Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মধুপুরে করল্লা ক্ষেত কেটে সাবাড় ॥ ব্যাপক ক্ষতি

শেয়ার করুন

মধুপুর সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ৩২ শতাংশ জমির করল্লা ক্ষেত কেটে সাবাড় করেছে দূর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক আকতার হোসেন কালু এখন দিশেহারা।
জানা যায়, মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের কুড়াগাছা গ্রামের কৃষক মোহম্মদ আলীর ছেলে আকতার হোসেন কালু তার ভাইয়ের বাড়ির পালানে ৩২ শতাংশ জমিতে স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে দাদন ও ধার দেনা করে উচ্চ ফলনশীল জাতের করল্লা চাষ করেন। অতিযতেœ গড়ে তোলা করলা ক্ষেত গাছ মাঁচা ছেয়ে গেছে। থোকায় থোকায় করল্লা ধরেছে। হঠাৎ করে শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে কালু ঘুম থেকে উঠে ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পায় তার ৩২ শতাংশ জমির করল্লা গাছ কেটে সাবাড় করেছে। গাছগুলো মরা মরা। স্থানীয়রা এ খবর শুনে এসে দেখতে পায় গোরাসহ পুরো জমির গাছ তুলে ফেলেছে।
এ ব্যাপারে কৃষক আকতার হোসেন কালু টিনিউজকে জানায়, সে ধার দেনা ও দাদন নিয়ে গত কার্তিক মাস থেকে তার ৩২ শতাংশ জমিতে করল্লা চাষ করে যতœ করে আসছেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এ জমিতে কাজ করেন। গাছে করল্লা ধরেছে। বিক্রিও শুরু করেছে। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) ঘুম থেকে উঠে করল্লা ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পায় তার ৩২ শতাংশ জমির করল্লা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত চার দিন আগে একই গ্রামের টানপাহাড় এলাকার খলিল মিয়ার ছেলে আরশেদ আলী তাদের এলাকা থেকে করল্লা চুরি করলে স্থানীয়রা ধরে ফেলে। সেখানে গিয়ে চুরির অভিযোগে আরশেদ আলীকে আকতার হোসেন কালু মারধোর করে। কালুর ধারনা এ শত্রুতা থেকে আরশেদ আলী তার ক্ষেতের করল্লা গাছ কেটে দিতে পারে। এ পর্যন্ত তার করল্লা ক্ষেতের খরচ হয়েছে ২০/৩০ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত করল্লা বিক্রি করতে পারলে লক্ষাধিক টাকা হাতে পেতো বলে তার ধারণা। এখন এ কৃষক ধার দেনা ও ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কি দিয়ে পরিশোধ করবেন ঋণ। একই গ্রামের আব্দুস সালাম (৩৫), হাসমত আলী (৭৫) ও বিল্লাল হোসেন (৫০) টিনিউজকে জানায়, আমরা গিয়ে করল্লা ক্ষেত দেখেছি এভাবে মানুষ ক্ষতি করতে পারে ধারণা করা যায় না। ধরন্ত ফসল এভাবে নষ্ট করায় কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব তথ্য স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কুড়াগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফজলুল হক সরকার টিনিউজকে জানায়, আমি সরজমিনে করল্লা ক্ষেত দেখতে গিয়েছিলাম। ৩২ শতাংশ জমির পুরোটাই করল্লা গাছের গোরা টেনে তুলে ফেলেছে। এতে এ হতদরিদ্র কৃষকটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যেই এই ক্ষতিকর কাজটি করে থাক এটা ঘৃণিত ও ন্যাক্কারজনক। কৃষক ভালভাবে করল্লা বিক্রি করতে পারলে লক্ষাধিক টাকার মতো পেতো। সে এখন হতাশ হয়ে পড়েছে। এই কাজটি যেই করে থাক তার উচিত বিচার হওয়া দরকার।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ