Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের চরম দুর্ভোগ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে সমস্যার শেষ নেই। ডাক্তারসহ অন্যান্য জনবল সংকটের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসা কার্যক্রম। তারপরেও যেসব ডাক্তার রয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। তারা সময়মত হাসপাতালে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে অসংখ্য লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ডাক্তার দেখানোর জন্য বহির্বিভাগে তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এ নিয়ে রোগীদের মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই। সরেজমিনে গিয়ে রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের ভোগান্তির কথা।
বহির্বিভাগে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার রোগী আসেন ডাক্তার দেখানোর জন্য। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে রোগী দেখার কথা থাকলেও ডাক্তাররা আসেন অনেক দেড়িতে। কক্ষ রেডি করতে পিয়নরাও আসেন নির্ধারিত সময়ের প্রায় একঘন্টা পর। আর অধিকাংশ সময়ই ডাক্তাররা আসেন বেলা ১০টার দিকে। বহির্বিভাগের টিকেট কাউন্টারও খোলা হয় নির্ধারিত সময়ের বেশ পরে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বহির্বিভাগের কোন ডাক্তারকে আসতে দেখা যায়নি। জানা গেলো- এটাই প্রতিদিনের চিত্র। পৌনে ৯টায় রুমের তালা খুলেন পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম। এতো দেড়িতে কেন- জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলমের সহজ উত্তর- এতো আগে আইসা কী করমু? ডাক্তাররাতো সাড়ে ৯টা, ১০টার আগে আসেন না। সকাল ৯টায় বহির্বিভাগের ২০৭ নং কক্ষে ঢুকে দেখা যায়- ডাক্তার নেই। সুইটি আক্তার নামে এক মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট বসে স্মার্টফোনে ফেসবুক চালাচ্ছেন। তিনিও জানালেন, ডাক্তাররা সাধারণত সাড়ে ৯টা, ১০টার আগে আসেন না। বহির্বিভাগে ডাক্তাররা বিলম্বে এলেও জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সকাল ৮টা থেকেই রোগীরা আসতে শুরু করেন। ডাক্তাররা দেড়িতে আসায় বাইরে রোগীদের প্রচন্ড ভীড় লেগে যায়। লম্বা লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাদের। আর ডাক্তাররা দুই-আড়াই ঘন্টা পরে এসে যখন রোগী দেখা শুরু করেন তখন তারা রোগীর সাথে কথা বলারও সময় পান না। রোগীরা তাদের সমস্যার কথা বলার আগেই কোনমতে কাজ শেষ করেন ডাক্তাররা।
নাগরপুর থেকে আসা গিয়াস উদ্দিন নামে এক রোগী টিনিউজকে বলেন, ডাক্তাররা যদি যথাসময়ে রোগী দেখা শুরু করতেন তাহলে এতো চাপ থাকতো না। রোগীরাও তাদের সমস্যার কথা বলতে পারতেন আর ডাক্তাররাও সময় নিয়ে রোগী দেখে সঠিকভাবে চিকিৎসা দিতে পারতেন। আসলে তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এছাড়া এই হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগও পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত (৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দেলদুয়ারের বাবুপুর গ্রামের একাব্বর আলীর স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫০) জ্বর ও বমি নিয়ে ভর্তি হন এই হাসপাতালে। বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি মারা যান। নিহতের ছেলে রফিকুল ইসলামের অভিযোগ- ডাক্তারের অবহেলায়ই তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষোভের সাথে তিনি বলেন- আমার মায়ের যখন গুরুতর অবস্থা তখন সেখানে কোন ডাক্তার ছিলেন না। সঠিক সময়ে সঠিক ট্রিটমেন্ট পেলে হয়তোবা আমার মাকে হারাতে হতো না। গত (১৬ জুলাই) এই হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় একজন সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর ভ্যাকসিন থাকা সত্বেও কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীকে ভ্যাকসিন দেননি। ফলে ওই রোগীর মৃত্যু হয়। রোগীর নাম আবু সাঈদ। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার চরভাবলা গ্রামে। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার মনিরা আফরোজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে তার বিচারের দাবিতে গত (২১ জুলাই) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম শান্ত। শহিদুল কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য-সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
এসব বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহা টিনিউজকে জানান, প্রত্যেকেরই সময় মেনে দায়িত্ব পালন করা উচিৎ। মানুষ এখান থেকে ভাল সেবা পাচ্ছে। আমরাও সাধ্যমত চেষ্টা করছি আরো ভাল সেবা দিতে। আসলে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তাছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রচুর রোগী আসে। ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি আমার জানা নেই।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহীতা ফোরামের সভাপতি হারুন অর রশিদ টিনিউজকে বলেন, একদিকে ডাক্তারের অপ্রতুলতা, অন্যদিকে প্রতিদিন রোগী থাকে নির্ধারিত সংখ্যার কয়েকগুন বেশি। এছাড়াও বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে এখানে। তারপরও ডাক্তাররা আরেকটু সচেতন হয়ে কাজ করলে আরো ভাল সেবা আশা করা যাবে। সীমিত সম্পদ নিয়েই সবাইকে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ