Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মধুপুর-ধনবাড়ী আসনে আওয়ামী লীগে রাজ্জাক বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী

শেয়ার করুন

আব্দুল্লাহ আবু এহসান ॥
মধুপুরের শালবন, ধনবাড়ীর জমিদারবাড়ী, আদিবাসীদের নানা সংস্কৃতি আর রাণী ভবানীর স্মৃতি বিজড়িত লাল ও এঁটেল মাটির অঞ্চল মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে এ আসন গঠিত। টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তৃণমূলের নেতাকর্মী ও ভোটারদের মাঝে এসব সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, চায়ের দোকান কিংবা যে কোন জনবহুল স্থানে আলোচনা একটাই আওয়ামী লীগ-বিএনপি কাকে মনোনয়ন দিচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলে। অংশগ্রহণ করছেন বিভিন্ন সভা সেমিনারে।
ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলার সীমান্তবর্তী টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনটি রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলির অন্যতম সদস্য সাবেক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপির বাড়ী ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি গ্রামে। রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে নানা কারণে প্রভাবশালী সিদ্দিক ও খান পরিবার কোনঠাসা হয়ে পড়ায় এখন টাঙ্গাইল জেলার রাজনীতি মূলত ধনবাড়ীর বাসিন্দা আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকই দেখভাল করেন। কাজেই নানা দিক দিয়েই এ আসনের গুরুত্ব জেলায় অনেক বেশি।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই যারা পোষ্টার, ফেসটুন, বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগিয়ে মধুপুর ও ধনবাড়ী বাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিভিন্নভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীতা জানান দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগ থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, বিএনপি থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ আসন থেকে বার বার প্রতিদ্বন্ধিতাকারী প্রার্থী ফকির আহবুব আনাম স্বপন, ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক খালেদা জিয়ার আইনজীবি এডভোকেট মোহাম্মদ আলী, মধুপুর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌরসভার মেয়র সরকার সহিদুল ইসলাম সরকার সহিদ। জাতীয় পার্টি থেকে বিভিন্ন জনের নামশুনা গেলেও তাদের তৎপরতা নেই বললেই চলে।
রাজনৈতিক তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এ আসনে আওয়ামী লীগ ৬ বার বিজয়ী হয়। বাকি ৪ বার বিএনপিসহ অন্যান্য দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন জাসদের আব্দুস সাত্তার, ৭৯ সালে বিএনপির সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী, ৮৬ সালে আওয়ামী লীগের ডা. শেখ নিজামুল ইসলাম, ৮৮ সালে জাপার খন্দকার আনোয়ারুল হক, ৯১ সালে আওয়ামী লীগের আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার, ৯৬ সালে ১৫ ফেব্রেুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপির ব্যারিষ্টার আব্দুস সালাম তালুকদার, ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার এবং ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি নির্বাচিত হন। পরিসংখানে এ আসনে আওয়ামী লীগ এগিয়ে এবং এখানে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। যে কারণে এ আসনে আওয়ামী লীগের বিজয়ী হওয়া খুব সহজ। তবে আওয়ামী লীগের দুর্গখ্যাত এ আসনটি দখলে নিতে বিএনপি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌরসভার মেয়র খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন টিনিউজকে বলেন, যে যাই বলুক না কেন এ আসনে ড. আব্দুর রাজ্জাকের কোন বিকল্প নাই। তিনি একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনীতিবিদ। এবারও মনোনয়ন তিনিই পাবেন এবং আল্লাহর রহমতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনিই বিজয়ী হবেন। কেননা তার নেতৃত্বে মধুপুর-ধনবাড়ীতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মীর ফারুক আহমাদ ফরিদ টিনিউজকে বলেন, এ আসনে বর্তমান এমপি ড. রাজ্জাকের কোন বিকল্প নাই। তিনিই মনোনয়ন পাবেন এবং বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।
বর্তমান এমপি সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক টিনিউজকে বলেন, বিগত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমার নির্বাচনী এলাকা ধনবাড়ী ও মধুপুরে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। ধনবাড়ীতে মডেল উপজেলা ভবন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল, থানা ভবন, ফায়ার সার্ভিস, পশু হাসপাতাল, মধুপুরে ৭২ হাজার মে:টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন অত্যাধুনিক সাইলো নির্মাণ, মধুপুর অডিটরিয়ামসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। ধনবাড়ী ও মধুপুর উপজেলার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া হচ্ছে। দোয়া করবেন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রায় সকল কাজই সম্পন্ন করেছি। কাজেই এলকার জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে আবারও নির্বাচিত করলে সৎ ও নিরপেক্ষ থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাব।
এদিকে বিএনপি থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ আসন থেকে বার বার প্রতিদ্বন্ধিতাকারী প্রার্থী ফকির আহবুব আনাম স্বপন, ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক খালেদা জিয়ার আইনজীবি এডভোকেট মোহাম্মদ আলী, মধুপুর উপজেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌরসভার মেয়র সরকার সহিদুল ইসলাম সরকার সহিদ মনোনয়ন পেতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ আসনের নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে মূলত প্রতিদ্বন্ধিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। তবে আওয়ামী লীগের পাল্লাই ভারী।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমা সুলতানা টিনিউজকে জানান, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৮০ জন । এর মধ্যে মধুপুরে ২ লাখ ১৫ হাজার ৯১৫ জন এবং ধনবাড়ীতে এক লাখ ৪০ হাজার ৭৬৫ জন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ