Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

বাসাইলে আওয়ামী লীগের গলার কাটা বিদ্রোহী প্রার্থী ॥ প্রকাশ্য গ্রুপিং

শেয়ার করুন

এনায়েত করিম বিজয়, বাসাইল ॥
টাঙ্গাইলের বাসাইলে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যেদিয়ে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলছে প্রকাশ্য গ্রুপিং। এ উপজেলায় নৌকা মনোনীত প্রার্থীর গলার কাটা হয়ে দাঁিড়য়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। এ উপজেলায় নৌকার টিকিট পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মতিয়ার রহমান গাউস। অপরদিকে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম। কাজী অলিদ ইসলাম মনোনয়ন যুদ্ধে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত এসে তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হন। এরপরই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নামেন।
গত (৪ মার্চ) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগ মূহুর্তে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষের বেশকয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করে। বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীরা টিনিউজকে জানান, হাজী মতিয়ার রহমান গাউসকে মনোনয়ন দেয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এই দ্বন্দ¦ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। কাজী অলিদ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পড়েছে বেকায়দায়। আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হাজী গাউজ না বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী অলিদের পক্ষে কাজ করবেন এ বিষয়টি নিয়ে বেকায়দায় আছেন নেতাকর্মীরা।
হাজী মতিয়ার রহমান গাউস মনোনয়ন প্রতিযোগিতার আগ মূহুর্তে এসে নির্বাচন করার ঘোষনা দেন। অপরদিকে কাজী অলিদ ইসলাম আগে থেকেই মাঠ ঘুছিয়ে রেখেছেন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হন। গত ২০০৯ সালে তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কাজী অলিদ ইসলাম চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে কাজী অলিদ ইসলাম বিএনপির প্রার্থী কাজী শহীদুল ইসলামের কাছে হেরে যান। এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কাজী অলিদ ইসলাম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন।
এ বিষয়ে কাজী অলিদ ইসলাম টিনিউজকে বলেন, দলের ৯৯ ভাগ নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছেন। মূলত নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের জন্যই আমি প্রার্থী হয়েছি। কেন্দ্র যেহেতু সবার জন্য নির্বাচন উন্মুক্ত করেছে। সে কারণেই আমি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনিই এ নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হাজী মতিয়ার রহমান গাউস দলের দুঃসময়েও পিছু পা হননি। দলকে শক্ত অবস্থানে রাখতে তারও ব্যাপক বেগ পোহাতে হয়েছে। জনপ্রিয় প্রার্থী হাজী মতিয়ার রহমান গাউস টিনিউজকে বলেন, আওয়ামী লীগ আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রতিক নৌকা। সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই জনগন নৌকাকে বিজয়ী করবে। এছাড়া উপজেলার সকল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার সাথে আছে। ইনশাআল্লাহ আমিই এ নির্বাচনে বিজয়ী হবো।
এ দুই নেতা ছাড়াও উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে পুুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাদিকুর রহমান খান শাহিন, নুরুল ইসলাম খান, শাহাদত হোসেন খান, সাইফুল ইসলাম খান মন্টু, এসএম ফজলুল হক মিয়া, সাইফুল ইসলাম শিপন সিকদার ও নাজমুল হুদা খান বাহাদুর নির্বাচনে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জবেদা বেগম, মলি আক্তার, রেখা বেগম, শাম্মী আক্তার মুক্তি ও রোজিনা মফিজ খান মাঠে ব্যাপক প্রচারণা করছেন।
নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা চায়ের দোকান, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিক সম্বলিত পোস্টার লাগিয়েছেন। এছাড়া গণসংযোগসহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভোট চাইছেন। এ উপজেলায় চতুর্থ ধাপের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী (৩১ মার্চ)।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ