Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

টাঙ্গাইলে দেবে গেছে রাঙ্গাচিড়া ব্রিজ ॥ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল সদর-কাকুয়া ও বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের রাঙ্গাচিড়া ব্রিজ এবার বন্যার পানির প্রবল চাপে ধসে ভেঙ্গে গেছে। এতে করে বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের সাথে কাকুয়ার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ গ্রামের মানুষ। এলাকার লোকজন ও ছোট ছোট যানবাহন বাঁশের সাকোঁ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলীর তদরকির অভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রিজটি ধসে গেছে। প্রায় দুইমাস হলো ব্রিজটি বন্যার পানির স্রোতে ভেঙ্গে গেলেও এখন পর্যন্ত মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
টাঙ্গাইল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সুত্রে জানা গেছে, বিগত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ২২ লাখ টাকায় টাঙ্গাইল সদর-কাকুয়া ও বঙ্গবন্ধু সেতু সড়কের রাঙ্গাচিড়া ব্রিজের কাজ পায় মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্রিজটির নির্মান কাজের তদারকি ছাড়াও পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ফারুক।
কাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস ছাত্তার আজাদ টিনিউজকে বলেন, বড় একটি সড়কে এখানে ত্রাণের ব্রিজ করা ঠিক হয়নি। ব্রিজের নিচে কোন আরসিসি ছিল না। এ কারণে পানি প্রবল সোতে পুরো ব্রিজটিই ধসে ভেঙ্গে গেছে। সিএনজি চালক রওশন আলী টিনিউজকে বলেন, খুব ঝুঁকির মধ্যে গাড়ি চালাচ্ছি। যে কোন সময় ভেঙ্গে গিয়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ব্রিজটি মেরামতের কোন উদ্যোগই দেখছি না।

ওই ব্রিজের তত্বাবধায়ক সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ফারুক টিনিউজকে বলেন, ব্রিজটির কাজ পেয়েছিল মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন কারণে ব্রিজটি নির্মান করতে অপরাগতা প্রকাশ করে। আমার নিজের গ্রাম বিধায় ওই সময়ের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজটি আমি তদারকি করি। দরপত্রে কোন পাইলিং ছিল না। এ কারণে বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ব্রিজটির নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে দেবে গেছে। এখানে কোন অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ করার কোন প্রশ্নই আসে না।
কাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ টিনিউজকে বলেন, জনগণের দুর্ঘব লাঘবের জন্য ব্যক্তিগত তহবীল থেকে দেবে যাওয়া ওই ব্রিজের উপর বাঁশ ও কাঠের পাটাতন দিয়ে রিক্সা, সিএনজি, অটোরিক্সা, ভ্যানগাড়ি চলাচলের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা করেছি। ইতিমধ্যে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকে নতুন করে ব্রিজ নির্মানের জন্য চিঠি দিয়েছি। তারা দ্রুত সম্ভব ব্রিজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল গনি টিনিউজকে বলেন, বন্যায় যে সমস্ত ত্রাণের ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার তালিকা নেয়া হচ্ছে। এ বছর ব্রিজের টেন্ডার হয়ে গেছে। আগামীতে আমরা অধিকতর গুরুত্বসম্পন্ন স্থানে যেসব ব্রিজ ধসে গেছে সেসব ব্রিজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করে দিব।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন টিনিউজকে বলেন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন থেকে উপজেলায় যে ব্রিজ করা হয় সেখান থেকে এ বছরের মধ্যেই রাঙ্গাচিড়ায় দেবে যাওয়া ব্রিজের স্থানে নতুন করে ব্রিজ করা হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ