Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

প্রধানমন্ত্রীর জন্য নিরাপত্তা চাদরে কুমুদিনী কমপ্লেক্স

শেয়ার করুন

এম কবির ॥
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণপদক প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রথমবারের মতো বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সকালে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আসছেন। এছাড়া তিনি কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সেবা কার্যক্রমের ৮৬তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন। কুমুদিনীর ৮৬তম বর্ষপুতি উপলক্ষে এ বছর শহীদ দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা স্মারক সম্মাননা স্বর্নপদক পাচ্ছেন চারজন গুনী ব্যক্তি। প্রধানমন্ত্রী কুমুদিনী কমপ্লেক্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিনি এ সম্মাননা তুলে দিবেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন তার ছোট বোন শেখ রেহেনা। এছাড়া মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুরো কুমুদিনী কমপ্লেক্সে নানা সাজে সজ্জিতকরণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কুমুদিনী কমপ্লেক্সের ভারতেশ্বরী হোমসের সবুজ চত্বরে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীরা দৃষ্টি নন্দন ড্রিসপ্লে প্রদর্শন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনে পুরো কুমুদিনী কমপ্লেক্সেসহ মির্জাপুর শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ডেকে দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর কুমুদিনী কমপ্লেক্সে আগমন করবেন। তিনি কুমুদিনী কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর রনদা প্রসাদ সাহা স্মারক স্বর্ণ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ভারতেশ্বরী হোমসের সবুজ চত্তরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতির লিডার হিসেবে খ্যাত হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরনোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরনোত্তর), শিল্পী সাহাবুদ্দিন এবং নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে স্বর্ণ প্রদক প্রদান করবেন।
কুমুদিনী পরিবারের কর্নধার রাজিব প্রসাদ সাহা ও পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দি বলেন, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট্র অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেড এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে স্মারক সম্মাননা ও স্বর্নপদক গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহেনা, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে সম্মাননা এবং স্বর্নপদক গ্রহণ করবেন তার নাতনী খিলখিল কাজী। এছাড়া বাকী দু’জন উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করবেন। পরে তিনি দুপুরের খাওয়া শেষে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করবেন।
কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট্রের শিক্ষা পরিচালক ও ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক প্রিন্সিপাল একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিভা মুৎসুদ্দি বলেন, দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা ছিলেন নিবেদিত প্রাণ একজন মহান ব্যক্তি। তিনি নিজের জন্য কিছু রেখে যাননি। তার সমস্ত সম্পদ দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দান করে গেছেন। তার সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কুমুদিনী হাসপাতাল, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমুদিনী নার্সিং স্কুল এন্ড বিএসসি নার্সিং কলেজ, ভারতেশ্বরী হোমস, টাঙ্গাইল কুমুদিনী মহিলা কলেজ, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজ, মির্জাপুর এস কে পাইলট বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজ, রনদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু প্রতিষ্ঠান রেখে গেছেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ৭ মে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা ও তার একমাত্র পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবিকে পাকহানাদার বাহিনী ও এ দেশীয় রাজাকার আল বদর বাহিনী ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তার সেবামুলক প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং রনদা প্রসাদ সাহাকে স্মরণ করতেই ২০১৫ সাল থেকে কুমুদিনী পরিবার দেশ ও বিদেশের গুনী ব্যক্তিদের রনদা প্রসাদ সাহা স্মারক সম্মাননা প্রদান শুরু করেছেন। ২০১৫ সালে এমরিটাস জাতীয় অধ্যাপক শিক্ষাবিদ ড. আনিসুজ্জামান, বারডেম হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম (মরনোত্তর) ও অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানকে সম্মাননা স্মারক স্বর্নপদক তুলে দেন। ২০১৬ সালে কবি বেগম সুফিয়া কামাল (মরনোত্তর), নারী নেত্রী এডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক আবু সাঈদ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজকে সম্মাননা স্মারক স্বর্নপদক তুলে দেন। ২০১৭ সালে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত(মরনোত্তর), ফজলে হাসান আবেদ এবং অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালকে স্মারক সম্মাননা স্বর্নপদক প্রদান করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল এবং নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমসে প্রথমবারের মতো আসছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষিক কনিকা শেট বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের এখানে আসছেন। এতে আমরা যেমন খুশি, তেমনি শিক্ষার্থীরাও খুবই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এখানে প্রথমবারের মতো আসবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আমরা উৎফুল্ল ও আনন্দিত। উনার আগমন যেন সফল হয় এটাই আমাদের কামনা। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ফারহানা ঋতু, সানজিদা শিলা ও মালিয়া খোকন বলেন, আমাদের জন্য সত্যিই গৌরবের বিষয় যে, প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রতিষ্ঠানে আসছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসছেন আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা যাতে ঐতিহ্যবাহী ড্রিল, নাচ, গান ভালোভাবে করতে পারি তার প্রস্তুতি নিয়ে আছি। যেন উনি দেখে আমাদের প্রতি খুশি হন। আমরা আমাদের কার্যক্রম দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতে পারলে আমরা আমাদের স্বার্থকতা অর্জন করতে পারবো।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সঞ্চিত কুমার রায় বলেন, মির্জাপুরে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীর আগমনে হেলিপ্যাড তৈরীসহ সকল প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, এনএসআই, ডিএসবি, ডিবি, পুলিশ, আনসার ও বিজিবিসহ সকল আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছেন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানস্থল ও এর আশপাশে চার স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৩টি হ্যালিপেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি যে কোন একটিতে নামবেন। তারপর তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। আনসার এবং পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ১৩শ’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ