টাঙ্গাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উত্তেজনা ॥ সাড়ে তিন ঘন্টা পর শুরু

শেয়ার করুন

মাসুদ আব্দুল্লাহ ॥
টাঙ্গাইলে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাডেমিক ভবন উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের মধ্যে উত্তেজনা ও হযবরলের সৃষ্টি হয়। ফলে রোববার (২৭ অক্টোবর) বেলা ১১টার সময় উদ্বোধন অনুষ্ঠান নির্ধারণের সময় থাকলেও দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘন্টা পরে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ব্যানারে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষের নাম না থাকায় বিক্ষুব্দ হয়ে কয়েকজন ডাক্তার ওই ব্যানার টেনে নামিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় সভাস্থলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। ফলে সভাস্থলের বাইরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসব ঘটনা শেষে অনুষ্ঠানের অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বেলা আড়াইটার সময় অনুষ্ঠান মঞ্চে বসেন।
জানা গেছে, রোববার (২৭ অক্টোবর) সকালে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একাডেমিক ভবন উদ্বোধনের ব্যানারে নাম নিয়ে ডাক্তারদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রীয় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডাক্তার এমএ আজিজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডাক্তার কামরুল হাসান খান, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নাম ব্যানারে ক্রমানুযায়ী না থাকায় চিকিৎসকদের একটি গ্রুপ এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্চের ব্যানার খুলে ফেলেন। ফলে সভাস্থলে ব্যাপক উত্তেজনার দেখা দেয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেলা ১১টার সময় টাঙ্গাইল এসে সার্কিট হাউজে অবস্থান নেন। এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে সার্কিট হাউজ ও মেডিকেল কলেজের একাডেমিক ভবনে দফায় দফায় তিন এমপি, চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলোচনায় বসে। দুইবার করে ব্যানার পরিবর্তন করা হয়। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে আলোচনার ভিত্তিতে ব্যানারের নামের বিষয়টি সমঝোতা হলে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার হলরুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ শেষের দিকে। এছাড়াও এখানে পৃথক জেলা হাসপাতাল রয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের স্বল্পতা রয়েছে। তাই স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগ করা হবে। দ্রুত অল্প সময়েই সাড়ে চার হাজার নতুন ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হবে। বাকি সাড়ে ৫ হাজার ডাক্তার আগামী বছর নিয়োগ করা হবে। আশা করি এই নিয়োগ হয়ে গেলে সারাদেশে এই স্বল্পতা কমে যাবে। জনবল না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। প্যারামেডিকেল ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ চলমান রয়েছে। এসব নিয়োগ হয়ে গেলে আর সমস্যা থাকবে না। শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও দ্রুত জনবল নিয়োগ দেয়া হবে।
হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, আহসানুল ইমলাম টিটু এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনি এমপি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, কেন্দ্রীয় স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডাক্তার এমএ আজিজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডাক্তার কামরুল হাসান খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচলক ডা. এনায়েত হোসেন, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক নুরুল আমীন মিঞা, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন প্রমুখ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ