Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

নতুন চার এমপি কাজের মাধ্যমে জনগণের ভালবাসার প্রতিদান দিতে চান

শেয়ার করুন

কাজল আর্য ॥
রাজনীতিসহ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার টাঙ্গাইল। শিক্ষা-সংস্কৃতি, ইতিহাস সমৃদ্ধ টাঙ্গাইলে জন্মেছেন দেশ-বিদেশ বরেণ্য অনেক কৃতী সন্তান। যাদের জন্যে জাতি গর্বিত। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এরমধ্যে ৪ জন নতুন মুখ নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন- টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে তানভীর হাসান ছোট মনির, টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আতাউর রহমান খান, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে আহসানুল ইসলাম টিটু এবং টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের। কাজের মাধ্যমে জনগণের ভালবাসার প্রতিদান দিতে চান নব-নির্বাচিত এমপিরা। সবাইকে সাথে নিয়ে গড়তে চান উন্নত নির্বাচনী এলাকা।
টাঙ্গাইল-২ (ভূঞাপুর-গোপালপুর) আসনে মনোনয়ন নিয়ে এবং নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনির। তিনি ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কারাবন্দি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৮৯ ভোট। টুকু বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের নিকট পরাজিত হয়েছিলেন। তার বড় ভাই একুশ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু এখানে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এমপি হয়ে উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। বর্তমান এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির অতি অল্প সময়ে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে আলোচনায় চলে এসেছেন। তিনি জার্মান আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। কর্মী বান্ধব ছোট মনির তরুণ যুব সমাজের মধ্যে পাকাপোক্তভাবে স্থান করে নিয়েছেন। বঞ্চিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ছোট মনির টিনিউজকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অংশীদার হতে চাই। যমুনা নদী ভাঙন রোধে গাইড বাঁধ নির্মাণ, শিল্প-কারখানা নির্মাণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাকরণ, মাদক-দূর্নীতিমুক্ত এলাকা গঠন করার প্রত্যয় করবো ।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আতাউর রহমান খান। তিনি ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ পেয়েছেন ৯ হাজার ১২২ ভোট। আতাউরের পুত্র আমানুর রহমান খান রানা এখানকার দুইবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদ হত্যা মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আতাউর রহমান খানের বড় ভাই মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠনক প্রয়াত শামছুর রহমান খান শাহজাহান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৭০, ১৯৭৩ ও ১৯৮৬ সালে এমপি নির্বাচিন হন। অন্যদিকে, বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান খান আজাদ ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে টানা চারবার নির্বাচিত হন। আতাউর রহমান খান ও লুৎফর রহমান খান সম্পর্কে চাচাতো ভাই। আতাউর রহমান খান এমপি বলেন, আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি পছন্দ করি না। সবাইকে সাথে ঘাটাইলবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঘাটাইলের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনে ২ লাখ ৮০ হাজার ২২৭ ভোট পেয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আহসানুল ইসলাম টিটু বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৫৫৯ ভোট। এমপি টিটু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার বাবা আলহাজ্ব মকবুল হোসেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য। অন্যদিকে গৌতম চক্রবর্তী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এমপি হন। বিগত ২০০৮ সালে আহসানুল ইসলাম টিটু মুক্তিযুদ্ধের বাতেন বাহিনীর প্রধান সাবেক এমপি খন্দকার আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। এমপি আহসানুল ইসলাম টিটু টিনিউজকে বলেন, বেকারত্ব দূরিকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নদী ভাঙন রোধ এবং আধুনিক নাগরপুর ও দেলদুয়ার গঠণে যা যা করা দরকার তাই করবো।
টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে ২ লাখ সাত হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বঙ্গের আলীগড় খ্যাত সরকারি সা’দত কলেজের দুইবারের ভিপি ছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের মেয়ে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কুঁড়ি সিদ্দিকী পেয়েছেন ৭১ হাজার ১৪৪ ভোট। এই আসন থেকে কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে এমপি হন। এবার ঋণখেলাপীর কারনে টাঙ্গাইল-৪ ও ৮ আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। নব-নির্বাচিত এমপি অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম ভিপি জোয়াহের টিনিউজকে বলেন, মানুষ আগুন সন্ত্রাস ও দুর্নীতিগ্রস্থ বিএনপিকে বর্জন করেছে। তাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও শান্তি বজায় রাখতে জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করেছেন। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাবো। মানুষের ভালবাসার প্রতিদান কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ দিবো। সবাইকে সাথে নিয়ে সখীপুর বাসাইলসহ পুরো টাঙ্গাইলের কাক্ষিত উন্নয়ন করবো।
এছাড়া টাঙ্গাইলের অন্য চারটি আসন টাঙ্গাইল-১ (ধনবাড়ী-মধুপুর) থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, বর্তমানে কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) থেকে একাব্বর হোসেন টানা ৪ বার এবং টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) থেকে হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) থেকে ছানোয়ার হোসেন টানা ২ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ