মধুপুরে ঘুষ দিয়েও মিলছে না বিদ্যুত সংযোগ

শেয়ার করুন

আব্দুল্লাহ আবু এহসান, মধুপুর ॥
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন টাঙ্গাইলের মধুপুর জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে বিদ্যুত সংযোগ পেতে ঘুষ বাণিজ্য ও গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, সরকারের শতভাগ ফ্রি বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ঘুষ দিয়েও মিলছে না বিদ্যুত সংযোগ। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জোনাল অফিস মধুপুরের শোলাকুড়ি অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা আনোয়ার হোসেন নামের লাইন টেকনিশিয়ান (এলটি) এর বিরুদ্ধে আশপাশের ইউনিয়ন ও এলাকার গ্রাহক পর্যায়ে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক নারী সদস্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দুই মাস আগে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সুরাহায় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে না নেয়ায় বহাল তবিয়তে এলটি আনোয়ার তার ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিকার না পেয়ে পরবর্তীতে ইউপি সদস্য বিআরইবি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এমন স্লোগানের আড়ালে পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রাহকরা ঘুষ দিয়েও আশানুরূপ সেবা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরকারের বিনামূল্যের শতভাগ বিদ্যুত কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত দালালদের মধ্যস্থতায় টাকার বিনিময়ে সংযোগ নিতে হচ্ছে।
ফুলবাগচালা ইউনিয়নের বড়টাল গ্রামের হেলাল উদ্দিন টিনিউজকে জানান, তার আতœীয় হাফিজুরের নামে গত এক সপ্তাহ ধরে অভিযোগ কেন্দ্রে মিটার আনা হয়েছে। মিটার লাগানো বাবদ ৫’শ টাকা উৎকোচ না দেয়ায় সংযোগ ঝুঁলিয়ে রাখা হয়েছে। উজ্জল নামের অপর একজন টিনিউজকে জানান, মিটার সংযোগ দেয়ার সময় উৎকোচ হিসেবে ৫/৭শ’ টাকা নেয়া হয়। ফ্রি সংযোগ পেতে প্রতিটি মিটারে গ্রাহককে গুণতে হয় সব মিলিয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এতে সরকারের উদ্যোগ সফলতায় বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে। শোলাকুড়ি ইউনিয়নের বড়ইকুরি গ্রামের দুই সহোদর কবির, রতন, দীঘিরপাড়ের হুচি, আহমদ চকদার টাকা দিয়ে সংযোগ পাওয়ার জন্য ঘুরছেন। কিন্তু প্রতি মিটার সংযোগের জন্য আবারও দাবি করা ৫শ’ টাকা পরিশোধে রাজি না হওয়ায় তারা সংযোগ পাচ্ছে না। অভিযোগকারীরা টিনিউজকে আরও জানান, এলটি আনেয়ার হোসেন ঘুষ বাণিজ্যের দেখভাল করার জন্য সুরুজ্জামান ও ফরিদ আহম্মেদ নামের একজনকে বেতন দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে গোপনচুক্তি অনুযায়ী মিটার স্থাপন বাবদ ২৫ হাজার টাকার সব হাতে না পেয়ে এলাকার দুই শতাধিক মিটার আটকিয়ে রেখেছিলেন। অভিযোগ পেয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সম্প্রতি সংযোগের ব্যবস্থা করেন। জামগাইছা এলাকাবাসী টিনিউজকে জানান, সংযোগ দিতে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে ন্যূনতম ৬শ’ টাকা করে অতিরিক্ত নেয়া হয়েছে। এ রকম অসংখ্য অভিযোগ মিলেছে এলটি আনোয়ারের বিরুদ্ধে। সুরুজ্জামান, ফরিদ, রেহান ও মুক্তার নামের দালালরা এলটি আনোয়ারের এ অর্থ তোলার মাধ্যম। বড়টাল মোড়ের দোকানী সুলতান তার আরেক মধ্যস্থতাকারীর নাম। অভিযোগকারী ওই নারী সদস্য টিনিউজকে জানান, গত (১৯ আগস্ট) ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মুক্তাগাছা অফিসে অভিযোগ দিতে গেলে অফিস থেকে উল্টো তাকে মামলা দিয়ে পুলিশের ভয় দেখানো হয়। তবুও তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ সময়ে এর সুরাহা না হওয়ায় পরে তিনি বিআরইবি বরাবর আবেদন করেন।
এসব অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মকবুল হোসেন টিনিউজকে জানান, সরকারের শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় মধুপুরের দুই হাজার ৪শ’ কি.মি. এর আর মাত্র ১১ ভাগ বাকি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ হতে যাচ্ছে। এমন সময় ওই ইউপি সদস্যের সামান্য একটি কাজের জন্য দশ হাজার টাকার ঘুষ দেয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক। পুলিশের ভয় দেখানোর অভিযোগ বিষয়ে তিনি টিনিউজকে বলেন, এ নিয়ে মধুপুর জোনাল ম্যানেজার বিপ্লব চন্দ্র সরকারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মধুপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম বিপ্লব কুমার সরকার টিনিউজকে জানান, বিষয়টি জটিল। কোন সাক্ষ্য প্রমাণ মিলছে না। তবুও তদন্ত চলছে। দ্রুত রিপোর্ট দেয়া হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পল্লী বিদ্যুতের এলটি আনোয়ার হোসেন টিনিউজকে জানান, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে। তদন্তের আগে কিছু বলতে চাই না।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ