Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মির্জাপুরের গোড়াই-সখীপুর সড়কের বেহাল অবস্থা ॥ যানবাহন চলছে ঝুঁকি নিয়ে

শেয়ার করুন

Mirzapur_News__06-10-2015-gorai-shokhipur_News_(6)স্টাফ রিপোর্টারঃ

কার্পেটিং, ইট, বালু ও খোয়া উঠে গিয়ে খানাখন্দকে পরিনত হয়েছে গোড়াই-সখীপুর সড়ক। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত হয়ে ছোট ছোট পুকুরে পরিণত হয়েছে। বেহাল এই সড়ক দিয়ে যানবাহনগুলো অত্যন্ত ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। এজন্য এই সড়কে যাতাযাতকারী যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে সখীপুর পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এই সড়কটি টাঙ্গাইলের পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একমাত্র সড়ক। মির্জাপুর উপজেলা ছাড়াও সখীপুর, কালিহাতি, ঘাটাইল এবং মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের বিশাল এলাকার জনগন এবং মালামাল পরিবহনে ঢাকা ও টাঙ্গাইলের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এই আঞ্চলিক সড়কটি দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করছে বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র আরও জানান, এই ব্যাপক সংখ্যক যানবাহন চলাচল এবং বৃষ্টির কারণে ইট, বালু, খোয়া ও বিটুমিন উঠে গিয়ে খানাখন্দকে পরিনত হয়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তেও সৃষ্টি হয়ে পুকুরে পরিণত হয়েছে। ফলে বিপুল সংখ্যক যানবাহন অত্যন্ত ঝু^ঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে বলে জানা গেছে। এই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালক সাইফুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন, আজিজুল ইসলাম, ইলিয়াস আলী, বাস চালক রহিম বাদশা, আব্দুল আলীম, ট্রাক চালক আনোয়ার হোসেন, রাজ্জাক মিয়াসহ অনেকেই জানান, গোড়াই থেকে সখীপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার রাস্তা যেতে যেখানে বড়জোড় ৪৫/৫০ মিনিট সময় লাগার কথা, সেখানে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে বর্তমানে সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। তারা আরও জানান, রাস্তার এই বেহাল অবস্থার কারনে তাদের যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে। তাছাড়া যে কোন সময় এই সড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।
এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বিএসসি, লাল মিয়া, ইয়াকুব আলী, জসিম খান, আব্দুস সামাদ, আজাহারুল ইসলাম, হালিম সিকদার, নুরু মিয়া জানান, সড়কটির দুরাস্থার কারণে যাত্রীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে পাহাড়ি অঞ্চলের বেগুন চাষীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ঢাকা থেকে পাইকার না আসায় তারা কম দামে বেগুন বিক্রি করছেন বলে কৃষক হালিম, আলমগীর, ফেরদৌস পাহাড়ী, ফরহাদ হোসেন জানান। তারা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
হাটুভাঙ্গা ব্রিজের ইজারাদার আতিকুল ইসলাম শিকদার বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বাঁশ ও কাঠের ট্রাকসহ মাল ভর্তি যানবাহন নলুয়া, বাসাইল, সখীপুরের বড়ডোবা হয়ে গাজীপুর দিয়ে বেড়িয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে। যানবাহনগুলো এই সড়কে চলাচল না করায় ইজারাদাররা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন যেখানে ৩০/৩৫ হাজার টাকা কালেকশন হতো সড়কটি বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় প্রতিদিন ৪/৫ হাজার টাকা কালেকশন হচ্ছে। তাছাড়া যে টাকায় ইজারা নিয়েছেন তার অর্ধেক টাকাও তুলতে পারবেন না বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মির্জাপুরের সহকারি প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম খান জানান, ভারী যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় সড়কটির এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া গোড়াই এলাকায় মিল কারখানাগুলোর পানি সড়কে জমে থাকায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে দু’একদিনের মধ্যে বড় বড় গর্ত ভরাটের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া ২৭ কিলোমিটার এই সড়কটি সংস্কারের জন্য ১১ কোটি ২৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন বিপুল পরিমান এই টাকা যাতে দ্রুত বরাদ্দ হয় সেজন্য চেষ্টা করছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ