Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৫ জনকে সাময়িক বহিস্কার

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ ৫ জনকে সাময়িক বহিস্থারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (৮ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা অফিসে রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সিরাজুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, ঢাকার শ্যামলীতে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াজোঁ অফিসে টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদারসহ ৫ জনকে সাময়িক বহিস্থারের সিদ্ধান্ত এবং তাদেরকে কেন স্থায়ী বহিস্থার করা হবে না এই মর্মে তাদেরকে নোটিশ জারি করা হবে। সভায় রিজেন্ট বোর্ডের ১৯ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বহিস্কৃত অন্যান্যরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইমরান মিয়া, আদ্রিতা পান্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল, ইয়াসির আরাফাত।
এদিকে টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে ৫৬ জন শিক্ষক সোমবার (৮ অক্টোবর) তাঁদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন।
জানা যায়, রোববার (৭ অক্টোবর) পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অকৃতকার্য হওয়া এক ছাত্রীকে ছাত্রলীগের নেতারা জোর করে পরীক্ষা দেওয়ানোর সময় শিক্ষকেরা বাধা দেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতারা শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন। এদিকে ওই ছাত্রী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। গত শনিবার (৬ অক্টোবর) উপাচার্যের কাছে দেয়া এক অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষকের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ফেল করিয়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় সোমবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে শিক্ষক সমিতি জরুরি সভা আহ্বান করে। সভায় ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব তালুকদার, সহসভাপতি ইমরান মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাবির ইকবাল, ইয়াসির আরাফাত ও সহসভাপতি আদ্রিতা পান্নার বিরুদ্ধে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। পরে উপাচার্যের কাছে তাঁদের লিখিতভাবে বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় রোববার (৭ অক্টোবর) উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষক ও ছাত্রলীগের নেতাদের নিয়ে সভা করা হয়। সভার একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতারা বের হয়ে এসে প্রতিটি হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে বিশ্ববিদ্যালয় অরডিন্যান্স (ক্লাস, পরীক্ষা, ফলাফল পদ্ধতি) পরিবর্তনের আন্দোলন শুরু করেন। গভীর রাত পর্যন্ত এ আন্দোলন চলতে থাকে।
এদিকে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের পরে রোববার (৭ অক্টোবর) রাতেই সব শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পিনাকী দে বলেন, সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরের দিকে রেজিস্ট্রারের কাছে ৫৬ জন শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন রিজেন্ট বোর্ড সদস্য, ৪ জন ডিন, ৪ জন প্রভোস্ট, ১৪ জন বিভাগীয় চেয়ারম্যান, সব হাউস টিউটর ও সহকারী প্রক্টর রয়েছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ