মধুপুরে খামারের বর্জ্যে ফসল ও পরিবেশ নষ্ট ॥ দুর্ভোগ চরমে

শেয়ার করুন

আব্দুল্লাহ আবু এহসান ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রভাবশালীদের পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যে আশপাশের আবাদী জমি নষ্ট হয়ে ফসল আবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। এতে করে জমির মালিকসহ এলাকাবাসী পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে নানা ধরনের রোগব্যাধিতে। এ নিয়ে প্রশাসনে ভুক্তভোগীরা একে একে দুইবার লিখিত অভিযোগ দিয়ে কোন সুরাহা তো পাননি। বরং উল্টো প্রভাবশালীদের মামলায় আসামী হয়েছেন এলাকার নিরীহ ১৪ ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের রানিয়াত ভাঙ্গাবাজার গ্রামে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, রানিয়াত ভাঙ্গাবাজার গ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের প্রভাবশালী দুই ছেলে শামসুল হক ও আবদুল লতিফ বাড়ির পাশে এক এক করে চারটি পোল্ট্রি ও লেয়ার মুরগির খামার গড়েছেন। খামারের ৫ সহ¯্রাধিক মুরগির ব্যবহার করা পানি, বিষ্ঠা, বর্জ্য নালার মাধ্যমে আশেপাশের ২০/২৫ বিঘা জমিতে প্রবেশ করে আবাদের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগি জমির মালিকরা তাদের জমিতে নানা চেষ্টা করেও কোন ফসল আবাদ করতে পারছেন না। সরেজমিনে গেলে খামারের আশপাশের জমির মালিক আবু হানিফ, তুলা মিয়া, ওয়াহেদ আলী, সেকান্দর, বারেক মিয়া, মাহা মিয়া, আবুল মিয়া ও কবজ আলীসহ স্থানীয়রা টিনিউজকে জানান, পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যে শুধু আশপাশের জমিই নষ্ট হচ্ছে না। দুর্গন্ধে এলাকায় টেকা দায়। বাজারে ব্যবসা বাণিজ্য ও মসজিদে নামাজ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঔষধ ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান সেন্টু টিনিউজকে জানান, মুরগির বর্জ্যরে গন্ধে এলাকা দুষিত হয়ে গেছে এবং এলাকার শিশুরা নানা রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় মসজিদের ইমাম মৌলভী মনিরুজ্জামান টিনিউজকে জানান, পোল্ট্রি খামারের গন্ধে নির্বিঘেœ নামাজ আদায়ে প্রতি ওয়াক্তে মুসুল্লিদের বিপাকে পড়তে হয়।
স্থানীয়রা টিনিউজকে আরও জানান, খামার মালিক শামসুল কারো কথা শুনেন না। তার বিরুদ্ধে কিছু বললে নানাভাবে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেন। বাড়ির পাশে মরা মুরগি, মুরগির বিষ্ঠা ফেলে দিয়ে সাধারণ জীবন যাপনে বিঘœ ঘটাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বরাবর গণস্বাক্ষর সম্বলিত এ বিষয় উল্লেখ করে পৃথক আবেদন করেছিলেন গত (২ জুলাই)। অথচ চার মাসেও কোন সুরাহা পাননি। উল্টো পোল্ট্রি খামার নিয়ে অভিযোগ করা ভুক্তভোগীরা খামার মালিক শামসুল হকের রোষানলে পড়েছেন। এলাকার ১৪ নিরীহ ব্যক্তিকে আসামী করে গত (১৫ সেপ্টেম্বর) আদালতে ফৌ.কা.বি. আইনের ১০৭/১১৭(গ) ধারায় মামলা ঠুকে দিয়েছেন শামসুল হক। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শামসুল হক টিনিউজকে জানান, তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। ১৪ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়েছে সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ তালুকদার দুলাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে টিনিউজকে জানান, এ ব্যাপারে মীমাংসার জন্য শালিসী বৈঠক ডাকা হলেও খামার মালিক শামছুল হক হাজির হননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসলিমা আহমেদ পলি লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে টিনিউজকে জানান, প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ফোন রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ