মির্জাপুরে শোকের মাসে সরকারি কর্মকর্তার নেতৃত্বে শিক্ষকদের আনন্দ ভ্রমন! চরম ক্ষোভের সৃষ্টি

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুর ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মডেল টেস্ট পরীক্ষার নাম করে মোটা অঙ্কের চাঁদার টাকা হাতিয়ে নিয়ে দুটি ক্লাস্টারের প্রধান শিক্ষকরা শোকের মাসে আনন্দ ভ্রমনে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৪ আগস্ট) উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে এ উপজেলার গোড়াই ও পাঁচগাও ক্লাস্টারের ৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা কিশোরগঞ্জ জেলায় ভ্রমনে যান বলে জানা গেছে। এ নিয়ে মির্জাপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার পাঁচগাও ক্লাস্টারের ২১টি এবং গোড়াই ক্লাস্টারের ২৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক হাজার ৬শ’ সমাপনী পরীক্ষার্থীর মডেল টেস্ট পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা পরীক্ষার ফি বাবদ চাঁদা উত্তোলন করা হয়। প্রশ্নপত্র ও খাতা বাবদ প্রায় ৪২ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে বাকি টাকা দিয়ে ওই দুই ক্লাস্টারের প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে সোমবার (১৪ আগস্ট) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলায় আনন্দ ভ্রমনে যান। শোকের মাসে এই আনন্দ ভ্রমনে যাওয়ায় উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যিালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
গোড়াই নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নাছির মিয়া ও গোড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আজহারুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, দুই ক্লাস্টারের ৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার্থী প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫টি মডেল টেস্ট পরীক্ষার কথা বলে ৫০ টাকা (চাঁদা) করে প্রায় ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এরমধ্যে প্রায় ৪২ হাজার টাকা খরচ দেখিয়ে বাকি টাকা দিয়ে ওই দুই ক্লাস্টারের প্রধান শিক্ষকরা আনন্দ ভ্রমনে গেছেন। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) গোড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এক সভায় আনন্দ ভ্রমনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি টিনিউজকে আরও জানান, উপজেলার চিতেশ্বরী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন এবং গোড়াই নয়াপাড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন এই ৪৫টি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা তুলেছেন।
এ বিষয়ে ওই দুই ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার জান্নাত আরা বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, মডেল টেস্ট নয়, মাসিক মূল্যায়ন পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছে। শোকের মাসে আনন্দ ভ্রমনে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি টিনিউজকে বলেন, শিক্ষকরা ছুটি পান না। সোমবার (১৪ আগস্ট) ছুটি পাওয়ায় তারা কিশোরগঞ্জ জেলার শোলাকিয়ায় ভ্রমনে গেছেন।
মির্জাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের টাকায় এ ভ্রমনের আয়োজন করা হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। তাছাড়া ভ্রমনের জন্য আমার কাছ থেকেও ৬শ’ টাকা চাঁদা নেয়া হয়েছে। শোকের মাসে আনন্দ ভ্রমন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা কোন আনন্দ ভ্রমন না। আমরা একটু অবসর পেয়েছি বিধায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাড়িসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করি।
মির্জাপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহিনুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা টিনিউজকে বলেন, ওই দুই ক্লাস্টারের সমাপনী পরীক্ষার্র্থীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়েছে বলে তারা শুনেছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত সাদমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, বিষয়গুলো আমার জানা নেই।
মির্জাপুর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি টিনিউজকে বলেন, বিষয়টি আমারও জানা নেই।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ