Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

মধুপুরে অন্ত:সত্ত্বা গৃহবধূ ইতির মৃত্যু নিয়ে রহস্য

শেয়ার করুন

মধুপুর সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের মধুপুরে অনার্স পড়ুয়া নুরুন্নাহার ইতি (১৯) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন একে আতœহত্যা বললেও নিহতের পিতার পরিবার আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে নারাজ। তারা একে হত্যা বলছে। উপজেলার ভট্রবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরের দিকে তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মধুপুর উপজেলার ভট্রবাড়ী গ্রামের জলিলের স্ত্রী নুরুন্নাহার ইতি গোপালপুর সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ধনবাড়ী উপজেলার বলিভদ্র ইউনিয়নের বাগুয়া গ্রামের আব্দুল কদ্দুসের মেয়ে। স্বামীর বাড়ি থেকে তিনি কলেজে ক্লাস করতেন। নিহত ইতির কাকা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ ভুট্রো টিনিউজকে জানান, ছয় মাস আগে মধুপুরের ভট্রবাড়ীর মেছের আলীর ছেলে জলিলের সাথে ইতির বিয়ে হয়। এ সময় জলিলকে যৌতুক দেয়া হয়েছে। বিয়ের পর থেকে নানা বাহানায় আরও যৌতুক নেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয় জলিলের পরিবার। সর্বশেষ কিছুদিন আগে ব্যবসার কাজে আরও ১ লাখ টাকা দাবি নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। ভাতিজি তিন মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছিল দাবি করে আব্দুল হামিদ ভুট্রো টিনিউজকে আরও বলেন, জলিলের পরিবার ইতিকে হত্যা করে আতœহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করছে।
নিহত ইতির মা আছমা বেগমের অভিযোগ, ইতির স্বামী জলিল চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থানকালে জলিলের ছোট ভাই (দেবর) কলেজ পড়–য়া জুয়েল ইতিকে নানা আপত্তিকর ইঙ্গিত করে উত্ত্যক্ত করতো। এ নিয়ে উভয় পরিবারে অশান্তি হয়েছে। উল্টো নির্যাতনের শিকার হয়েছে ইতি। পারিবারিক শালিসও বসেছে একাধিকবার। সাম্প্রতিক এ বিষয় নিয়ে ইতি স্বামীর সাথে উদ্বেগের কথা জানায়। এতে জলিল ইতিকে ঢাকায় নিযে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) ইতির স্বামীর কাছে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। নিহত ইতির মা আছমা বেগম টিনিউজকে আরো বলেন, বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে ইতি তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোনে জানান। এর ঘন্টা খানিক পর জলিলের পরিবারের ফোনে মেয়ের আতœহত্যার খবর আসে। ইতির এমন মৃত্যু রহস্যজনক।
নিহতের ভাই হায়দার আলীর অভিযোগ, রাতেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির পাশে জাম গাছের নিচে ইতিকে শুইয়ে রাখতে দেখি। নিহতের পরিবারের সদস্যরা টিনিউজকে জানায়, ফাঁসি থেকে তারা ইতিকে নামিয়ে ওখানে শুইয়ে রেখেছে। তার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার (ওসি) সফিকুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ইউডি মামলা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ