টাঙ্গাইলে ১৮জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দাখিল

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে মানবপাচার মামলায় ১৮জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (৩০ জুন) র‌্যাব টাঙ্গাইল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলাসুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৫ সালের (১২ মার্চ) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী গ্রামের ফজলু ও আনিছুর রহমান র‌্যাবের কাছে একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগত্রে তারা জানান, তাদের ছেলে জাহাঙ্গীর ও সোহেলকে মালয়েশিয়া পাঠানোর নাম করে চৌবাড়িয়া ইছাপুর গ্রামের শওকত, রুবেল, শহিদুল ও ইউসুফ অবৈধভাবে কক্সবাজার হতে সাগর পথে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় পাচার করে। তারপর সাগরের মধ্যে ভাসিয়ে তাদের মারপিট করে কান্না শুনিয়ে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা করে দাবি করে। এ ঘটনায় টাঙ্গাইল র‌্যাবের তৎকালীন কমান্ডার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী মামলা তদন্ত করে অবৈধভাবে কক্সবাজার হতে সাগর পথে ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে উখিয়া থেকে তিনজনকে আটক করেন ও মানব পাচার করার সময় ১২জনকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে র‌্যাব তাদের অপর দুই সহযোগীকে ঢাকা থেকে আটক করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ১৮জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- রুবেল, শহিদুল ইসলাম, আবু মোহাম্মদ, পিন্টু আলী, আনোয়ার ইসলাম, মাহমুদল হক, হামিদুল হক, কামাল ডাকাত, ইউনুছ আলী, শওকত আলী, বাপ্পী বাকুইল্লাহ, আব্দুল করিম, মনসুর, আবুল কালাম, আবদুল গফুর, বেলাল, সুরত আলম, ছৈয়দ আকবর ও সাবু।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পাচারকারীরা টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিদেশে পাঠারোর কথা বলে কক্সবাজারের টেকনাফে নিয়ে আসে। টেকনাফ থেকে ধাপে ধাপে তাদের মালয়েশিয়াগামী মাছ ধরার ট্রলারে উঠায়। ট্রলারের উঠানোর পর থেকেই যাত্রীদের বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতন ও অনাহারে যাত্রীদের মধ্যে কোন যাত্রী গুতর অসুস্থ বা মৃত্যুবরণ করলে তাদের সাগরে ছুড়ে ফেলা হয়। মালয়েশিয়ার সাগর তীরবর্তী অঞ্চলের টর্চার সেলে নিয়ে সেখানে রেখে বাংলাদেশে থাকা তাদের আত্মীয়স্বজনদের ফোন করে, সোশ্যাল মিডিয়ার মেসেঞ্জার, ভাইবার বা ইমোর মাধ্যমে ভিডিও কল করে তাদের মারধরের ভিডিও দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে টাকা আদায় করতো। যাদের আত্বীয়স্বজন টাকা দিতে ব্যর্থ হতো তাদের অনেকেকেই সাগরে ছুড়ে ফেলতো ও শারীরিক নির্যাতন করত। র‌্যাব দীর্ঘদিন তদন্ত করে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ এর ৭ ও ৮ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ