নাগরপুরে সরকারি স্কুলের পাঠদান বাড়ির আঙ্গিনায় ॥ মসজিদে পরীক্ষা!

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে একটি বাড়ির আঙ্গিনায়। আর সম্প্রতি (২৮ অক্টোবর) সম্পন্ন হওয়া ওই বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে দক্ষিণ বেটুয়াজানী জামে মসজিদে। বন্যায় বিদ্যালয়টির স্থাপনা দু’বার ধলেশ্বরীর পেটে চলে যাওয়ায় এমন দুর্ভোগের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম।
জানা যায়, বিগত ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নাগরপুরের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিগত ২০০৪ সালে প্রথম ধলেশ্বরী নদী বিদ্যালয়ের ভবনটি ধসে যায়। বিগত ২০১৭ সালের বন্যায় দ্বিতীয় দফায় ধলেশ্বরী নদীগর্ভে আবার বিলীন হয় ওই বিদ্যালয় ভবন। এরপর থেকেই একটি বাড়ির আঙ্গিনা আর খোলা আকাশের নিচে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান। আর ওই বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন চারজন শিক্ষক। এছাড়াও তিনটি শ্রেণির পাঠদান একই স্থানে চালানোর কারণে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী কেউই ভালোভাবে কারো কথা শুনতে পারে না। একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের দুরাবস্থার খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন ২৫ শতাংশ জমিও স্কুলের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু ওই টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট করা হলেও শিক্ষার্থীদের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি।
স্থানীয় অভিভাবক মোতালেব, রহিম, সুরুজ মিয়া, সফদের আলী টিনিউজকে জানান, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা খোলা আকাশের নিচে আর অন্যের বাড়ির আঙ্গিনায় পড়ালেখা করছে, এটা খুবই কষ্টের। স্কুলের কোন ঘর নেই, নেই বসার জায়গাও। এ অবস্থায়ই ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। তারা দ্রুত একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণের দাবি জানান। বিদ্যালয় শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার টিনিউজকে বলেন, আমি ভাল স্কুলে ভর্তি হব। এই স্কুলে খোলা আকাশের নিচে পড়তে ভাল লাগেনা। ভাল স্কুলে ভর্তি হলে দূরে যেতে হবে। এ স্কুলটি বাড়ির কাছে, তাই বাধ্য হয়ে এ স্কুলেই পড়ছি। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টিনিউজকে জানান, প্রতিষ্ঠার পরই বিদ্যালয়টি দফায় দফায় নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। বেশ কয়েকবার বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। তবে বিগত ২০১৭ সালে ভাঙনের পর বিদ্যালয়টি পুন:নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় বিমুখ হয়ে পড়ছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এ অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজম আলী টিনিউজকে জানান, বৃষ্টির কারণে দক্ষিণ বেটুয়াজানী জামে মসজিদে চূড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। আগামী নতুন বছরের আগেই এ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ না করা হলে ছাত্র-ছাত্রী সঙ্কটে পাঠদান কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এ ব্যাপারে নাগরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম টিনিউজকে জানান, বিদ্যালয়ের একটি টিনের ঘর তৈরির জন্য কর্তৃপক্ষ পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ওখানকার কিছু লোক ২৫শতাংশ জমিও দিয়েছে। সেখানে মাটি ভরাট করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বিদ্যালয়ের জন্য একটি অস্থায়ী টিনের ঘর নির্মাণ করা হবে। নতুন বছরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নতুন ঘরে উঠতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল হক টিটু মুঠোফোনে টিনিউজকে জানান, এ বিদ্যালয়ের বিষয়ে তাকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে সরেজমিনে দেখে তিনি তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ