মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষক সমাজের ইশতেহার প্রকাশ

শেয়ার করুন

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (১২সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাউজ্ঞে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্যানেলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন। ইশতেহারের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান সংগঠনটির নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম।

শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ, মক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ প্যানেলের পক্ষ থেকে সভাপতি পদে ড. এ.এস.এম সাইফুল্লাহ, সহ-সভাপতি পদে ড. মীর মোজাম্মেল হক, সাধারন সম্পাদক পদে ড. পিণাকী দে, কোষাধ্যক্ষ পদে ড. মোঃ মাসুদার রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক পদে মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক পদে ড. মোঃ খাইরুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সুব্রত সাহা, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ড. মোঃ নুরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে শারমিন আক্তার, নির্বাহী সদস্য পদে মোঃ সাহেদ মাহমুদ, ড. মোঃ আবু রাশেদ, মোঃ আরঙ্গজেব আকন্দ, মোঃ বিনইয়ামিন, সুমনা শারমিন ও মোঃ আশরাফুল আলম অংশগ্রহণ করছেন।

সংগঠনটি তাদের ইশতেহারে অঙ্গীকার করে বলেন, ১. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়ন/পদোন্নতির অভিন্ন নীতিমালা প্রত্যাখ্যান করে বৈষম্যহীন নীতিমালা প্রণয়ন ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ। ২. পদোন্নতি/পদোন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর নির্দিষ্ট প্রাপ্যতার তারিখ থেকে পদোন্নয়ন প্রদানের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সে মতে আর্থিক সুযোগ-সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিতকরণ। ৩. শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত উন্নতির লক্ষ্যে সহায়ক শিক্ষাছুটি নীতিমালা প্রণয়ন ও সংস্কারের উদ্যোগ এবং এমএস/এমফিল/পিএইচডি কোর্স সম্পন্ন করার জন্য ৬ বছর সবেতনসহ ১ বছর অর্ধগড় বেতন ও কমপক্ষে ২ বছর বিনা বেতনে শিক্ষাছুটি মঞ্জুরের ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ। ৪. বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে খ-কালীন শিক্ষকতা, গবেষণা, কনসালটেন্সির বিষয়ে শিক্ষকবৃন্দের সর্বাধিক সুযোগ-সুবিধা রেখে চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়নে উদ্যোগ গ্রহণ। ৫. শিক্ষকদের পেশাগত স্বার্থ, স্বাধীনতা ও ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণে উদ্যোগ গ্রহণ। ৬. প্রশাসনিক দায়িত্ব সুষম বণ্টনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ। ৭. শিক্ষক বান্ধব সার্ভিস রুল প্রণয়নে যথাযথ ভূমিকা পালন। ৮. ক্যাফেটেরিয়া ও শিক্ষক লাউঞ্জ-এর সুযোগ-সুবিধাসমূহ যেমনÑ এসি সংযোজন, নাস্তা ও বিনোদন উপকরণ বৃদ্ধি এবং শিক্ষক ক্লাব গঠনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। ৯. শিক্ষা ও গবেষণার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে উন্নতমানের কেন্দ্রীয় গবেষণাগার স্থাপন এবং শিক্ষকবৃন্দের মাসিক গবেষণা ভাতা আগামী ১ বছরে যৌক্তিকহারে বৃদ্ধিকরণ এবং পরবর্তীতে উক্ত ধারা অব্যাহত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। ১০. কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শিক্ষকবৃন্দের জন্য আলাদা পাঠকক্ষ স্থাপন এবং ই-জার্নাল ও ই-বুকের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ। ১১. গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধিকরণ, বই ভাতা বৃদ্ধি আগামী ১ বছরে যৌক্তিকহারে বৃদ্ধিকরণ এবং প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে শিক্ষকবৃন্দের গবেষণা ও গ্রন্থ প্রকাশের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সেরা গবেষকদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ গ্রহণ। ১২. মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে রোগ নির্ণয়ের সুযোগ সৃষ্টি, নূন্যতম সেবার মানের জন্য ১০টি বেড স্থাপন, অ্যাম্বুলেন্সের সার্বক্ষণিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ, সেবার মান বৃদ্ধি ও শিক্ষকদের জন্য সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে ফ্রি মেডিকেল চেকআপ-এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা উদ্যোগ গ্রহণ। ১৩. শিক্ষকদের আবাসনসহ ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক সোসাইটি গঠন এবং শিক্ষকদের আবাসনের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ও সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কর্পোরেট লোনের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ। ১৪. ক্যাম্পাসে ‘শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র (ডে কেয়ার)’ স্থাপন ও বাচ্চাদের লালন-পালনে সুবিধাদি নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ গ্রহণ। ১৫. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষক ফেডারেশন/ফোরাম/অঙ্গসংগঠনের সাথে সংযুক্ত থেকে শিক্ষকবৃন্দের মানোন্নয়নে যাবতীয় বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন। ১৬. শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে বনভোজন, খেলাধুলার আয়োজন, বার্ষিক ডিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ। ১৬. প্রচলিত পরিবহন নীতিমালা এবং পরবর্তীতে সংস্কারের প্রেক্ষিতে সকল শিক্ষকের ন্যায্যতার ভিত্তিতে শিক্ষকবৃন্দের অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি ব্যবহারের পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি এবং অফিস দিনগুলোতে পরিবহন ট্রিপের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বন্ধের দিনে নতুন ট্রিপ চালুকরণ এবং শিক্ষকবৃন্দের সন্তানদের আনা নেওয়ার জন্য পরিবহনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ গ্রহণ। ১৮. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন যেমনÑ আলোচনা অনুষ্ঠান, ডকুমেন্টারি ও সিনেমা প্রদর্শন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণারের উন্নয়ন, এবং ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ পদ সৃষ্টি করে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও গবেষকদের নিয়োগের বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ। ১৯. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কনফারেন্স, ওয়ার্কসপ ও উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রচলিত সুবিধার বাইরে অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ। ২০. শিক্ষকবৃন্দের নিরাপত্তা ও মান মর্যাদা অটুট এবং শিক্ষক সমাজের উপর যেকোনো অসৌজন্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ন্যায় বিচার নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ গ্রহণ।

ইশতেহার ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির নাম করনের স্বার্থকতা সম্পর্কে সভাপতি প্রার্থী ড. এ.এস.এম সাইফুল্লাহ বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদ কথাটি আসছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের আগ থেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যূত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করি। যা পরবর্তীতে ৭২ এর সংবিধানে উল্লেখ করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শ ছিল প্রগতি অর্থ উন্নয়ন। উন্নয়ন বলতে জাতি, দেশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এর উন্নয়ন। এ জন্য বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে ১৫ টি পদের বিপরীতে ৩ টি প্যানেল থেকে ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ