Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

নাগরপুর-দেলদুয়ার হবে শিল্পনগরী- আহসানুল ইসলাম টিটু

শেয়ার করুন

রামকৃষ্ণ সাহা রামা, নাগরপুর ॥
আহসানুল ইসলাম টিটু, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। জনগনের প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আহসানুল ইসলাম টিটু টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি.কম কে স্বাক্ষাতকার দিয়েছেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
কেন নির্বাচন করতে চান?
আপনারা জানেন যে আমি একটা রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। আমার বাবা আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য। আমার মা গোলাম ফাতেমা তাহেরা খানম মোনা আওয়ামী মহিলা লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। আমিও ঢাকা কলেজে যখন পড়াশোনা করেছি তখন ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিলাম। বিদেশে পড়াশোনার জন্য যাই। ফিরে এসে ধীরে ধীরে আমার এলাকায় কাজ শুরু করি। এরপর তৃণমূল আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে ২০০৩ সাল থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে কাজ শুরু করি, থানা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক হিসেবে ২০০৩ থেকে কাজ করে যাচ্ছি। রাজনীতিতে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকে। যদি এলাকার মানুষের জন্য কিছু করতে হয়, তাদের অভাব-অভিযোগ, উন্নয়ন সম্পর্কে যদি কিছু বলতে হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন না করলে হয় না। জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে আমার ওপর আস্থা রেখে নাগরপুর-দেলদুয়ারে নির্বাচন করার সুযোগ দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা আবার আমার ওপর আস্থা রেখে যদি নৌকার প্রতীক দেন, তাহলে অবশ্যই আমি নাগরপুর-দেলদুয়ারে নৌকা প্রতীককে জয়ী করতে পারবো।
কেন আপনি মনে করছেন, জয়ী হতে পারবেন?
আমি সুদীর্ঘ সময় ধরে নাগরপুর-দেলদুয়ারের মানুষদের নিয়ে কাজ করছি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগসহ মহিলা সংগঠনগুলো, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি সবাই চান আমি মনোনয়ন পাই এবং যদি পাই তাহলে সবাইকে নিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করতে পারবো। আমি ও আমার পরিবার কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি করি না। আমি ধারাবাহিকভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, এলাকার উন্নয়ন করা, বিশেষ করে আমরা গুরুত্ব দেই এলাকার উচ্চশিক্ষাকে। আমাদের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান সিটি ইউনিভার্সিটির মাধ্যমে এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির সুযোগ করে দিচ্ছি। সেই সাথে আমাদের শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং ইন্সটিটিউটে প্রতিদিন এলাকার রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। শিক্ষা শেষে আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করছি। আমাদের নিজস্ব ও পরিচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাগরপুর-দেলদুয়ারের অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এটা কিন্তু নির্বাচনকেন্দ্রিক না, ধারাবাহিকভাবে এটা আমরা করে যাচ্ছি। এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও আমরা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের জন্মও এখানে। স্কুলে লেখাপড়াও করেছি এখানেই। পরে ঢাকা ও উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছি। কিন্তু এলাকার সঙ্গে আমাদের সংযোগ কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে দেশে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। সেই জোয়ারে যেন আমরা সংযুক্ত থাকতে পারি সেজন্য সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি।
সংসদ সদস্য হলে কী কী কাজ করবেন?
বিগত ২০০৮ সালে আমার একটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আছে। ওই ধারাবাহিকতায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যক্তিগতভাবে যতটুকু পারি করছি। কিন্তু যদি সামগ্রিক উন্নয়ন চাই, নাগরপুর-দেলদুয়ারকে যদি উন্নয়নের মডেল করতে চাই, জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে বলেছেন যে, উনি গ্রামগুলোকে শহরে পরিণত করবেন সেই কাজগুলি করতে হলে এমপি হওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে একটা মহাপরিকল্পনা আমার মাথায় আছে। আমাদের এলাকা ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার রাস্তা। কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে আমাদের ওখানে কোনও শিল্প কারখানা গড়ে ওঠেনি। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সংযোগ সড়ক যদি দেলদুয়ার-নাগরপুরের ওপর দিয়ে হয়, তাহলে রাস্তাও কমে যাবে এবং ওই মহাসড়কের পাশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠতে পারে। আর নাগরপুরের একদিকে ধলেশ্বরী, অন্যদিকে যমুনা। কিন্তু নাব্যতা কমে যাওয়ায় আগের সেই নদীভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা নেই। নদীর নাব্যতা যদি আমরা বৃদ্ধি করতে পারি তাহলে শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠা সম্ভব। এছাড়া নদী ও খাল বিলের কারণে মাছ চাষেরও অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিকল্পনাগুলো, কাজগুলো যদি আমরা করতে পারি তাহলে গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, মির্জাপুরের মত ঢাকার খুব কাছেই আরো একটি শিল্পনগরী গড়ে উঠবে এবং প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া নাগরপুর-দেলদুয়ারের সংযোগ সড়কগুলোর, যেমন- জেলা থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন থেকে গ্রাম এবং প্রতিটি স্কুল কলেজের সঙ্গে সংযোগ সড়কগুলোর উন্নয়ন করতে চাই। আমার এলাকার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো এবং ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠায় নজর দিবো। যেহেতু আমি হাসপাতালের সঙ্গে জড়িত আছি। আমরা সরকারের সাথে মিলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে লোকবল বাড়ানোর মাধ্যমে বেশি সেবা দিবো। সেইসাথে ঢাকা থেকে উন্নত চিকিৎসা সেবার সুযোগ নাগরপুর-দেলদুয়ারে নিয়ে যাবো। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- আমাদের এলাকার উন্নয়নটা আমি পরিকল্পিতভাবে করতে চাই, ধাপে ধাপে।
নিজের সম্পর্কে কিছু বলতে চান…?
বাবা-মার কথা আগেই বলেছি। আমরা তিন ভাই। আমার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো আমার তিন ছেলেমেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। বড় মেয়ে আমেরিকার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছে। ছোট মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এমআইএসের ওপর আন্ডার গ্রাজুয়েশন করছে। আমার ছেলে বিজনেস কমিউনিকেশনে পড়ছে। আমার স্ত্রীও সার্বক্ষণিক আমার সব কাজে সহযোগিতা করছেন। নিজেও তিনি সফল একজন উদ্যোক্তা। এখন আমার বাকি জীবন আমি জনসেবামূলক কাজে নিবেদিত করতে চাই। আমি গয়াহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ এবং ঢাকা কলেজ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করি। ১৯৯৩ সালে ফিরে এসে কাজে যোগ দেই আর্থিক খাতে। কর্মজীবনের প্রথম থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে জড়িত। দেশের প্রধান পুঁজিবাজারের সদস্যদের মধ্যে আমি শেষ নির্বাচিত সভাপতি। এসময় ডিমিউচুয়ালাইজেশন আমার নেতৃত্বেই হয়। ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হিসেবেও আমি কাজ করেছি। সেই সাথে আমি এফবিসিসিআইয়ের একজন গভর্নিং বডির সদস্য। অনেকদিন ধরে এফবিসিসিআইয়ের সাথে কাজ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিজনেস ডেলিগেট হিসাবে ভারত, জার্মানি সফরে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এছাড়া বর্তমানে সন্ধানী লাইফ ইনস্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ ফাইন্যান্স, মধুমতি ব্যাংক, মোনা ফাইন্যান্সিয়াল কনসালটেন্সি অ্যান্ড সিকিউরিটিজ, পূরবী জেনারেল ইনস্যুরেন্স, সন্ধানী লাইফ হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সাথে যুক্ত রয়েছি। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সিটি বিশ্ববিদ্যালয়, এমএইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নার্সিং হোম, ডেন্টাল কলেজ, মকবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, গয়াহাটা উদরতারা উচ্চ বিদ্যালয়, নাগরপুর মহিলা কলেজ, আটিয়া মহিলা কলেজ, মকবুল হোসেন মাদ্রাসা ও এতিমখানার সঙ্গেও আমি জড়িত।
শেষ কথা-
গত ২৫ বছর প্রতিটি আর্থিক খাতের সঙ্গেই আমি যুক্ত ছিলাম। আশা করি, আমার এই অভিজ্ঞতাগুলো পরবর্তীতে আমি যদি জনপ্রতিনিধি হিসাবে সংসদে যেতে পারি তাহলে অর্থনৈতিক খাতের সমস্যাগুলো সংসদে তুলে ধরতে পারবো এবং সেটাকে আমরা সমাধানের জন্য কথা বলতে পারবো। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের যে অভিজ্ঞতা আছে সেটা আমি আমার এলাকায় কাজে লাগাতে পারবো। আমরা কিন্তু এখন সুখী সম্বৃদ্ধশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। আমরা এখন লড়াই সংগ্রাম, ভাংচুরের রাজনীতি পছন্দ করিনা। আমরা এখন উন্নয়নের রাজনীতি করি। আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্যাপক উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবো বলে আশা করি। ধন্যবাদ জানাই টাঙ্গাইলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পাঠক প্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি.কম কে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ