Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মধুপুরে স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা

শেয়ার করুন

মধুপুর সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুরে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১০ম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী। গণধর্ষণের এ ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে শালিসী বৈঠকে ৫ লাখ টাকা ও ৩০ শতাংশ জমির বিনিময়ে আপোষ রফার নামে আলামত নষ্ট করে মামলা করতে বিলম্ব করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মধুপুর থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার মহিষমারা গ্রামের সুনাগঞ্জ গারোবাজার পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া আসার পথে মাঝে মধ্যেই মহিষমারা (মন্ডলপাড়া) গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আরিফ হোসেন (২০), আয়েন উদ্দিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩০) ও মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২) উক্তত্য করতো ও কু-প্রস্তাব দিত। এতে ওই স্কুল ছাত্রী তাদের ওই নোংরা প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উল্লেখিত তিন বখাটে মেয়েটি ফুফুর বাড়ীতে যাওয়ার পথে মহিষমারা গ্রামের সিংহমারী চাওনা নামক স্থানে পৌছলে তাকে ঝাপটে ধরে আকাশমনি বাগানে নিয়ে উড়না দিয়ে মুখ বেঁধে জোরপূর্বক পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করে। গণধর্ষণের পর ওই স্কুল ছাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে যায়। গণধর্ষণের এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে গত (১৫ আগস্ট) সকালে। এ অবস্থায় কিছুক্ষণ পর গণধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীর জ্ঞান ফিরে এলে মুখের বাঁধন খুলে ডাক চিৎকার করতে থাকে। তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়ীতে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর বাবা মেয়ের কাছে ঘটনা শুনে মামলা করার উদ্যোগ নিলে প্রভাবশালী ধর্ষকদের প্ররোচনায় স্থানীয় মহিষমারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মুসলিম উদ্দিন ও স্থানীয় কতিপয় মাতাব্বর মিমাংসার নামে গড়িমসি করতে থাকে এবং ওই স্কুল ছাত্রীর বাবাকে মামলা না করতে হুমকী প্রদান করে।
ধর্ষিতার বাবা হাসমত আলী টিনিউজকে জানান, গত (২ সেপ্টেম্বর) বিচারের নামে ওই ওয়ার্ড মেম্বার মুসলিম উদ্দিনের বাড়ীতে যান। সেখানে মেম্বার ছাড়াও স্থানীয় মাতাব্বর মহিষমারা গ্রামের হায়দার আলী, হযরত আলী, হায়েত আলী, আব্দুল আজিজ, আইজ উদ্দিন, ইদ্রিস আলী ও আলতাব গংরা শালিসী বৈঠকে বসে। শালিসী বৈঠকে মাতাব্বরা গণধর্ষণের জরিমানা হিসেবে ৫ লাখ টাকা জড়িমানা এবং ৩০ শতাংশ জমির বিনিময়ে আপোষ রফার সিদ্ধান্ত দেন। এ সিদ্ধান্ত বাদি ও বিবাদি উভয়পক্ষ না মানায় শালিসী বৈঠক পন্ড হয়ে যায়।
অবশেষে মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) ধর্ষিতা ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় ৩ জনের নামে গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। গণধর্ষণের শিকার ওই স্কুল ছাত্রীকে মধুপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার (ওসি) সফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টিনিউজকে বলেন, গণধর্ষণের এ মামলাটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মামলার তদন্তের জন্য এসআই নজরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আসামী গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ