মহাসড়কে এক ডাব ১২০ টাকা ॥ নিলে নেন, না নিলে না নেন

শেয়ার করুন

কাজল আর্য ॥
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক। ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৩ জেলার যানবাহন এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। অর্থনৈতিক ও ভৌগলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ঈদের যাত্রায় যানজট এবং হাজারো মানুষের চরম ভোগান্তি স্বাভাবিক বিয়ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহাসড়কের যানজটের সুবিধা নিয়ে এক শ্রেণীর লোভী মানুষ করছেন অমানবিক ব্যবসা। প্রচন্ড গরম ও জ্যামে আটকে পড়ে যাত্রীদের দম যখন যায়-আসে, তখন ওই লোভীদের খুশির বাহার। তারা পিপাসার্ত মানুষের নিকট একটি ডাব ১০০-১২০ টাকা এবং এক গ্লাস ট্যাংক ১০-২০ টাকায় বিক্রি করছেন। যাত্রীরা জীবন বাঁচাতে টাকার দিকে না তাকিয়ে লুফে নিচ্ছেন। ঠান্ডা পানীয় বিক্রিকারী অনেক হকারও এই ধরনের সুযোগ নিচ্ছেন। আবার যাদের বাড়ি মহাসড়কের পাশে তারা পলিথিন দিয়ে ভ্রাম্যমান দোকান বানিয়ে যানজটে আটকে পড়া মানুষের নিকট চড়া দামে বিক্রি করছেন বিভিন্ন পন্য।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুরে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সাইকেলে ডাব বিক্রি করছেন। মহাসড়কে তপ্ত গরমে চলমান এক ক্লান্ত মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে প্রতিটি ডাবের দাম চাচ্ছেন ১২০ টাকা। তিনি কিছু কম নিতে বললে ডাব বিক্রেতা বলেন- এই দামে ডাব নিলে নেন, না নিলে না নেন। পরে খবর নিয়ে জানা যায়, ডাব বিক্রেতার বাড়ি মহাসড়ক সংলগ্ন মহেলা এলাকায়।
আরেকটু এগিয়ে দেখা যায়, দুই শিশু ঠান্ডা পানীয় ও হাড়ির মধ্যে বানানো ট্যাং নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি গ্লাস ট্যাং ১০-২০ টাকায় বিক্রি করছে। আবার সিরিয়াল দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। ঈদে ঘরমুখো একাধিক যাত্রী টিনিউজকে বলেন, বাসে ভাড়া বেশি, রাস্তায় যানজটে জীবন শেষ। আবার সুযোগ বুঝে পথে ২ টাকার জিনিস ১০ টাকায় বিক্রি করছে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বড়রাও। এগুলো দেখার কেউ আছে কি?
এসব বিষয়ে বিশিষ্ট কবি ও টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সম্পাদক মাহমুদ কামাল টিনিউজকে বলেন, এক সময় বাঙালির হৃদয় ছিল কাঁদা মাটির মতো। তারা একে অপরের বিপদে নিজেকে ভুলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতো। আজ মানুষের মধ্যে মানবিকতা হারিয়ে যাচ্ছে, সমাজে পচন ধরে গেছে। যানজটে ভোগান্তির শিকার মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে ওদের ব্যবসা করা তারই উদাহরণ। এ মানসিকতার পরিবর্তনও লক্ষ্য করছি না।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ