ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ॥ শিক্ষকদের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিনেন্স বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের গ্রন্থাগার ও ক্যাফেটেরিয়ার সামনে অবস্থান নেয়। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। তারা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে যাবো।
এদিকে মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ছাত্রলীগ। এ সময় তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিনেন্স বাতিল, যৌন নিপীড়নকারী শিক্ষকের শাস্তি ও ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৫ নেতার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। দাবি না মানলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখবে বলেও ঘোষনা দেয়া হয় সাংবাদিক সম্মেলন থেকে।
এদিকে টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬ জন শিক্ষক সোমবার তাঁদের প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের দাবি মেনে নেয়ায় তাদের পদত্যাগ পত্র মঙ্গলবার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জানা যায়, টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ ৫ জনকে সাময়িক বহিস্থারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (৮ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা অফিসে রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকার শ্যামলীতে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াজোঁ অফিসে টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ ৫ জনকে সাময়িক বহিস্থারের সিদ্ধান্ত এবং তাদেরকে কেন স্থায়ী বহিস্থার করা হবে না এই মর্মে তাদেরকে নোটিশ জারি করা হবে। সভায় রিজেন্ট বোর্ডের ১৯ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বহিস্কৃত অন্যান্যরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইমরান মিয়া, আদ্রিতা পান্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল, ইয়াসির আরাফাত।
জানা যায়, গত রোববার (৭ অক্টোবর) পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অকৃতকার্য হওয়া এক ছাত্রীকে ছাত্রলীগের নেতারা জোর করে পরীক্ষা দেওয়ানোর সময় শিক্ষকেরা বাধা দেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন। এদিকে ওই ছাত্রী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। গত শনিবার উপাচার্যের কাছে দেয়া এক অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ফেল করিয়ে দেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গত রোববার উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষক ও ছাত্রলীগের নেতাদের নিয়ে সভা করা হয়। সভার একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতারা বের হয়ে এসে প্রতিটি হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে বিশ্ববিদ্যালয় অরডিন্যান্স (ক্লাস, পরীক্ষা, ফলাফল পদ্ধতি) পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করেন। গভীর রাত পর্যন্ত এ আন্দোলন চলতে থাকে।
এদিকে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পরে রোববার (৭ অক্টোবর) রাতেই সব শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পিনাকী দে বলেন, সোমবার বিকেলে রেজিস্ট্রারের কাছে ৫৬ জন শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, ৪ জন ডিন, ৪ জন প্রভোস্ট, ১৪ জন বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সব হাউস টিউটর ও সহকারী প্রক্টর রয়েছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ