দেশের ২য় বৃহৎ মধুপুর বন গবেষনা কেন্দ্র ধ্বংসের পথে

শেয়ার করুন

মধুপুর সংবাদদাতা ॥
বিরল প্রজাতির বৃক্ষরাজি রক্ষনাবেক্ষণ, পরিচর্যা ও বনজ সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত মধুপুর বন গবেষনা কেন্দ্রটি ধ্বংসের পথে। গবেষনারত বিরল প্রজাতির সকল বৃক্ষরাজি কেটে ধ্বংস করে গবেষনাগারের ভূমি জবরদখল করে আবাদী জমিতে পরিনত করেছে ভূমি দস্যুরা।
জানা যায়, বিরল প্রজাতির বৃক্ষের রোগ বালাই, অকালে কোনটির মৃত্যুর কারণ ও রক্ষনাবেক্ষনাসহ বনজ বৃক্ষের উন্নয়ন, অগ্রগতির উদ্দেশ্য নিয়ে মধুপুর বনাঞ্চলের মধুপুর রেঞ্জের চাড়ালজানি বিটের আওতাধীন টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন বেরীবাইদ মৌজার ১নং দাগের ৪২৫ একর জায়গা নিয়ে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় সিলভি কালচার নামে মধুপুর বন গবেষনাগার কেন্দ্রটি। প্রথমে জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের অস্থায়ী কার্যালয়ে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে গবেষনাগারের বরাদ্দকৃত নিজস্ব জায়গা চাড়ালজানীতে স্থায়ী পাকা অফিস, বাসস্থান স্থাপন করে তাদের জায়গার বৃক্ষরাজির গবেষনা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু বনভূমি খেকো প্রভাবশালীদের শকুন দৃষ্টি পরে গবেষনাগারের জমির উপর। ভূমি খেকোদের গ্রাস রোধকল্পে সামাজিক বনায়ন ও ঔষধি বৃক্ষের বাগান করতে ২ পর্বে ৩৯০ একর জমি বন বিভাগের হাতে চলে যায়। বাকি ৩৫ একর জায়গাতে বিভিন্ন গোত্রের বিরল প্রজাতির ছোট বড় অনেক গাছ-পালা সংরক্ষন পরিচর্যার সাথে সেগুলি টিকিয়ে রাখতে চলতে থাকে গবেষনার কাজ। কিন্তু প্রভাবশালী ভূমি দস্যুদের কালদৃষ্টি পরে সেখানেও।
গবেষনাকেন্দ্রের জমির সংরক্ষিত বনজ সকল গাছ-পালা কেটে জবরদখল করে চালাচ্ছে চাষাবাদ। বিরল প্রজাতিসহ পাম গাছ, সৌন্দর্য প্রিয় ‘ওক’ গাছ যা এশিয়ার মধ্যে একমাত্র এখানেই আছে বলে জানা গেছে। এসব মূল্যবান গাছ-পালা কেটে এখন সেখানে চাষ হচ্ছে কলা, আনারস। পুরনো ভাঙ্গাচোরা জীর্ণ অফিস আর কোয়াটার আঙ্গিনার সামান্য জমি তাদের নিয়ন্ত্রনে আছে। লোহা, ম্যালেরিয়া বৃহৎ ক’টি গাছ ও সৌন্দর্য প্রিয় দু’টি ‘ওক’ গাছ আছে অফিস আঙ্গিনায়। আর একটি গাছ মরে গেছে, যার কারন উৎঘাটন করতে চট্রগ্রামে প্রধান বন গবেষনা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাম গাছগুলি সাথে থাকা উদ্ভিদ জগতের অসংখ্য সঙ্গী সাথীদের হারিয়ে কালেরসাক্ষী হয়ে কলা, আনারস বাগানে দাড়িয়ে আছে। আঙ্গিনার সামান্য জায়গা আর হাতেগোনা এসব ক’টি গাছ ব্যতীত সেখানে আর কিছুই নেই। ক্ষুদ্রগন্ডির আঙ্গিনা আর রাস্তায় ঘুরাফেরা ছাড়া আর কোন কাজ নেই ষ্টাফদের। একজন রেঞ্জারসহ মোট ৭ জন ষ্টাফ ঘুরাফেরা আর বসে বসে অলস সময় কাটাচ্ছে। তাদের চোখের সামনেই গবেষনারত বিরল প্রজাতির ও বনজ সকল গাছপালা কেটে একরের পর একর জমি জবরদখল করে আবাদী জমিতে পরিনত করে চাষাবাদ করছে। চোখের সামনেই এ ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও ভূমিখেকো ক্ষমতাবান প্রভাবশালীদের দাপটে ভয়ে কোন বাঁধা দিতে পারেনি দায়িত্বরত ষ্টাফরা। প্রান ভয়ে ভোগকারী প্রতাপশালীদের নামে কোন মামলাও দিতে পারেনি। মুখ খুলে এ বিষয়ে দু’টি কথা বলতেও তাদের ভয়। ভূমিখেকোরাই জীববৈচিত্রে ভরপুর মধুপুরের ঐতিহাসিক প্রাকৃতিক বনটিকে ধ্বংস করে জবরদখল করে চাষাবাদ করছে।
আমাদের গর্ব, পরিবেশ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাকারী মূল্যবান জাতীয় সম্পদ ধ্বংসকারীদের দৌরাত্ব দিনদিন বেড়েই চলেছে। বন গবেষনা কেন্দ্রসহ হারানো ঐতিহ্য পূণঃউদ্ধার কল্পে বন ধ্বংস ও জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে পরিবেশবাদী, প্রকৃতিপ্রেমী ও দেশপ্রেমিক সচেতনমহল অভিমত ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ