Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মায়েদের পা ধুয়ে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করলো শিশুরা

শেয়ার করুন

আব্দুল্লাহ আল নোমানঃ জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা বাড়াতে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলে বৃহস্পতিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী বিশ্ব ভালবাসা দিবস পালন করা হয়েছে। শতাধিক শিশু সন্তান তাদের মায়ের পা পানি দিয়ে ধুয়ে দেয়। হাতেখড়ি প্রি-পাইমারী স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করে। এতে মায়ের প্রতি সন্তানের ভালবাসা আরো গভীর হবে মলে মনে করছেন অনেকেই।
সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের এসপি পার্কে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেনÑ টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম। টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেনÑ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সেলিম আহমদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আহাদুজ্জামান মিয়া, জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার কাজী গোলাম আহাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেনÑ হাতে খড়ি প্রি প্রাইমারী স্কুলের চেয়ারম্যান নওশাদ রানা সানভি।

পশ্চিমা দেশগুলো অনেক আগে থেকেই পালন করছে বিশ্ব ভালবাসা দিবস। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা ও স্বামী-স্ত্রীরা এ দিবসটি পালন করে। গতকয়েক বছর ধরে বাংলাদেশেও এ দিবস পালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ভালবাসা তো শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। এ ভাবনা থেকেই আজ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের হাতেখড়ি প্রি-পাইমারী স্কুল কর্তৃপক্ষ তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করে ব্যতিক্রমী এক বিশ্ব ভালবাসা দিবদের। মায়েদের সম্মানে ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হলো বিশ্ব ভালবাসা দিবস। শুরুতে মায়েদের পা ধুয়ে দেন শিশুরা। ভালবাসা দিবসের এ আয়োজনে শিশু সন্তানরা তাদের জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে। শতাধিক শিশু সন্তান তাদের মায়েদের পা সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে পরিস্কার করে দেয় এবং মাকে সালাম করে তাদের দোয়া আশির্বাদ কামনা করে। সন্তানের কাছ থেকে এ ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা পেয়ে আবেগে আপ্লুত হন মা ও বাবারা। পরে মায়ের জন্য ভালবাসা স্লোগান দিয়ে শিশুরা তাদের মায়েদের গলায় মেডেল পরিয়ে দেন। তাদের দাবি এ ধরনের আয়োজন সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার।

অভিভাবক শারমিনা আক্তার সুমি, রচনা ও একতা খান বলেন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এই ধরনের আয়োজন আমারদের খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে যখন আমাদের সন্তানেরা আমাদের পানি দিয়ে পা দুয়ে দেয়। এ ধরনের উদ্যোগ যাতে প্রতিবছরই করা হয় এটি আমরা দাবি করছি। এতে সন্তানদের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোভাসা আরো গভীর প্রকাশ পাবে।

শিশু শিক্ষার্থী রিয়া ও অমিত খান বলে, আজ আমরা মায়ের পা দুয়ে দিয়েছি। এতে আমরা খুব খুশি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল হাতে খড়ি প্রি প্রাইমারী স্কুলের চেয়ারম্যান নওশাদ রানা সানভি বলেন, মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশে শিশুদের নিয়ে এ ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্কুলের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী তাদের মায়েদের পা ধুয়ে দেয়া এ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেছে । এ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে শিশুদের মধ্যে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা আরো বিকশিত হবে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, নিজের রক্ত দিয়ে মা তার সন্তানকে জন্ম দেয়। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরে তাকে অতি যত্মে ও আদর ¯েœহে তাকে বড় করে তুলে। তাই পৃথিবীতে মা ও সন্তানের ভালবাসার সমতুল্য অন্য কারো ভালবাসা হতে পারে না।

সন্তানের হাতে পিতা-মাতা, পিতা-মাতার হাতে সন্তান নির্যাতন একটি সামাজিক ব্যাধীতে পরিনত হয়েছে। ভালবাসা প্রকাশের এ ধরনের আয়োজন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া গেলে মা-বাবার প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা আরো অটুট হবে, এমনটাই মনে করছেন সকলেই।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ