মির্জাপুরে রাতে ওৎ পেতে থেকে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএনও

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার, মির্জাপুরঃ
রাতে ওৎ পেতে থেকে বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন। এ সময় বরের বাবা ইউএনও ইসরাত সাদমীনকে কনে পক্ষের লোক ভেবে মিষ্টির প্যাকেট হাতে তোলে দেন। মিষ্টির প্যাকেট পেয়েও বে-রশিক ইউএনও নিজের পরিচয় দিয়ে বরের বাবাকে আটক করেন। পরে বাল্য বিয়ে না করানো মোচলিকা দিয়ে ছাড়া পান তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৭ জুলাই) রাতে উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের রাজবাড়ি ফলিরচালা গ্রামে।
জানা গেছে, সোমবার (১৭ জুলাই) রাতে রাজাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রাজাবাড়ি ফলিরচালা গ্রামের আলমগীর হোসের মেয়ে আখি ওরফে পুতুলের সঙ্গে একই উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের চিতেশ্বরী গ্রামের রহিজ উদ্দিনের ছেলে ছানোয়ারের বিয়ের দিন ধার্য্য ছিল। বাল্য বিয়ে হওয়ার
খবর পেয়ে ইউএনও ইসরাত সাদমীন রাতে মেয়ের বাড়ির সামনে গোপনে দাঁড়িয়ে থাকেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে বর ও বরের বাবাসহ ৭/৮ জন লোক কনের জিনিষপত্র বহনের ব্রিফকেস ও মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে মেয়ের বাড়ির সামনে এসে পৌছান। বাড়ির সামনে ইউএনও সহ সঙ্গীয়দের দেখে বরের বাবা ভুল করে ইউএনওকে কনের পক্ষের লোক ভেবে মিষ্টির প্যাকেট হাতে তুলে দেন এবং সালাম দিয়ে ভাল মন্দ জিজ্ঞেস করেন। সালামের উত্তর দিয়ে ভাল মন্দ জানতে চাইলেও বে-রসিক ইউএনও তার পরিচয় দেন এবং বাল্য বিয়ে করানোর অভিযোগে তাদের আটক করে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় বর দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে ছেলের বিয়ে দিবেন না মর্মে মুচলেকা দিলে বরের বাবাসহ অন্যদের ছেড়ে দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন বাল্যবিয়ে বন্ধে সকল স্তরের নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ