Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

দেলদুয়ারে ধলেশ্বরী নদী খনন ও চর অপসারণ কাজের ক্ষতিপুরণ পায়নি জমির মালিকরা

শেয়ার করুন

দেলদুয়ার সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ধলেশ্বরী নদী খনন ও চর অপসারণ কাজ চলছে। এ অপসারণ কাজের ফলে বালুর স্তুপে চাপা পড়া আবাদি জমির মালিকরা ক্ষতিপুরণ না পেলেও ঠিকাদারদের লোকজন করছেন লুটপাটের পরিকল্পনা। ফলে অনেকটা হতাশার মধ্যে রয়েছে উপজেলার গাছকুমুল্লী গ্রামবাসীর লোকজন। বসুন্ধরা অবকাঠামো উন্নয়ন লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রভাবাশালীদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে অনেক পরিবার। এ নিয়ে বারবার জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিয়েও লাভ হচ্ছে না কিছুই।
জানা যায়, দেলদুয়ার উপজেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ধলেশ্বরী নদীর প্রবল ভাঙ্গনে প্রতিবছর ব্যাপক ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গাছকুমুল্লী, বারপাখিয়া এবং নাগরপুর উপজেলার ঘোনাপাড়া, বাবুপুর ও লাউহাটি এলাকার কিছু অংশ। এতে ওই সকল এলাকার প্রায় কয়েকশত পরিবার হারিয়েছে ফসলি জমি ও ভিটেবাড়ি। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেছে নদী গর্ভে। ধলেশ্বরী নদীর করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ওইসব এলাকায় বাঁধ নির্মান কার্যক্রম শুরু করেছে। বর্তমানে বসুন্ধরা অবকাঠামো উন্নয়ন লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছকুমুল্লী ও ঘোণাপাড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় ১৩০০ মিটার নদী ড্রেজিং কার্যক্রম করছে।
এইসকল এলাকায় নদীর বাঁধ নির্মাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে নদী খনন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া ওই বাঁধ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্য পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে নদী খনন কার্যক্রমের পাশাপাশি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য চর অপসারণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখে এ কার্যক্রম শুরু হয় এবং চলতি বছরের আগামী (২২ জুন) ড্রেজিং কার্যক্রম সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
অপরদিকে এ ড্রেজিং কার্যক্রমের কারণে গাছকুমুল্লী এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৫৪২ শতাংশ আবাদি জমি বালুর স্তুপের কারণে নষ্ট হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী কয়েক দফায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সাথে কথা বলেও কোন ফল পাচ্ছে না। এলাকার প্রভাবশালীদের ভয়ে কিছুই করতে পারছে না তারা। এ নিয়ে প্রতিবাদ করেও লাভ হচ্ছে না কোন। এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি মালিকানা জমির মালিকদের সাথে কথা বলে তাদেরকে বাৎসরিক হারে টাকা দিয়ে জমিতে বালুর স্তুপ করার জন্য জমি নেয়া হয়েছে। কিন্তু এলাকাবাসী টিনিউজকে বলছেন, তাদেরকে না জানিয়ে আরএস এবং বিএস এর রেকর্ডীয় আবাদি সম্পতির মধ্যে জোরপূর্বকভাবে বালুর স্তুপ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আবার অনেকে জানেন-ই না তার জমিতে বালু রাখা হচ্ছে। এ নিয়ে কর্তকর্তাদের সাথে কথা বলেও কোন ফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী।
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীরা টিনিউজকে জানান, আমাদের আরএস ও বিএস এর রেকর্ডীয় আবাদি সম্পত্তির মধ্যে নদীর বালু উত্তোলন করে বালুর স্তুপ করছে বসুন্ধরা অবকাঠামো উন্নয়ন লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আমরা আমাদের জমি তাদের কাছে দিতে অস্বিকার জানালেও তারা জোর করে বালু অপসারণ করছে। আমাদের আবাদি জমি নষ্ট করছে। আমরা এর ক্ষতিপূরণ চাই।
বসুন্ধরা অবকাঠামো উন্নয়ন লিমিটেডের সুপারভাইজার মুক্তার হাসান টিনিউজকে জানান, আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে কাজটি পেয়েছি। আমরা সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই বালু উত্তোলন করছি। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেই মালিকানা জায়গায় বালু অপসারণ করছি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এমদাদুল হক টিনিউজকে জানান, টাঙ্গাইলের ধলেশ্বরী নদীতে আমাদের বেশকয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নিয়মনীতির মধ্যেই সকল কাজ চলছে। এলাকাবাসীর যে অভিযোগ তা সশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ