়ি গ্রামের গৌর চন্দ্র মন্ডলের ছেলে রাম প্রসাদকে আসামী করে ১০৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ওই পরিবারের সদস্যরা যাতে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হতে না পারে সেজন্য বাড়ির দক্ষিণ পাশে সরকারি রাস্তা ঘেষে পাঁকা প্রাচীর নির্মাণ করে আটকে দেয়া হয়েছে। এছাড়া সন্ত্রাসীরা ওই বাড়ির বিদ্যুতের লাইন ও পানির লাইন ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

এদিকে গত (১২ জুন) নজরুল ইসলামের বাড়িতে সংস্কার কাজ করা অবস্থায় সাত শ্রমিককে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাদের থানা থেকে টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। গত (২০ জুন) রাত ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎতের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি আব্দুল মজিদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার চেষ্টা করলে গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার পাশের বাড়ির আওলাদ হোসেন খবর পেয়ে বিশ্বজিৎতের সঙ্গে কথা বলেন। এক পর্যায় পুলিশ তাকে রেখে চলে আসেন এবং বলেন সকালে ওসি স্যারের সাথে থানায় দেখা করবেন। তা না হলে গ্রেফতার করে নিয়ে যাবো। বর্তমানে পরিবার দু’টি পুলিশ ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভয়ে এখন গৃৃহহারা হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ফার্মাসিস্ট আব্দুল মজিদ, ছেলে সিমভা ফ্যাশন লি:এর কমার্সিয়াল ম্যানেজার মেহেদী হাসান, মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী লাল ভানু বেগম, ছেলে লুৎফর রহমান, তার স্ত্রী সাবেক ইউপি সদস্য আলেয়া আক্তার, নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী হাসনা বেগম, বোন রিনা সিদ্দিকী টিয়া উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে মৃত আব্দুর রহমানের স্ত্রী লালভানু বেগম বলেন, একদিকে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা, অন্যদিকে পুলিশের ভয়ে ছেলেদের বাড়িতে রাখতে পারি না। বাড়ির সামনে দিয়ে প্রাচীর নির্মান করায় আমরা তিন পরিবার এক রকম বন্দি অবস্থায় আছি। গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার আওলাদ হোসেন টিনিউজকে জানান, একদিন রাতে মির্জাপুর থানার এএসআই বিশ্বজিৎ মজিদের বাড়িতে গিয়ে ফার্মাসিস্ট আব্দুল মজিদকে আটক করে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে পুলিশের কাছে জানতে চান মজিদের বিরুদ্ধে কি অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ অভিযোগের কোন সদোত্তর তিনি দিতে পারেননি বলে জানান।
তবে টিনিউজকে মির্জাপুর থানার (এএসআই) বিশ্বজিৎ এসব বিষয় অস্বীকার করেন।
গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (পূর্ব) সভাপতি আশরাফ খানের সঙ্গে কথা হলে টিনিউজকে বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
টিনিউজের পক্ষ থেকে গ্রীন সিটির পরিচালক ফিরোজ আল মামুনের সঙ্গে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হক টিনিউজকে বলেন, পুলিশ ওই বাড়িতে কাউকে গ্রেফতার করতে যায়নি বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ