Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

বাসাইলে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ॥ নজর নেই প্রশাসনের

শেয়ার করুন

এনায়েত করিম বিজয়, বাসাইল ॥
টাঙ্গাইলের বাসাইলে চলছে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ নজর না থাকায় বালু খেকোরা বেপোরায়া হয়ে উঠেছে। অবশ্য মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসন হানা দিলেও বালু খেকোরা আইনের তোয়াক্কা না করে পূণরায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করেই যাচ্ছে। এ ঘটনায় ভূক্তভোগি ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা টিনিউজকে জানান, উপজেলার বংশাই নদীর মিরিকপুরের একটি মহল্লাতেই ৭টি ড্রেজার চলছে দেদারছে। এই মহল্লাতে উজ্জল, জামিল, রুবেল, সবুজ ও রাজিবের ৭টি ড্রেজার চলছে। পাশের এলাকা ইশ্চরগঞ্জ ও নাইকানীবাড়ি পয়েন্টে চলছে বেশকয়েকটি ড্রেজার। এদিকে উপজেলার ঝিনাই নদীর কাঞ্চনপুরের কাজিরাপাড়া এলাকায় জাকির গ্রুপের ড্রেজারের পাইপ উপজেলা প্রশাসন বারবার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলেও কোনভাবেই থামছে না তারা। সাময়িকীর জন্য বন্ধ রাখলেও দু-একদিনের মধ্যেই পূণরায় আবার বালু উত্তোলন চলছে। প্রশাসন বন্ধ করলেও পূণরায় চালু হওয়ায় ভূক্তভোগিরা ব্যাপক হতাশায় ভূগছেন। বালু উত্তোলনের ফলে ওই এলাকার কাজিরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের একটি অংশ ও পাকা সড়ক ছাড়াও আতোয়ার আলী মাস্টার, চাঁন মিয়া, ওয়াজেদ আলী খান, আমজাদ আলী, নয়েজ খান, শাহাদত, মাহফুজ, আজাহার, হালিম, মুনছের, জুয়েল হোসেনসহ ২০-২৫টি পরিবারের ভিটেবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ বিষয়ে ভূক্তভোগিরা বারবার ডিসি, ইউএনও ও এসিল্যান্ডের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানিয়েও কোন ফল পাচ্ছেন না ভূক্তভোগিরা।
কাজিরাপাড়ার ভূক্তভোগি আতাহার আলী মাস্টার টিনিউজকে বলেন, প্রতি বছর ড্রেজার দিয়ে জাকির গ্রুপের লোকজন বালু উত্তোলনের কারণে আমার প্রায় ৪০ শতাংশ ভিটেবাড়ি বিলীন হয়ে কিছু জায়গা রয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ দিয়েও ড্রেজার বন্ধ হচ্ছে না। এখনও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চলছে দেদারছে। ভূক্তভোগি চাঁন মিয়া টিনিউজকে বলেন, ড্রেজারের মাধ্যমে আমার প্রায় ১২২ শতাংশ কৃষি জমির মধ্যে ৬০ শতাংশ জমির মাটি জাকিরের লোকজন কেটে নিয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ দিলেও ড্রেজার বন্ধ হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে প্রশাসন এসে ড্রেজারের পাইপ ভেঙ্গে দিয়ে চলে যায়। পূণরায় জাকির গ্রুপের লোকজন ড্রেজার চালু করে বালু তুলছে। অপরদিকে উপজেলার মলিয়ানপুর, বার্থা, হাট বালিয়া, ময়থা, বাথুলীসাদী, তিরঞ্চসহ বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার চলছে দেদারছে।
বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুন নাহার ড্রেজার চলার বিষয়টি স্বীকার করে টিনিউজকে বলেন, ড্রেজারগুলো একাধিকবার পুড়িয়ে ও পাইপ ভেঙ্গে দিয়েছি। তারা আইনের তোয়াক্কা না করে কিছুদিনের মধ্যে আবার অবৈধ ড্রেজার চালু করছে। খুব দ্রুত এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ