মধুপুরে ডা. জেসন ও মারিন্ডি দম্পতির চিকিৎসা সেবা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ডাক্তার এড্রিক বেকার। নিউজিল্যান্ডের এই মানবদরদি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তরে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা কালিয়াকুড়ি গ্রামে গড়ে তুলেছিলেন গরিবের জন্য হাসপাতাল। প্রায় ৩৬ বছর গ্রামের হতদরিদ্র মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেন তিনি। বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে ‘ডাক্তার ভাই’, ‘গরিবের ডাক্তার’ ‘হিসেবেই চিনত। বিগত ২০১৫ সালে তাঁর মৃত্যুর পর হাসপাতালটির দায়িত্ব নিয়েছেন আমেরিকান ডাক্তার দম্পতি জেসন ও মারিন্ডি।
বিটিভিতে প্রচারিত হানিফ সংকেতের ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে জেসন ও মারিন্ডিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারের পর সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল)। হতদরিদ্র মানুষের জন্য এড্রিক বেকারের হাসপাতালের হাল ধরে প্রশংসায় ভাসছেন তাঁরা। ডা. এড্রিক বেকার দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বিগত ২০১৫ সালে মারা যান। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে চাইলে তিনি যাননি। তিনি মৃত্যুর আগে চেয়েছিলেন, বাংলাদেশি কোনো চিকিৎসক গ্রামে এসে তাঁর প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের হাল ধরেন। কিন্তু দেশের একজন চিকিৎসকও তাতে সাড়া দেয়নি। সাড়া দিয়েছিলেন আমেরিকার ডা. জেসন ও ডা. মারিন্ডি।
মধুপুরের কালিয়াকুড়ি গ্রামের গরিবের হাসপাতালের ডা. জেসন বলেন, “ডা. এড্রিক বেকার বেঁচে থাকার সময় কালিয়াকুড়ির এই হাসপাতালটি পরিদর্শনে এসেছিলাম। পরে ডাক্তার ভাইয়ের (এড্রিক) মৃত্যুর খবর শুনি। কিন্তু তখন নিজের প্রশিক্ষণ ও ছেলে-মেয়েরা ছোট থাকার কারণে আসতে পারিনি। অবশেষে সব কিছু গুছিয়ে সম্পদ আর সুখের মোহ ত্যাগ করে বিগত ২০১৮ সালে পুরো পরিবার নিয়ে আমেরিকা ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে আসি টাঙ্গাইলের মধুপুরে। আর আমরা ‘নতুন ডাক্তার ভাই’ ও ‘মারিন্ডি দিদি’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠি।” জেসন আরো বলেন, ‘গ্রামের স্কুলে আমাদের সন্তানদের ভর্তি করে দিয়েছি। তারা গ্রামের শিশুদের সঙ্গে পড়ালেখা ও খেলাধুলা করে।’ ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশি ডাক্তারদের গ্রামে গিয়ে হতদরিদ্র মানুষের সেবার জন্য আহ্বানও জানান জেসন।
এলাকাবাসী জানায়, তাদের নতুন ডাক্তার ভাই (জেনস) অবসর সময়ে লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়ান। তিনি একটি মাটির ঘরে বসবাস করেন এবং সবার সঙ্গেই সহজে মেশেন। তাঁরা বাংলাদেশের ফল অনেক ভালোবাসেন, বাংলায় কথা বলতে পারেন। তাঁদের সন্তানদের বাংলা ভাষা শেখাচ্ছেন। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন।
এদিকে প্রতিবেদনটি ভাইরাল হওয়ার পর জেসন-মারিন্ডির প্রশংসা করছে সারা দেশের মানুষ। অনেকে বলছেন, সুদূর আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে এসে হতদরিদ্র মানুষের সেবা করে তাঁরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, ‘আমরা সুযোগ পেলেই গ্রাম থেকে শহরে ছুটি। শহর থেকে বিদেশ পাড়ি দিই। শিশু জন্মের পর থেকেই চিন্তা থাকে যত দ্রুত সন্তানদের আধুনিক মিডিয়াম ইংরেজি স্কুলে পড়াব। কিন্তু ডা. জেসন ও মারিন্ডি আমাদের এক বিশাল লজ্জায় ফেলে দিলেন।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ