টাঙ্গাইলে বিরোধপূর্ন জমিতে জোরপূর্বক ঘর তোলার চেষ্টা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নে বিরোধপূর্ন ৩৩ শতাংশ জমিতে একপক্ষ জোরপূর্বক ঘর উঠানোর চেষ্টা করলে, জমির বর্তমান ভোগ দখলকারীরা বাধা দিলে তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। বিরোধপূর্ন এই জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ এড়াতে বর্তমানে টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জমির বিরোধ নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছর ধরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া মৌজার এসএ খতিয়ান নং-১৬৯, দাগ নং-৩৭৭৬ এর ৩৩ শতাংশ জায়গাসহ মোট ৭২ শতাংশ জমি পৈত্রিক সূত্রে মোজাম্মেল হক, পিতা মৃত নুরুল হক, হুগড়া চেয়ারম্যান পাড়া ভোগ দখল করে আসছে। ইতির্পূবে জায়গাটি নিয়ে একই এলাকার মজিবর রহমান বাদী হয়ে বিগত ১৯৯৯ সালে একটি বাটোয়ার মামলা (মামলা নং ১৩৩/১৯৯৯) করেন। বাটোয়ারা মামলাটি বিগত ২০০৩ সালে আদালত খারিজ করে দেয়। ফলে জমিটি মোজাম্মেল হকের পরিবারের দখলে রয়ে যায়। গত (৩ জানুয়ারী) এই ৩৩ শতাংশ জমির উপর জমির অন্য দাবীদার একই গ্রামের ফজল হক, আররাফ আলী, আরজানসহ ১৫ জনের একটি দল ঘর তুলতে যায়। ঘটনা জানতে পেরে মোজাম্মেল হক ও তার পরিবারের লোকজন তাদের বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা মোজাম্মেল হকের বড় ভাই সাইফুল ইসলাকে(৭৬) মেরে রক্তাক্ত জখম করে। তার কাছে থাকা এক হাজার পাঁচশত টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় তারা। এছাড়া একই পরিবারের নাছিমা আক্তার ও মাজেদা বেগমকে মারধর ও পরনের কাপড় ধরে টানা হেচরা করে বলে জানা গেছে।
এই হামলার প্রত্যক্ষদশী স্থানীয় হুগড়া চেয়ারম্যান পাড়ার সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, নিজেদের জমিতে ঘর তুলতে বাঁধা দিলে ফজল হকের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন শাবল, লাঠি নিয়ে সাইফুল ইসলাম, নাছিমা বেগম ও মাজেদা বেগমের উপর হামলা করে। পরে তাদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই।
এ ব্যাপারে গত (৬ জানুয়ারী) টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এই মামলায় রহিমা বেগম, রাবেয়া বেগম ও তাদের মাতা শুমারী বেগমকে গ্রেপ্তার করে। তারা গত (৮ জানুয়ারী) অস্থায়ী ভিত্তিতে জামিন পেয়েছেন। জমির বর্তমান ভোগদখলকারী মোজাম্মেল হক গত (৮ জানুয়ারী) টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন ধরনের নির্মানের উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
এ জমির বিরোধ প্রসঙ্গে স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার মিন্টু মিঞা সাংবাদিকদের জানান, ফজল হক ও তার পরিবারকে ৩৩ শতাংশ জায়গার উপর কোন ধরনের নির্মান কাজ করতে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকিদার পাঠিয়ে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তারা চেয়ারম্যানের নির্দেশ অমান্য করে ঘর তুলতে শুরু করে। খবর পেয়ে সাইফুল ইসলাম বাঁধা দিতে গেলে তাকেসহ তিনজনকে মেরে রক্তাক্ত জখম করা হয়। ইতিপূর্বেও বেশকয়েকবার বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার জন্য বসা হয়েছে, কিন্তু কোন সমাধানে আসা যায়নি।
এ বিষয়ে হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষের সাথে বেশকয়েকবার ইতিপূর্বে সমাধানের জন্য বসা হয়েছে। কিন্তু কোন সমাধানে আসা যায়নি। আমার পূর্বের চেয়ারম্যানরাও বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। তবে আশা করি, বিষয়টির একটি শান্তিপূর্ন সমাধান করা যাবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ