Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সমস্যার যেন অন্ত নেই

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
চিকিৎসা ক্ষেত্রে জেলাবাসীর আস্থার জায়গা টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সমস্যার যেন অন্ত নেই। বিভিন্ন সমস্যার কারণে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরের পরিবেশ থাকে নোংরা। গাইনী বিভাগে কারো সন্তান হলে আয়ারা বাধ্যতামূলক বকশিস নিয়ে থাকেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয় ডাক্তারের পছন্দের ক্লিনিকে। জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট ছাড়াও রয়েছে দালালদের দৌড়াত্ম। আর দালালদের খপ্পরে পড়ে প্রতারিত হচ্ছেন রোগীরা। এসব দেখার যেন কেউ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নীচ তলায় নামাজের জায়গাটি ময়লায় ভরা। বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝে, বেডের নীচে আবর্জনা জমে আছে। বিশেষ করে হাসপাতালের টয়লেটগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। সেখানে পানি আর বদ্না ছাড়া প্রয়োজনীয় আর কিছু নেই। নোংরায় দম বন্ধ হয়ে আসার মত অবস্থা। আবার কোন টয়লেটে দরজা থাকলেও তা আটকানোর ব্যবস্থা নেই। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় রোগীদের। এসব দেখার যেন কেউ নেই। নীচ তলায় গাইনী বিভাগের অপারেশন থিয়েটারের সামনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। সেই ভাগাড়ে পানি জমে আরো বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়ে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ডাক্তারদের মতে- এমন নোংরা জায়গা থেকে অসংখ্য রোগের জীবানু সৃষ্টি হয়। এই দুর্গন্ধের মধ্যে রোগীর স্বজনরা অপারেশন থিয়েটারের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে কথা হয় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মোকছেদ আলী নামে এক ব্যক্তির সাথে। ভিতরে তার স্ত্রীর অপারেশন হচ্ছে। অন্যদের মত তিনিও দুর্গন্ধের মধ্যে বাইরে অপেক্ষা করছেন। এমন দুর্গন্ধের মধ্যে কীভাবে দাঁড়িয়ে আছেন জানতে চাইলে তিনি টিনিউজকে বলেন, খুব কষ্ট হলেও বাধ্য হয়েই এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কী আর করার। এসবতো আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোখে পড়বে না।
গাইনী বিভাগে গিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনরা টিনিউজকে জানায়, বাধ্যতামূলক বকশিস নেয়ার বিষয়টি। সেখানে আয়াদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। গর্ভবতী মায়েরা এবং তাদের লোকজন এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। কোন মা সন্তান প্রসব করলে বাধ্যতামূলক বকশিস গুনতে হয়। আয়ারা বকশিস ছাড়া সদ্যভূমিষ্ট সন্তানকে তার মা কিংবা স্বজনদের কাছে দিতে চান না। আয়ারা ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বকশিস নিয়ে তবেই নবজাতককে তার স্বজনদের কোলে তুলে দেন। কালিহাতীর সহদেবপুর থেকে আসা জবেলা বেগম টিনিউজকে বলেন, টাকা ছাড়া আয়ারা বাচ্চাটাকে আমাদের কোলেই দিলো না। প্রথমে ৫০০ টাকা দিছিলাম, নেয় নাই। পড়ে আরো ২০০ টাকা নিয়া বাচ্চা কোলে দিছে। আমাদের বাচ্চা মইরা যায়, অথচ আয়ারা টাকা ছাড়া বাচ্চাই দেয় না। এইটা কোন কথা হইল? জবেলা বেগম টিনিউজকে আরও জানান, তার সামনে সদ্যভূমিস্ট সন্তান আটকে রেখে আরেক রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেয় আয়ারা। টাকা পাওয়ার পর নবজাতককে স্বজনদের কোলে দেয়। ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী থেকে আসা রুমি আক্তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তিনি টিনিউজকে বলেন, আয়ারা বকশিস চাইলো। প্রথমে ৩০০ টাকা দিছিলাম, নেয় নাই। পরে ৫০০ টাকা দেয়ার পর বাচ্চা দেয়।
এই বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স রাশেদা আক্তার টিনিউজকে বলেন, কেউ দুই/একশ টাকা খুশি হয়ে বকশিস দিলে সেটা আয়ারা নেয়। কারো কাছ থেকে জোর করে এত বেশি টাকা নেয়ার বিষয়টি আমি বলতে পারব না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ ডাক্তারই তাদের পছন্দের ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যে ডাক্তার যে ক্লিনিকে বসেন সেই ডাক্তার সেই ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর জন্য স্লিপ ধরিয়ে দেন রোগীর হাতে। এজন্য থাকে বিশেষ ছাড়ের অফার। ডাক্তারদের রুমে গিয়ে টেবিলের উপর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের প্যাডও দেখা যায়। ভূঞাপুরের মাহিন খান নামে এক অভিভাবক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি তার ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে এসে এমন পরিস্থিতির শিকার হন বলে জানান।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহা টিনিউজকে বলেন, বিগত ১৯৯৬ সালে এটি ১৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু সে অনুযায়ী জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে ১৫০ শয্যার অবকাঠামো দিয়েই চলছে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। অথচ প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে গড়ে ৬০০ জন। ২৫০ শয্যার অন্যসব হাসপাতালে ৭৮ জন ডাক্তার থাকলেও এখানে ডাক্তারের পদ আছে ৫৭টি। এরমধ্যে আবার ১৭টি পদ শুন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এখানে নার্স রয়েছে ২০০ জন। রোগীদের তুলনায় যা একেবারেই কম। আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ পেয়ে ৪র্থ শ্রেণীর ১০০ জন লোক হাসপাতালে কাজ করছে। ৪র্থ শ্রেণীর আরো ১৬টি পদ শুন্য রয়েছে। তিনি টিনিউজকে আরও বলেন, আমাদের ডিজিটাল এক্সরে মেশিন আছে, কিন্তু ফিল্ম না থাকায় গত তিনমাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য কোলোরি মিটার কাজ করছে না ছয়মাস হলো। ওয়ার্ডের অভাবে চোখের মেশিনও ছয়মাস ধরে আর চালানো যাচ্ছে না। এত সমস্যার পরেও আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য। তবে ডাক্তারদের পছন্দের ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া মোটেই উচিৎ নয়। এছাড়া গাইনী বিভাগে জোর করে কিংবা খুশি হয়ে দিলেও কোন বকশিস নেয়া উচিৎ হয়নি। এটা অন্যায়। এসব বিষয়ে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহীতা ফোরামের সভাপতি হারুন অর রশিদ টিনিউজকে বলেন, বিভিন্ন সমস্যার কারণে এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। জানি অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরেও কাজের ক্ষেত্রে সবাইকে আরো আন্তরিক হতে হবে। ডাক্তাররা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে কিনা কর্তৃপক্ষকে সেটিও নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ