মধুপুর-ধনবাড়ীতে বিএনপির কোন্দল প্রকাশ্য ॥ কোন পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই

শেয়ার করুন

মধুপুর সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপি তার অঙ্গসংগঠনের কোনোটিতেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রমও উল্লেখ করার মতো নয়। এর মধ্যে দলীয় কোন্দলে যেন তাল-মাতাল দলটির উপজেলা শাখা দুটি। মূল ও প্রতিটি অঙ্গসংগঠনে কোন্দল ও গ্রুপিংয়ের রাজনীতি এখন তুঙ্গে।
মধুপুর উপজেলা এবং পৌর কমিটির শুধু সভাপতি ও সম্পাদক পদের চার জনের নাম ঘোষণার দুই বছর কেটে গেছে। কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। স্থানীয় নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের বাকি সবার পরিচয় ‘সাবেক নেতা’ হিসেবে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ছাত্রদল চলছে আহ্বায়ক কমিটিতে। বিগত ৮ বছর আগে আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ হয়নি যুবদল। অপর উপজেলা ধনবাড়ীতে মূল দল বিএনপিসহ সব সহযোগী সংগঠন জড়িয়ে পড়ছে অন্তর্দ্বন্দ্বে। শুধু মূল দলের উপজেলা ও পৌরতে আহ্বায়ক কমিটি হয়েছে বিগত ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বরে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি তো দূরের কথা প্রায় ৪ বছরে কোনো সভাই হয়নি ওই দুই কমিটির।
বিগত ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর সম্মেলন করে মধুপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি করা হয়। উপজেলা কমিটিতে সভাপতি ও সম্পাদক পদে যথাক্রমে জাকির হোসেন সরকার ও আওয়ামী লীগ থেকে বিগত ২০০৪ সালে যোগদান করা সাবেক পৌরসভার মেয়র সরকার সহিদ এবং পৌর কমিটিতে সাইফ উদ্দিন মামুন ও সাবেক ছাত্রনেতা খন্দকার মোতালেব হোসেন নির্বাচিত হন। ওই দুই কমিটিতে আর কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে দুই কমিটিতে আছেন শুধু তারাই চারজন। দলের কর্মসূচিতে বাকি সবাই ‘সাবেক বিএনপি নেতা’ হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন। এ নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন নেতারা। তার মধ্যে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে গ্রুপিং।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা টিনিউজকে জানিয়েছেন, চলতি বছরের গত (২৪ এপ্রিল) মধুপুরে এক কর্মী সভায় সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন কেন্দ্রীয় নেতা স্বপন ফকির। তার এ আচরণে সাধারণ সম্পাদক সরকার সহিদ সভা থেকে বের হয়ে আসেন। সঙ্গে তার পক্ষের নেতাকর্মীদের বিরাট অংশ সভা ত্যাগ করেন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সভাপতি ও সম্পাদক গ্রুপ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। এরপর থেকে দলীয় কর্মসূচি তারা আলাদা ও ভিন্ন স্থানে পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদক সরকার সহিদ করছেন তার মালিকানাধীন ভবন বিএনপি উপজেলা কার্যালয়ে। সভাপতি জাকির সরকারের গ্রুপ দলীয় কাজ করছেন পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোতালেব খন্দকারের পৌর শহরের চাড়ালজানির নিজস্ব চেম্বারে। এটি তারা দেখাচ্ছেন দলের অস্থায়ী কার্যালয়। গ্রুপিং প্রকাশ্যে আসার পর সংসদীয় এ আসনে প্রার্থী হিসেবে সরকার সহিদ মাঠে নামেন। চষে বেড়াতে থাকেন দুই উপজেলার গ্রামগুলো। তার সঙ্গে ইতিমধ্যে অপর কেন্দ্রীয় নেতা এ আসনের সম্ভাব্য অপর এমপি প্রার্থী সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী ঐক্য গড়েছেন।
অন্যদিকে বিগত ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর কমিটি ভেঙে ধনবাড়ী উপজেলা ও পৌর বিএনপির এক তরফা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণায় বাদ পড়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতারা। বিতর্কিত, নতুন ও অন্যদল থেকে আসা নেতাকর্মীদের নিয়ে দলের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে- অভিযোগ বঞ্চিতদের। এ নিয়ে দলের ভেতরে বাইরে থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছে মান অভিমান। বিগত ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে দলীয় প্রার্থী হয়ে শিল্পপতি ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের এ অঞ্চলে রাজনীতিতে অভিষেক। কেন্দ্রে কার্যনির্বাহী সদস্য পদ লাভ করে মধুপুর-ধনবাড়ী অঞ্চলের বিএনপির অভিভাবক হয়ে একাধিকবার বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন তিনি। বিগত ২০০৬ সালে ধনবাড়ী আলাদা উপজেলা ঘোষণার পর বিগত ২০০৭ সাল থেকে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির দায়িত্ব নেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির এ নেতা। দায়িত্ব নেয়ার পর পরই তিনি সাবেক সভাপতি অধ্যাপক রেজাউল হকসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। এ ঘটনায় দলে বিভক্তির সূত্রপাত।
বিগত ২০১৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর আবারও ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা দলের নমিনি স্বপন ফকির। তার কমিটিতে আর ৩০ জনের সবাই সদস্য। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ধনবাড়ী কলেজের সাবেক জিএস এসএম সোবাহান ও যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল মুন্সি। বিএনপিকে ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় নেতা ধনবাড়ী বিএনপির আহ্বায়ক ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। তিনি জানান, বিএনপিতে সুবিধাবাদীদের ঠাঁই নেই।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ