Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

দুই বছর ৯ মাস ২১ দিন পর এমপি রানা কারাগার থেকে মুক্ত

শেয়ার করুন

আদালত সংবাদদাতা ॥
দুই বছর ৯ মাস ২১ দিন পর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ ও দুই যুবলীগ নেতা শামীম-মামুন হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। হাইকোর্টের জামিননামা টাঙ্গাইল আদালতে পৌছায় সোমবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায়। এরপর মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে জামিননামা পৌছায়। এরপর তিনি কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর তার পরিবারের সদস্য ও অনুসারীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেই ঢাকায় উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এদিকে তার জামিনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইল কারাগার এলাকায় পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেলার আবুল বাশার টিনিউজকে জানান, বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল কারাগারে ছিলেন। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের কাগজপত্র পাওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। সকল বিভাগের কাগজপত্র পাওয়ার পর তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

জামিন পাওয়ার পর সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি এখন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ঢাকা যাবো। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করবো। শেখ হাসিনা আমার নেত্রী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা রাজনীতি করেছি এবং টাঙ্গাইলের রাজনীতি শেখ হাসিনার নির্দেশেই হবে।
এদিকে নিহত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের স্ত্রী, মামলার বাদি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাহার আহমেদ তার প্রতিক্রিয়ায় টিনিউজকে বলেন, বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার আস্থা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। ফারুক হত্যার বিচারে তাদের উপযুক্ত শাস্তি হবে। এছাড়া দুই যুবলীগ নেতা হত্যারও যথাযথ বিচার হবে। মায়ের কোল যারা খালি করেছে, সেই হত্যাকারীরা আদালত থেকে জামিন পেলেও খুনির খাতা থেকে তাদের নাম মুছে যাবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস আছে। হত্যাকারীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবেই।

এর আগে সোমবার (৮ জুলাই) টাঙ্গাইলের দুই যুবলীগ নেতা শামীম-মামুন হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সোমবার (৮ জুলাই) এ আদেশ দেন। এর ফলে রানার কারামুক্তিতে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এর আগে হাইকোর্ট এই মামলায় রানাকে জামিন দেন। ওই জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
এই মামলার আগে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায়ও তিনি জামিন পান।
আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর রানা বিগত ২০১৬ সালের (১৮ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন না-মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর বেশকয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিন্ম-আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং বিগত ২০১৬ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) রানা (তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন) ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
তদন্ত চলাকালে বিগত ২০১৪ সালের (১১ আগস্ট) সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ কর্মী আনিসুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিনদফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ড শেষে ওই বছরের (২৭ আগস্ট) টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামী মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হন একই বছরের (২৪ আগস্ট)। তিনি দশদিনের রিমান্ড শেষে (৫ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। উভয় আসামীর জবানবন্দিতে ফারুক আহমদ হত্যাকান্ডে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এই এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলে এই হত্যাকান্ডের সাথে খান পরিবারের চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা প্রথম প্রকাশ পায়। এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে আমানুর রহমান খান রানার অপর ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তদানিন্তন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে প্রকাশ করেন। বিগত ২০১৭ সালের (৬ সেপ্টেম্বর) আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বর্তমানে মামলার সাক্ষীগ্রহণ চলছে।

অপরদিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা শামীম ও মামুন বিগত ২০১২ সালের (১৬ জুলাই) তাদের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি জিডি করেন। এর এক বছর পর বিগত ২০১৩ সালের (৯ জুলাই) নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় গ্রেফতার হন বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন, হিরন মিয়া। তারা আদালতে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এমপি রানার দিক নির্দেশনায় যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে আমানুর রহমান খান রানাকে বাদ দিয়ে তার পিতা আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। আতাউর রহমান খান দলের মনোনয়ন পেয়ে এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ