Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

বাসাইলে স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেখে মরতে চান স্ত্রী কল্পনা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
জীবন বাজি রেখে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে দেশ মাতৃকাকে স্বাধীন করেছেন। মুক্তিযোদ্ধার পুরস্কার হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে চাকুরী পেলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের হারুন অর রশিদ। জামালপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিগত ২০০৮ সালের (১৪ নভেম্বর) তিনি অসুস্থ্য হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত লাল বইয়ে নাম উঠানোর জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে অনেকবার আবেদন করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী কল্পনা সিদ্দিকী স্বামীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেখে মরতে চান।
জানা গেছে, ছাত্র থাকা অবস্থায় হারুন অর রশিদ খান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি কাদেরীয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের কাদেরীয়া বাহিনীতে যোগদান করেন। সখীপুরের বগারচালা প্রশিক্ষন ক্যাম্পে প্রশিক্ষন নেন। সেখানে প্রশিক্ষন নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১১নং কোম্পানী কমান্ডার আলী হোসেনের নেতৃত্বে বহেড়াতৈল, হাটবল্লা, বাসাইল ও কালিহাতীতে সম্মুখ সমরে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার সাদা মুক্তিবার্তা নং-০১১৮১০০৫০৭। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানী ও কোম্পানী কমান্ডার আলী হোসেনের স্বাক্ষরিত স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র রয়েছে। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ওই সনদপত্র দিয়ে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। চাকুরীকালীন অবস্থায় বিগত ২০০৫ সালে তিনি একবার মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। বিগত ২০০৮ সালে তিনি জামালপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত থাকা অবস্থায় অসুস্থ্য হয়ে মারা যান। তখন বাসাইল উপজেলা প্রশাসন তাকে গার্ড অব অর্নার প্রদান করেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। টাঙ্গাইলের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার দাফন কাফনের জন্য পাঁচ হাজার টাকাও অনুদান দেন।
এদিকে বিগত ২০০৫ সালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাদা মুক্তিবার্তা স্থগিত করে লাল মুক্তিবার্তায় নাম উঠিয়ে গেজেট প্রকাশ করার জন্য অনলাইনে আবেদন আহবান করে। হারুন অর রশিদ তখনও আবেদন করেছিলেন। কিন্তু লাল গেজেটে তার নাম উঠেনি। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী কল্পনা সিদ্দিকী স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। সবাই আশ্বাস দিলেও লাল মুক্তিবার্তায় তার নাম উঠেনি। গেজেটও তার নাম প্রকাশ হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে ঘুরে ঘুরে তিনি হয়রান হয়ে পড়েছেন। এদিকে তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে তিনি আর্থিক অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে নিদারুন কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
স্ত্রী কল্পনা সিদ্দিকী ক্ষোভ প্রকাশ করে টিনিউজকে বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে সবার কাছে ঘুরেছি। সবাই আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। উনি যদি মুক্তিযোদ্ধা না হবেন তাহলে তার মৃত্যুর পর রাষ্টীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হলো কেন। দাফন কাফনের জন্য সরকার থেকে পাঁচ হাজার টাকাও দেয়া হয়েছিল। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের অনৈতিক সুবিধা না দেওয়ায় আমার স্বামীর নাম লাল বইয়ে উঠেনি। যে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন তার প্রাপ্য সম্মানটুকুর স্বীকৃতির দাবি জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ।
বাসাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, হারুন অর রশিদ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তা অস্বীকার করার কিছু নেই। সাদা মুক্তিবার্তা স্থগিত করে যখন লাল বইয়ে নাম উঠিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হলো তখন সম্ভবত ওই নির্ধারিত সময়ে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হওয়ায় লাল বইয়ে তার নাম অন্তর্ভক্ত হয়নি।
এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন নাহার সপ্না টিনিউজকে বলেন, কি কারণে ওই মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেট ভুক্ত হয়নি তা বলতে পারছি না। তবে মুক্তিযোদ্ধার সকল দালিলিক প্রমানপত্র নিয়ে একমাত্র মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করে যাচাই বাছাইয়ে সঠিক প্রমানীত হলে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ