মাভাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে শাহীন-আনোয়ার প্যানেলের ইশতেহার প্রকাশ

শেয়ার করুন

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে শাহীন-আনোয়ার প্যানেলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (১২সেপ্টেম্বর) সকালে সভাপতি প্রার্থী ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন তার বিভাগীয় কক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্যানেলের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন।

শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে শাহীন-আনোয়ার প্যানেলের পক্ষ থেকে সভাপতি পদে ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন, সহ-সভাপতি পদে আবু সাঈম মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক পদে ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক পদে মোঃ নাজমুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক পদে মুহাম্মদ আব্দুল কাদের মিয়া, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে কাউছার আহমেদ, সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে রুখসানা সিদ্দীকা, নির্বাহী সদস্য পদে মাহমুদা আক্তার ও খান মোঃ মূর্তজা রেজা লিংকন অংশগ্রহণ করছেন।

শাহীন-আনোয়ার প্যানেলের পক্ষ নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ্য করে বলেন, ১.মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত জাতি গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। ২. বিশ^বিদ্যালয়ের মান: পাঠদান ও গবেষণার সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ বিশ^বিদ্যালয়কে বিশ^মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রাণবন্তভাবে এ পরিষদ কাজ করবে। ৩. সম্প্রীতি, সাম্য ও একতা: নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল স্তরে সম্প্রীতি, সাম্য ও একতা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষকগণের সম্মান ও মর্যাদা সংরক্ষণ রক্ষা করাই হবে পরিষদের অন্যতম লক্ষ্য। ৪. প্রমোশন ও আপগ্রেডেশন: এই পরিষদ ইউজিসি কর্তৃক গৃহীত অযৌক্তিক সমন্বিত নীতিমালা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে শিক্ষকদের সাবলীল পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এছাড়াও শিক্ষক পরিষদ প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনে শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ৫. ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব ও সম্মানী: যৌক্তিকতার ভিত্তিতে ও বৈষম্যহীনভাবে ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব ও সম্মানী বণ্টনের বিষয়ে পরিষদ পূর্বের ন্যায় সচেষ্ট থাকবে। ৬. প্রশাসনিক পদের বিকেন্দ্রীকরণ: প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির একাধিক পদ গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থবির এবং ধীরগতি স¤পন্ন করার বিপক্ষে পরিষদ আরও শক্ত অবস্থান গ্রহণ করবে। সকল প্রশাসনিক দায়িত্বের বণ্টন একটি সার্বজনীন ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় স¤পন্ন হচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে পরিষদ সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখবে। ৭. আবাসন ও পরিবহন সমস্যার সমাধান: শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে শিক্ষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় সমষ্টিগত অথবা গুচ্ছ প্রক্রিয়ায় ঢাকাস্থ অথবা অন্য কোন স্থানে আবাসনের উদ্যোগ জোরদার করবে। বিদ্যমান শিক্ষক-ডরমিটরি ও আবাসিক প্রকল্পসমূহে স্বেচ্ছাচারী (অৎনরঃৎধৎু) বরাদ্দের পরিবর্তে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য পন্থায় বরাদ্দ প্রদান করার ব্যাপারে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করবে। শিক্ষকগণের নৈমিত্তিক যাতায়াতের জন্য পরিবহন সেবা আরও সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে সদা সচেষ্ট থাকবে এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল পরিবহন সুবিধা চালু করার বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে। ৮. শিক্ষাছুটিজনিত জটিলতা নিরসন: বিগত বছরগুলোতে ছুটি গ্রহণের ব্যাপারে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের যোগসূত্র প্রতিফলিত হয়, যা দুর্ভাগ্যজনক। এই পরিষদ সকল শিক্ষকের জন্য নির্বিঘœ শিক্ষাছুটি নিশ্চিতকল্পে সমঅধিকারের ভিত্তিতে বিষয়টির সুরাহা করতে সচেষ্ট থাকবে। ৯. শিক্ষার মান উন্নয়ন: ছাত্র-শিক্ষক স¤পর্ক উন্নয়ন ও গবেষণার পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণে পরিষদ সদা সচেষ্ট থাকবে। বিভিন্ন অনলাইন জার্নালের অ্যাক্সেস/সাবস্ক্রিপশন গ্রহণ, পত্র-পত্রিকা, গবেষণাপত্র ও সাময়িকীর সংখ্যা বর্ধিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। ১০. চিত্তবিনোদনের লক্ষ্যে বনভোজন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন: শিক্ষকবৃন্দের পারিবারিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে পার¯পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বছরে ন্যূনতম একটি বনভোজনের আয়োজন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন বিশেষ দিনগুলোতে নির্মল বিনোদনের উদ্দেশ্যে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যা পরিষদের একটি অন্যতম অঙ্গীকার। ১১. অন্যান্য যৌক্তিক সুবিধার সম্প্রসারণ: শিক্ষকগণ তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে ২৪/৭ (সর্বদা) যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এ কারণে দেশের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীত শিক্ষকদের টেলিফোন বা মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য মাসিক নির্ধারিত হারে টেলিফোন/মোবাইল ভাতা প্রদান করা হলেও আমাদের মাভাবিপ্রবিতে তা নেই। এ ক্ষেত্রে পরিষদ উক্ত ভাতা প্রবর্তনের জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এছাড়াও শিক্ষকগণের জন্য নিম্নলিখিত সুবিধাদি প্রদানের লক্ষ্যে পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, ১. প্রত্যেক বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ। ২. শিক্ষকদের দেশে এবং বিদেশে সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কসপে অংশগ্রহণের জন্য যৌক্তিক ভাতা প্রদানের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করা। ৩.ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক উন্নয়নে ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা পদায়নের উদ্যোগকে বেগবান করা। ৪. সকল অফিস প্রধান পদে শিক্ষকদের পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ৫. মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রীধারীদের স্থগিতকৃত ইনক্রিমেন্ট পুনঃবহাল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ৬. শিক্ষকগণের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকরণ ও আত্তীকরণ এবং গুণগতমান বৃদ্ধিকরণ। ৭. অবসর বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ ও চাকরি বিধিমালা চূড়ান্তকরণে আরও গুরুত্ব দেওয়া। ৮. শিক্ষকদের সন্তানদের জন্য মানসম্মত ডে-কেয়ার ব্যবস্থার উদ্যোগকে বাস্তবরূপ দান করা। ৯. আমাদের প্রচেষ্টায় শিক্ষকদের জন্য প্রবর্তিত গবেষণা ভাতা বৃদ্ধিকরণ ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা। ১০. সার্বক্ষণিক দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিতকরণে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আরও উদ্যোগী করা। ১১. পারিতোষিক, আনুতোষিক ও সম্মানী ভাতাসমূহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তুলনা করে যৌক্তিকভাবে পুনঃনির্ধারণকরণ। ১২.শিক্ষকদের জীবন বীমা (খরভব ওহংঁৎধহপব), স্বাস্থ্যবীমা (ঐবধষঃয ওহংঁৎধহপব) সুবিধা নিশ্চিতকরণ।

উল্লেখ্য, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে ১৫ টি পদের বিপরীতে ৩ টি প্যানেল থেকে ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ