Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

টাঙ্গাইল-২ আসনে আওয়ামী লীগ চায় শক্তিশালী প্রার্থী ॥ বিএনপির ভরসা টুকু

শেয়ার করুন

ভূঞাপুর/ গোপালপুর সংবাদদাতা ॥
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। বিভিন্ন শুভেচ্ছার পাশাপাশি এ আসনের সম্ভাব্য বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা ব্যানার, ফেস্টুন, নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়সহ বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা উন্নয়নমূলক কাজ, জনসভা, পথসভা, র‌্যালিসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছেন। শুধু নির্বাচনী প্রচারণা নয় জনসাধারণের সুখ-দুঃখের অংশীদারিত্বের প্রমাণ দিতে তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। স্থানীয় ভোটারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা ও তরুণ কর্মীদের কাছে টানছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি করছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান এবং বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টুর নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে চিহ্নিত। টাঙ্গাইল-২ আসনটি গোপালপুর-ভূঞাপুর এ দুইটি উপজেলা নিয়ে একটি সংসদীয় আসন। স্থানীয়রা মনে করেন, এ আসনে প্রার্থীদের ছড়াছড়ি থাকলেও যুদ্ধ হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যেই। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন। তারা নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করছেন।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজনিজ দলের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে অনেকেই জোর লবিং শুরু করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, চা-স্টলগুলোতে রঙিন পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে নিজের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন। গত বন্যায় গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ দিতে গিয়েও অনেকে প্রচারণা চালিয়েছেন। কে-কত বেশি বন্যার্তদের ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে? এ আলোচনাও চা-স্টলগুলোতে যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। এছাড়া একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সৌজন্য সাক্ষাত করে নিজেদের নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। হোটেল রেস্তোরা, হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লায় সংসদ নির্বাচনের আগাম প্রচারণা এখন সর্বত্র। গোপালপুর-ভূঞাপুর উপজেলা সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনি ও গোপালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডুর ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। তবে এই আসনে এমপি পুত্র খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল দৌড়ঝাপ পাড়লেও এখনও সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মাঝে জায়গা করে নিতে পারেনি। ভোটাররা মনে করেন, সালাম পিন্টুর পরিবারের কাছে ভোটের রাজনীতিতে কোন ভাবেই পরিপূর্ন নয় খন্দকার রোমেল।
জানা যায়, গোপলপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন এবং ভূঞাপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসন গঠিত। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এই আসনের গোপলপুর উপজেলায় ভোটার ১৯৮৯৬৮ জন (পুরুষ ৯৮৬৯৬, মহিলা ১০০২৭২) এবং ভূঞাপুর উপজেলায় ভোটার ১৩৬৮২৮ জন (পুরুষ ৭০১৮৭, মহিলা ৬৮৪৪১) মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৬ জন। টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে হাতেম আলী তালুকদার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালের জাতীয় নির্বাচনে আফাজ উদ্দিন ফকির বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে শামছুল হক তালুকদার ছানু এবং ১৯৮৮ সালে জাসদের আব্দুল মতিন হিরু এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সাবেক শিক্ষা ও শিল্প উপমন্ত্রী বর্তমানে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃতুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান রাজনীতিক হাতেম আলী তালুকদারকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম অর্থ সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগের টিকেটে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টু দুই হাজার ২৭৪ ভোটের ব্যবধানে খন্দকার আসাদুজ্জামানকে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারেরমত নির্বাচিত হয়ে প্রথমে শিক্ষা উপমন্ত্রী এবং পরে শিল্প উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অ্যাডভোকেট আব্দুস ছালাম পিন্টুর ছোট ভাই কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে খন্দকার আসাদুজ্জামান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজ বাঙ্গালকে (সাইকেল প্রতীক) বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে খন্দকার আসাদুজ্জামান তৃতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জানা গেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য খন্দকার আসাদুজ্জামান বয়সের ভারে ন্যূব্জ। দীর্ঘদিন ধরে অসুুুস্থ থাকায় তিনি নির্বাচনী এলাকায় সময় দিতে পারছেন না। তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে দলীয় নানা কাজে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান ছোট মনি। গ্রেনেট হামলা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অন্যতম আসামী সালাম পিন্টুর সকল ষড়যন্ত্র ও সহিংস রাজনীতি মোকাবেলায় তানভীর হাসান ছোট মনিকে প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া আওয়ামী ঘরাণার তরুণ নেতৃত্বের বিশাল অংশ এখন তানভীর হাসান ছোট মনির অনুসারী। দলের সাংগঠনিক কর্মকান্ড ও সরকারের নানাবিধ উন্নয়নে শরিক হয়ে তিনি দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছেও তানভীর হাসান ছোট মনি একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব- কাছের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি গত বন্যায় ও শীতে মানুষের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন। আওয়ামী লীগের কর্মীসমর্থকরা মনে করেন, এ আসনে বিএনপির সালাম পিন্টুর পরিবারকে মোকাবেলা করার জন্য ছোট মনির মতো নেতা প্রয়োজন। মনোনয়ন প্রত্যাশী তানভীর হাসান ছোট মনির বলেন, এলাকার নদী ভাঙন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও তাদের চাহিদা অনুযায়ি আমি জনগনের পাশে থেকে সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছি। জনগন এই আসনে আমাকে চায়। তাই জনগনের প্রত্যাশী পূরণে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ২০৪১ বাস্তবায়নে কাজ করতে পারবো।
এ আসনে গোপালপুর উপজেলা পরিষদের দুইবারের সফল চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু দলের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় কাজ করে চলেছেন। ক্লিন ইমেজের মানুষ হিসেবে তিনি এলাকায় পরিচিত। ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে নেতাকর্মীদের মাঝে তাকে নিয়ে আগ্রহ আছে। ইউনুস ইসলাম তালুকদার ঠান্ডু বলেন, অনেক দিনের পরীক্ষিত মানুষ আমি। জনগন আমাকে চিনে এবং জানে। জনগনকে পাশে নিয়ে আমি কাজ করে যাচ্ছি। দুইবার আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জনগন আমাকে ভোট দিয়েছে বলেই আমি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
বর্তমান এমপি খন্দকার আসাদুজ্জামানের অবর্তমানে ব্যাংকার ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। খন্দকার আসাদুজ্জামান বয়সের ভারে ন্যূব্জ ও অসুস্থ থাকায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তাঁর স্থলে ছেলে খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেলকে প্রার্থী করছেন বলে দলীয় ও পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ কারণে তিনি এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী আব্দুস ছালাম পিন্টু জেলহাজতে থাকায় আইনি জটিলতায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলে তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ আসনে প্রার্থী হবেন বলে দলীয় ও তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা বলেন, এই আসন বিএনপির। সরকারের জুলুম নির্যাতনের পরও এ আসনে বিএনপির জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া জাতীয় পার্টির (এরশাদ) শামছুল হক তালুকদার ছানু এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ