টাঙ্গাইলে প্রায় পৌনে ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে

শেয়ার করুন

নোমান আব্দুল্লাহ ॥
ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে টাঙ্গাইলে প্রায় সবকয়টি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আর এতে করে বুধবার (১৮ জুলাই) যমুনা নদীর পানিতে বিপসসীমার ৬৮ সে.মি. ধলেশ্বরী নদীর পানি ৮৯ সে.মি. এবং ঝিনাই নদীর পানি ৪৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
আর এই পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ৬টি উপজেলায় নদী তীরবর্তী প্রায় ২৬টি ইউনিয়নের ১০৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আর এতে প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৮০ জন লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া এসব গ্রামের রাস্তা এবং ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে ৬৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। আর নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন ৫ শতাধিক পরিবার। ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেকে গরু-ছাগল ও পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় ২১শ’ লোক আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফলে জেলার ৬টি উপজেলার ২৬ ইউনিয়নের প্রায় ১০৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আর নদী ভাঙনে প্রায় ৫ শতাধিক লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়া ভূঞাপুর উপজেলায় ১৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে পায় ২১শ’ লোক আশ্রয় নিয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যার্তদের মধ্যে ১৬৫ মে.ট্রন চাউল দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২৩৫ মে.টন চাল সংরক্ষণে রয়েছে। বন্যা কবলিত উপজেলাগুলো হলো- গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, নাগরপুর এবং টাঙ্গাইল সদর ও মির্জাপুর। এসব উপজেলার নদী তীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের মানুষ ভাঙন কবলে এবং পানিবন্দি অবস্থার মধ্যে রয়েছে।

১৯১২ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত-
জেলা কৃষি সম্পাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক টিনিউজকে বলেন, বন্যার কারণে জেলায় বোনা আমন ১১৭৫ হেক্টর জমি, রোপা আমন (বীজতলা) ৩৩ হেক্টর, আউশ ৬০৮ হেক্টর এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি ৯৬ হেক্টর জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পেলে আরো ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে ফলেনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
৬৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ-
বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় এবং সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী আসতে না পাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১১টি এবং প্রায় ৫৮টি প্রাইমারি বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পানি আরো বৃদ্ধি পেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলেন টিনিউজকে জানান, জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্ত আব্দুল আজিজ।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোশারফ হোসেন খান টিনিউজকে বলেন, বর্নাতদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ