Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

টাঙ্গাইলে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক একেএম বজলুর রশীদ তালুকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত একেএম বজলুর রশীদ তালুকদার টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে তিনি মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) এর কার্যক্রমে শিখন কর্মসূচির চলমান প্রকল্পে দুই জেলাতেই বিধিবিধানের বেশকিছু ব্যতয় ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, একনেক থেকে অনুমোদিত মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (৬৪ জেলা) এর শিখন কর্মসূচি ডিপিপি’র নির্দেশনানুযায়ী টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও সহকারী পরিচালক, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো টাঙ্গাইলের যৌথ স্বাক্ষরে একটি চলতি হিসাব সোনালী ব্যাংক লিঃ, কোর্ট বিল্ডিং শাখা, টাঙ্গাইল-এ খোলা হয়। যার চলতি নম্বর- ৬০০৬১০২০০০৭২৫। কিন্তু উক্ত যৌথ হিসাব চলমান থাকা সত্বেও সহকারী পরিচালক একেএম বজলুর রশীদ তালুকদার একই শাখায়, একই শিরোনামে অন্য একটি চলতি ব্যাংক হিসাব খুলেন। যার হিসাব নং-৬০০৬১০২০০১৪৫৬। তিনি এই চলতি হিসাবের ঠিকানা দিয়েছেন তার শ্বশুরবাড়ীর ঠিকানা ক্ষুদিরামপুর, করটিয়া, টাঙ্গাইল। অথচ অফিসের ঠিকানা হচ্ছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা ভবন, আকুরটাকুর পাড়া, টাঙ্গাইল। শেষোক্ত হিসাব নম্বরে উক্ত প্রকল্পের ৩০,১১,৭৯০/- টাকা জমা করেন এবং ৩০,০৯,৭৯০/- টাকা তার একক স্বাক্ষরে উত্তোলন করার তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া এই হিসাব নম্বরের তিনটি চেকের মূলে কোন খাতের টাকা এবং টাকার পরিমাণ কতো- তা লেখা নেই বলেও অভিযোগ করা হয়।
অপর এক অভিযোগে জানা যায়, একেএম বজলুর রশীদ তালুকদার টাঙ্গাইল জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকার পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর অতিরিক্ত দায়িত্ব বিগত ২০১৮ সালের (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকে চলতি বছরের গত (২৮ জুলাই) পর্যন্ত পালন করার সময়ে তিনি মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) এর কার্যক্রমে বেশকিছু ব্যতয় ঘটিয়েছেন। মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের (৬৪ জেলা) এর শিখন কর্মসূচি ডিপিপি’র নির্দেশনানুযায়ী সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সহকারী পরিচালক, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, সিরাজগঞ্জের যৌথ স্বাক্ষরে একটি চলতি হিসাব সোনালী ব্যাংক লিঃ, কোর্ট ভবন শাখা, সিরাজগঞ্জে-এ খোলা হয়। যার নম্বর চলতি-৪২১৯২০২০০০৫৪৯। কিন্তু উক্ত যৌথ হিসাব চলমান থাকা সত্বেও সহকারী পরিচালক একেএম বজলুর রশীদ তালুকদার সোনালী ব্যাংক লিঃ, সিরাজগঞ্জ প্রধান শাখায়, একই শিরোনামে তার একক স্বাক্ষরে অন্য একটি চলতি হিসাব খুলেন। যার হিসাব নং-৪২১৫০০২০০১০১৮। উক্ত হিসাব নম্বরে উক্ত প্রকল্পের ৫৮,০৭,৩০৬/- টাকা তার একক স্বাক্ষরে লেনদেন করার তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলা অফিসের কম্পিউটার ও ফার্নিচার সেখানে না পাঠিয়ে টাঙ্গাইল অফিসে রেখে নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পিপিআর অনুযায়ী ২৫ হাজার টাকার উর্ধ্বে এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বছরে ২০ লাখ টাকার মধ্যে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের বেলায় স্পট কোটেশন প্রক্রিয়া অবলম্বন করার কথা। কিন্তু তিনি দুটি উপজেলায় ১,৮৪,৫০০ টাকা করে শিক্ষক প্রশিক্ষণের উপকরণ ক্রয় করার বেলায় উক্ত আর্থিক বিধি অমান্য করেছেন।
সম্প্রতি সহকারী পরিচালক একেএম বজলুর রশীদ তালুকদারকে টাঙ্গাইল জেলা থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলায় বদলী করা হয় এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব পান শরীয়তপুর জেলা। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মাথায় তিনি পূণরায় প্রভাব খাটিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইলে বদলী হয়ে এসে পূর্বের দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার তৎপরতায় মেতে উঠেছেন।
উপরোক্ত বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বর্তমান সহকারী পরিচালক হুমায়ুন কবীর সরদার সাংবাদিকদের জানান, তিনি চলতি বছরের গত (২৫ জুলাই) যোগদান করেছেন। এরপর তিনি অফিসের বেশকিছু গুরুতর বেআইনী কার্যকলাপের তথ্য পান। যা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মহোদয়কে লিখিতভাবে অবহিত করেন। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মহোদয়কে কপি দিয়েছেন। এ বিষয়ে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
জানা যায়, সাবেক সহকারী পরিচালক অফিসের কম্পিউটার তার নিজস্ব বাসভবনে রেখে ব্যবহার করতেন। কোন তথ্য, ফাইলপত্র তার অফিস সহকারীকে জানতে দিতেন না। ফলে অফিস সহকারীকে কর্তৃপক্ষ প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করেন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল অফিসের অফিস সহকারী কথা বলতে রাজী হননি।
টাঙ্গাইল উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সাবেক সহকারী পরিচালক একেএম বজলুর রশীদ তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি উপরোক্ত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে জানান।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এসব বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ