নৈসর্গিক সৌন্দর্য থই থই পানি নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ বাসুলিয়ায়

শেয়ার করুন

এনায়েত করিম বিজয়, বাসাইল ॥
নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাসুলিয়া। দর্শনার্থীদের মন জুড়ায় সৌন্দর্যের রানী খ্যাত ‘হিজল গাছ’। এই গাছের সঙ্গে হয়েছে জলের মিতালি। এ যেন এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। চারদিকে থই থই পানি, নৌকায় ঘুরে বেড়ানো সে এক দারুণ অ্যাডভেঞ্চার। সড়ক ঘেঁসে পানির থই থই ও বিলের মাঝখানে হিজল গাছ। এ যেন প্রকৃতির অনিন্দ্য সুন্দরের সমাবেশ।
টাঙ্গাইল শহর থেকে বাসুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। টাঙ্গাইল থেকে বাসাইল পৌঁছালে সখীপুর সড়ক ধরে মাত্র তিন কিলোমিটার পার হলেই বাসুলিয়া। সখীপুর যাওয়ার সময় হাতের ডান দিকে রয়েছে এক বিশাল বিল। এ বিশাল চাপড়া বিলের পূর্ব দক্ষিণাংশে দাঁড়িয়ে আছে ভাসমান হিজল গাছ। সড়কে দাঁড়ালে দক্ষিণের জলরাশি ছুঁয়ে আসা মিষ্ঠি হাওয়া যে কারো গাঁ জুড়িয়ে দেয়। প্রথম দিকে লোকজন এখানে দাঁড়িয়ে ঢাকার আশুলিয়া বাঁধের দক্ষিণে অনিন্দ্য সুন্দর জল-হাওয়ার সাথে এই স্থানকে তুলনা করতো। হয়তো তখন কেউ চাপড়া বিলের কিনারাকে বাসুলিয়া বলে প্রকাশ করেছিল। সেই থেকে সময়ের পরিবর্তনে লোকমুখে স্থানটি বাসুলিয়া নামে পরিচিতি পায়।
অনেকের ধারণা এই হিজল গাছটির জন্ম এখানে নয়। সেই প্রাচীন যুগে গাছটি এসেছিল আসাম রাজ্য থেকে। ইতোমধ্যেই এই বাসুলিয়া বেড়ানোর জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলায় বিশেষ কোনও দর্শনীয় স্থান না থাকায় বিনোদনের একমাত্র স্থান হিসেবেই এই বাসুলিয়াকে বেছে নিয়েছেন এ এলাকার মানুষেরা। শুধু এ এলাকার লোকজন নয় বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসে এই বাসুলিয়ায়।
এমন মনোরম পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে তাই দর্শনার্থীরা ছুটে আসে পরিবার-পরিজন নিয়ে। প্রতিদিন এই এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। নৌকায় উঠতেও সিরিয়াল দিতে হয় দর্শনার্থীদের। প্রতি ঈদের সময় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় থাকে এ এলাকায়। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘুরতে আসা পরিচিত মুখগুলোর সাথে দীর্ঘদিন পরে দেখা হয়ে যায় অনেকেরই। ফলে এই বাসুলিয়াতে আসা মানুষের ভিড় এক ধরণের মিলন মেলায় পরিণত হয়।
দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা পূরণের জন্য এ এলাকায় বসে অস্থায়ী দোকান। এছাড়াও স্থায়ীভাবে রয়েছে কয়েকটি ফাস্ট ফুডের দোকান। বাসুলিয়াকে আরো সৌন্দর্যম মন্ডিত করতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে লাইটিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সড়ক ঘেঁসে দর্শনার্থীদের বসার জন্য কয়েকটি বেঞ্চ ও একটি মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এদিকে দর্শনার্থীরা বাসুলিয়ায় সড়ক ঘেঁসে আরও সৌন্দর্য বর্ধনের দাবী জানিয়েছেন।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না টিনিউজকে বলেন, উপজেলায় কোন দর্শনীয় স্থান না থাকায় বাসুলিয়াকেই বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে দর্শনার্থীরা। এখানে অনেক মানুষের সমাগম হয়। তিনি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাসুলিয়া এলাকা ত্যাগ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান টিনিউজকে বলেন, দর্শনীয় স্থান বাসুলিয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশি টহল থাকে। এছাড়াও প্রতিদিনই রাতে বাসুলিয়ায় পুলিশ টহল দেয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ