টাঙ্গাইলে করোনার তীব্রতা বেড়েই চলছে ॥ আক্রান্ত ৫২৮ জন

শেয়ার করুন

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় শনিবার (২৭ জুন) নতুন করে ২০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৫২৮ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮২ জন। আর মির্জাপুরে ৪, ঘাটাইলে ২, ধনবাড়ীতে ১, দেলদুয়ার ১, টাঙ্গাইল সদরে ১, সখীপুরে ১ ও মধুপুরে ১ জনসহ মোট ১১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, নতুন করে ২০ জনের পজেটিভ আসে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে মির্জাপুরে ১৮, দেলদুয়ারে ১ ও টাঙ্গাইল সদরে ১ জন রয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে মির্জাপুর থানার কনস্টেবল এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের আরেক জন কনস্টেবল রয়েছেন। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলায় একজন হোমিও ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৮০০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৯২ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ৯১ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১৫৮ জনকে। ৮৬৬টি নমুনার রেজাল্ট এখনো পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জেলায় মোট ৫২৮ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। মোট চিকিৎসাধীন রোগী ৩৩৫ জন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ৫২৮ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মির্জাপুরে ১৭৩, টাঙ্গাইল সদরে ৮৮, নাগরপুরে ৩৭, কালিহাতীতে ৩৫, দেলদুয়ারে ৩৪, মধুপুরে ৩২, গোপালপুরে ২৮, ভূঞাপুরে ২৬, ধনবাড়ীতে ২৩, ঘাটাইলে ২২, সখীপুরে ১৮ ও বাসাইলে ১২ জন রয়েছে। এদের মধ্যে ১৭৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। মোট চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৩৫ জন।
এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ১১ জন মারা গিয়েছে। নিহতরা হলো- মির্জাপুরে রেনু বেগম, শামসুল আলম, সমসের আলী, আবু মোতালেব, ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া, টাঙ্গাইল সদরের পৌর শহরের আদালত পাড়ার আলী কমপ্লেক্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাক, দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের সানবাড়ীতে একজন, সখীপুরে পোশাককর্মী আব্দুল হালিম ও মধুপুরে একজন।
এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ১৪০৭৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১২ হাজার ২১১ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১ হাজার ৮৬৭ জন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। শুক্রবার (২৬ জুন) পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৬ হাজার ৪৯১টি এবং মাস্ক ৩ হাজার ৯০৮টি। শুক্রবার (২৬ জুন) পর্যন্ত জেলায় ১ লাখ ৯৯ হাজার পরিবারের মধ্যে ২৫৮০ মে.টন চাল ও ৬৯ হাজার ৮৩৩টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২৩ হাজার ৩২৭ পরিবারকে ৪২ লাখ ৩২ হাজার টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ