Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

টাঙ্গাইলে ভোটার প্রতি ৮ টাকার স্থলে ৫ হাজার টাকা ব্যয়

শেয়ার করুন

এম কবির ॥
মনোনয়ন পেতেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছেন প্রার্থীরা, ভোটার প্রতি ব্যয়সীমা ৮ টাকা, একজন প্রার্থীর সর্বোচ্চ ২৫ লাখ, নির্বাচনী অর্থনীতির আকার ১২ হাজার কোটি টাকা। দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে যে ব্যয়সীমা দেয়া আছে, ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্যও তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেন। নিয়ম অনুসারে একজন প্রার্থী ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ৮ টাকা ব্যয় করতে পারেন।কিন্তু টাঙ্গাইল জেলার কোনো কোনো এলাকায় ভোটার প্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। ফলে নির্বাচনে ব্যয় সীমা একটি হাস্যকর বিষয়। কোনো প্রার্থীই এটি মানছেন না। তবে কাগজে-কলমে প্রার্থীরা সীমার মধ্যেই ব্যয় দেখাচ্ছেন। বাকি অংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় বা কালো টাকা। অর্থনীতির আকারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্রমেই নির্বাচনে কালো টাকার বিস্তার বাড়ছে। নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা আগে থেকেই টাকা সংগ্রহ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, যার বেশিরভাগই কালো টাকা। এভাবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কালো টাকার বিস্তার ঘটছে।
দেশের নির্বাচনে কী পরিমাণ ব্যয় হয়, সে ব্যাপারে সরকারি কোনো গবেষণা নেই। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার গবেষণা বলছে, নির্বাচনী অর্থনীতির আকার ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতি নির্বাচনেই এ হার ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। মনোনয়ন পাওয়ার আগেই বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেন প্রার্থীরা। মনোনয়ন পেতে প্রকাশ্য ও গোপনে নানা ধরনের তৎপরতা চলে। এক্ষেত্রে দলের শীর্ষ পর্যায়ে দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। উন্নয়নের জন্য ব্যক্তি বা দলীয় পরিসরে অর্থায়ন। এছাড়াও ক্লাব, সমিতি, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে দিতে হচ্ছে অর্থ। এক্ষেত্রে প্রার্থীর পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে দলীয় পদ পেতে আগ্রহীরাও ব্যয় করছেন বড় অঙ্কের অর্থ। সবকিছু মিলে নির্বাচনকে ঘিরে টাঙ্গাইলের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিশাল অঙ্কের টাকার প্রবাহ বাড়ছে। এর প্রায় সবই কালো টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের ব্যয় সীমার মধ্যে রাখতে অডিট পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৪৪বি (৩-এ) উপধারা অনুসারে বর্তমানে ভোটার প্রতি প্রার্থীদের ব্যয় ৮ টাকা। তবে একটি আসনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করতে পারবেন না। বিভিন্ন সংস্থার জরিপ বলছে, নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ব্যয়ের সীমা প্রার্থীরা মানেন না। ভোটার প্রতি প্রার্থীরা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করে থাকেন। সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয়ের উৎসের একটি বিবরণী দাখিল করা বাধ্যতামূলক। নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব তফসিলি ব্যাংকে সংরক্ষণ করাও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী নির্ধারিত ফরমে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাখিল করতে হয়। আর এসব বিষয় শুধু আইনেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে এটি কেউ মেনে চলেন না। ঘোষণায় যে অর্থ ব্যয় হয় সেগুলোই সাদা টাকা। এর বাইরে প্রায় সবই কালো টাকা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ব্যয় ৮ টাকা। প্রতি আসনে ১০ জন করে প্রার্থী হলেও মোট নির্বাচনী ব্যয় হওয়া উচিত ৯০০ কোটি টাকার মধ্যে। কোনোভাবেই তা হাজার কোটি টাকার বাইরে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাবে নির্বাচনী অর্থনীতির আকার ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এক্ষেত্রে সব প্রার্থী সমানভাবে ব্যয় করতে পারেন না। ফলে বড় দুই জোটের প্রার্থীরা বড় অঙ্কের ব্যয় করে থাকেন। তারা কেউ কেউ ২৫ লাখের পরিবর্তে ২৫ কোটি টাকাও ব্যয় করে থাকেন। খুব সীমিত সময়ে এ অর্থ ব্যয় হওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতিতেও এর প্রভাব পড়ে। নির্বাচন শেষে বেড়ে যায় মূল্যস্ফীতি। বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেয়ায় ভোটারদের নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে তৎপরতা চলছে। এসব কাজে প্রার্থীরা এখন পানির মতো টাকা খরচ করছেন। এসব ব্যয়ের বড় অংশই কালো টাকা। আর যারা নির্বাচন করছেন, তারা দীর্ঘদিন থেকে টাকা সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ঘুষ, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, চোরাকারবারি, নামে-বেনামে ব্যাংক ঋণ এবং শেয়ারবাজারকে টাকা আয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। নানা মাধ্যমে এর একটি অংশ নির্বাচনে ব্যয় হচ্ছে। ব্যয়ের ধরনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। আগে প্রার্থীদের ব্যয়ের বড় অংশ খাদ্য খাতে যেত। বর্তমানে নগদ টাকার বিতরণ বেড়েছে। এছাড়া এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভোটারদের অর্থ দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ