টাঙ্গাইলে ফার্মেসি মালিকরাই ডাক্তার সেজে চিকিৎসা দিচ্ছেন!

শেয়ার করুন

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে কতিপয় ফার্মেসির মালিকরাই ডাক্তার সেজে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেনতেনভাবে চিকিৎসা দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এদের কারণে বাড়ছে উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিক ও মানহীন ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকি। ফার্মেসিগুলো চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের তোয়াক্কা না করেই ওষুধ দিচ্ছেন।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা শহর ও উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন ফার্মেসি মালিকের খোঁজ পাওয়া গেছে যারা ‘ডাক্তার সেজে’ রীতিমতো প্রেসক্রিপশন লিখে দৈনিক শত শত রোগী দেখছেন। নিচ্ছেন ‘ডাক্তারী ফি’। অধিক মাত্রায় ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি কমিশনের লোভে রোগীদের বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট করতে পাঠাচ্ছেন অখ্যাত সব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সরজমিনে দেখা যায়, কয়েক বছর আগে যে সব লোক ছোট ছোট দোকান ভাড়া নিয়ে ওষুধ বিক্রি করতেন। ছিল না কোন কর্মচারী। কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই দোকানগুলো এখন ‘বিশেষজ্ঞ’ ডাক্তারের চেম্বার। প্রতিদিন শতাধিক রোগী দেখছেন তারা। দোকানের আয়তন বেড়েছে কয়েকগুণ। সঙ্গে বেড়েছে কর্মচারীর সংখ্যা। সারাদিন দোকানে আসেন না তারা। কর্মচারীরা দোকান চালায়। বিকেল ৫টার দিকে ফার্মেসির নির্দিষ্ট চেম্বারে রোগী দেখা শুরু করেন তারা, যা চলে রাত অবধি। প্রেসক্রিপশনে লিখছেন পল্লী চিকিৎসক। তারা রোগীদের কাছ থেকে ফিস নেন ৫০-১০০ টাকা। রোগীদের প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট করতে গিয়ে তারা নিজেরাই রোগীদের রক্ত সংগ্রহ করে রেখে দেন। পরে অখ্যাত কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এগুলো পরীক্ষা করে আনেন।
স্থানীয়রা টিনিউজকে জানান, ‘ডাক্তার’ হিসেবে তাদের পরিচয়। যারা এক সময় ওষুধের দোকানে কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। বর্তমানে ফার্মেসি দিয়ে তারা সেজেছেন ‘ডাক্তার’। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা রোগী দেখেন। ফিস নেন ২০০-২৫০ টাকা। তারাও রোগীদের প্রেসক্রিপসন লিখেন। রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠান। ফার্মেসি মালিকদের ‘ডাক্তার সেজে’ চিকিৎসা সেবা দেয়ার বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ টিনিউজকে বলেন, যারা এমন কাজ করছেন, তারা অনৈতিক কাজ করে টাকা হাতাচ্ছেন। প্রতারণা করছেন রোগীদের সাথে। এছাড়া মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন সরল বিশ্বাসী রোগীদের। তবে অনেকে আছেন ছোটখাটো রোগ যেমন- জ্বর, সর্দি, কাশির জন্য কিছু ওষুধ দেন।
এসব বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন শরীফ খান টিনিউজকে বলেন, বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ডাক্তার সেজে কেউ প্রেসক্রিপসন লিখতে পারবেন না। এমনকি প্যাথলজিক্যাল রিপোর্টও করতে পারবেন না। কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেছি। আমরা নিজ উদ্যোগে ড্রাগ লাইসেন্স কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে এ বিষয়ে ফার্মেসিগুলোতে অভিযান পরিচালনা করবো।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ