দেলদুয়ারে ব্যবহারিক পরীক্ষায় খরচের নামে অর্থ আদায়

শেয়ার করুন

তারিকুল ইসলাম তাহের, দেলদুয়ার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এসএসসি ও দাখিল ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।
সৈয়দ আব্দুল জব্বার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীরা টিনিউজকে জানায়, প্রতি বিষয়ে বেশি নম্বর দেয়া এবং বিভিন্ন খরচের নামে তাদের নিকট থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। টাকা না দিলে নম্বর কম দেয়া হবে এমন ভয়ও তাদের দেখানো হয়েছে। ব্যবহারিক পীরক্ষায় কাঙ্খিত নম্বর পাইয়ে দেয়ার নামে এবং বিভিন্ন খরচের নামে টাকা আদায়ের বিষয়টি বিভিন্ন মহল জানলেও জানেন না সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস। ফরম পূরণের সময় পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় ফি আদায় করা হলেও খরচের নামে আবার টাকা আদায় নিয়ম পরিপন্থি। বিষয়টি জেনেও তা করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আর চাপিয়ে দেয়া এ সিদ্ধান্ত ফলাফল আশানুরুপ হবেনা এমন ভয়ে বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিন আব্দুল জব্বার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়। বাথুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিক্ষার্থীরা টিনিউজকে জানায়, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে তাদের নিকট থেকে মানবিক বিভাগে ২০০ এবং বিজ্ঞান বিভাগে ৫০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। এ টাকা দিতে না চাইলে তাদের নম্বর কম দেয়ার ভয় দেখিয়েছেন প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম। পরীক্ষা দিয়ে আসা নলশোধা উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা টিনিউজকে জানায়, তাদের নিকট থেকে প্রতি জনে ২৫০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। লাউহাটি এম আজহার উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা টিনিউজকে জানায়, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে তাদের নিকট থেকে প্রতি বিষয়ে ১০০ টাকা করে আদায় করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
টাকা নেয়ার বিষয়ে বাথুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগম টিনিউজকে বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ সত্য নয়। শাফিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা তাহমিনা বেগম টাকা নেয়ার কথা স¦ীকার করে টিনিউজকে বলেন, পরীক্ষা সংক্রান্ত খরচের জন্য পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত টাকা কেন্দ্রীয় সচিবের নিকট জমা দিতে হয়।
এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব সৈয়দ আব্দুল জব্বার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কানিজ ছালমা টিনিউজকে বলেন, মানবিক বিভাগের প্রতি পরীক্ষার্থীর জন্য ২০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীর জন্য ৫০ টাকা করে জমা দিয়েছেন বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখেন প্রায় স্কুলেই ৫০০-৭০০ টাকা করে আদায় করেছে তারা।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুজিবুল আহসান টিনিউজকে বলেন, ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে টাকা আদায় হচ্ছে বিষয়টি আমার জানা নেই। যদি এমনটা কেউ করে থাকেন তা সম্পূর্ন অনিয়ম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ