Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

বঙ্গবন্ধু সেতুর জমি অধিগ্রহণ ॥ এখনও ক্ষতিপূরণ পাননি মালিকরা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণকালে ৫ হাজার একরেরও বেশি জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এ জমি টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল, গোবিন্দাসী ও গাবসারা ইউনিয়ন, কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গা, সল্লা ও দূর্গাপুর ইউনিয়ন এবং সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার কাওয়াই, ভদ্রঘাট ও নকলা ইউনিয়নের। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সায়দাবাদ, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়ন ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত।
বঙ্গবন্ধু সেতু কতৃপক্ষের ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসন ও চাকুরির ক্ষেত্রে লাল কার্ড ঈস্খদর্শনে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা থাকলেও লাল কার্ডধারী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য এ কার্ডের কোনো সুফল পাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোবিন্দাসী গ্রামের আব্দুল কালাম শেখ ক্ষেভের সঙ্গে টিনিউজকে জানান, তদবির ছাড়া কোনো চাকরি হয় না, “আমরা আইজ পর্যন্ত লাল কার্ড বুহে নিহা আশায় বুক বাইন্দা আছিলাম। কিন্তু হমরা কিছুই পাই নাই। বউ পোলাহান নইয়া কহনো খাইয়া কহনো না খাইয়া থাহি‘। যমুনার করাল গ্রাসের ভাঙনের মতোই বঙ্গবন্ধু সেতুর জন্য বাপ-দাদার বসতভিটা সরকার হুকুম দখল করে নেয়। বিনিময়ে এদের দেয়া হয় কিছু প্রতিশ্রুতি ও নগদ অর্থের চেক এবং একটি করে লাল কার্ড। যে চেকের টাকা তুলতেও সাধারণ জনগণকে অনেক হিমশিম খেতে হয়েছিল। কিছু কিছু প্রতিশ্রুতি শুধু প্রতিশ্রুতি আকারে কাগজ-কলমে থেকে গেছে। কুকাদাইর গ্রামের শাহআলম টিনিউজকে বলেন, ‘তহন আমাগোরে যা কইছিলো তার তো কিছুই পাই নাই, জমি-জিরাত, ঘর-বাড়ি আড়াইয়া এহন আমরা পতে বইয়া গ্যাছি। এহন কেউ কেউ ভিক্ষা করে আবার কেউ কামলা দেয়। সরকার যেন আমাগো এ অবস্থা থাইক্যা মুক্তি দেয়“। অথচ হুকুম দখল ও বাড়িঘর উচ্ছেদের সময় ভূঞাপুর, কালিহাতি ও সিরাজগঞ্জবাসীকে অনেক আশ্বাসের বাণী শোনান হয়েছিল। বলা হয়েছিল, সেতুর জন্য যেসব ব্যক্তি-পরিবার জমি, বাড়ি এবং অন্য সম্পদ হারাচ্ছে তাদের জেলা প্রশাসক কর্তৃক ভূমি অধিগ্রহণ আইনের বিধানমতে প্রদানকৃত ক্ষতিপূরণের পরও অন্যান্য আরও সুবিধাদি সেতু কর্তৃপক্ষ প্রদান করবে। যাতে তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়।
ইউনিয়নের জনসাধারণের সনার্বিক উন্নিয়নের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্পের ব্যয়ে এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জনসেবামূলক ব্যবস্থার উন্নতি সাধণ করা হবে। বলা হয়েছিল লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে, চাকরি পাবে, ব্যবসা করার সুযোগ পাবে। কিন্তু কোন সুযোগই সৃষ্টি করেনি কর্তৃপক্ষ। যমুনার পূর্ব পাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি বাজারের শেড নির্মাণ করা হলেও তা এখন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভাসমানদের আবাসস্থলে পরিণিত হয়েছে। পুর্নবাসন এলাকায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সেতু কর্তৃপক্ষ দ¦ারা তা পরিচালিত না হয়ে একটি এনজিও দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তো দুরের কথা, একজন এমবিবিএস ডাক্তার পর্যন্ত নেই। গ্রামীন কল্যাণ সংস্থা এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি শুধু জিইয়ে রেখেছে। আজও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শিক্ষা বিস্তারের ব্যবস্থা করেনি। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা কে কোথায় আছে তার খোঁজখবরও নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের আর্থিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা করার কথা ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত রহিম মিয়া ক্ষোভের সঙ্গে টিনিউজকে বলেন, সেতু থেকে সরকার যেখানে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে। সেখান আমাদের এ বেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। ওই টাকা দিয়ে যেন আমাদের বাঁচার উপায় বের করে সরকার।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ