Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

টাঙ্গাইলে ঈদ বকশিশের নামে চলছে নীরব চাঁদাবাজি

শেয়ার করুন

জাহিদ হাসান ॥
ঈদ যতই সামনে ঘনিয়ে আসছে টাঙ্গাইলে ততই চলছে ঈদ বকশিশ প্রতিযোগিতা। ঈদ বকশিশের আরেক নাম ঈদের উপরি আয়। আসলে এটা এক ধরনের নীরব চাঁদাবাজি। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার কাছে এটা এক মারাত্মক আতঙ্ক। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে ক্যাডার, মাস্তান, কাস্টমস, ইনকামট্যাক্স, ভ্যাট, গ্যাস, বিদ্যুতসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের কতিপয় ব্যক্তি ও কর্মচারীরা এই ঈদ বকশিশ নামের নীরব চাঁদাবাজি নিয়ে এখন মহাব্যস্ত। ঈদের এই ক’দিনে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষরাই হচ্ছেন তাদের টার্গেট। এ ধরনের ঝামেলা এড়াতে অনেকেই এড়িয়ে চলছেন। ঈদ এলেই এই উপরি আদায়ের জন্য চাঁদাবাজির নামে বকশিশ আদায়ের এই মৌসুমি চাঁদাবাজির ঘটনাটি অনেকটাই ওপেন সিক্রেট।
টাঙ্গাইলের বেশকয়েকজন ব্যবসায়ীরা টিনিউজকে বলেন, রাজনৈতিক নেতা, ক্যাডার মাস্তানদের চাঁদা আদায়ের অজুহাত নানা ধরনের। কখনও ঈদ বকশিশের জন্য টেলিফোন করেন। মামা, চাচা বা ভাইজান সম্বোধন করে বলে ঈদ করাবেন না? নরম কথায় কাজ না হলে গরম কথায় ভয়ভীতি দেখানো হয়। যেই ব্যবসায়ী যত বড় তার কাছে বকশিশ বা চাঁদার অংকের হাঁকডাক পড়ে তত বেশি। যেই রাজনীতিক, ক্যাডার, মাস্তান যত বড় তার চাঁদাবাজির নজরানাও তত বড়। ব্যবসায়ীদের অনেকেই ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে কম বেশি যাই হোক একটা অংকের টাকার সমঝোতায় এসে মিটমাট করার চেষ্টা করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করে হাঁফ ছাড়েন বলে জানা গেছে।
তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, সেবাদানকারী বিভিন্ন সংস্থাগুলো এই উপরি বা বকশিশের নামে চাঁদাবাজির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। রোগ বুঝে যেমন ওষুধ, তেমনি কার কাছে উপরি বা বকশিশ চাইতে হবে তা তাদের জানা। আর যদি কেউ মামলা মোকদ্দমা কিংবা কোন ঝামেলায় থাকে তাহলে তাকে নানা ধরনের প্রলোভন বা ভয়ভীতি দেখানো হয়। কাস্টমস, ইনকামট্যাক্স, ভ্যাট, বিদ্যুত, গ্যাসের মতো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যান এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। সারা বছরের সেবাদানের ওসুল তোলার জন্য একথা সেকথায় বলে অনুনয় বিনয় আবদারের সুরে আসল কথাটা বলেন, ‘আমরা ঈদের সময়ে পেয়েই থাকি’।
সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কতিপয় পুলিশ, কাস্টমস, ইনকামট্যাক্স, ভ্যাটের কর্মকর্তাদের সুর আবার একটু ঝাঁঝালো। তাদের ঝাঁঝালো সুরে থাকে ফাঁসিয়ে দেয়ার মতো প্রচ্ছন্ন হুমকির ইঙ্গিত। ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার, মাস্তানরা সবসময়ই ঈদ বকশিশের নামে বাড়তি সুবিধা পায়। অবস্থা বেগতিক হলে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থানে সমিতি সংগঠনের নামে ফান্ড করে চাঁদাবাজির দাবি মিটাতে হচ্ছে। কয়েক ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ হলে তারা টিনিউজকে জানান, রোজার ঈদের সময়ে কাপড় কেনাবেচা হয় বেশি। এজন্য ভারতীয় কাপড়ের নামে পুলিশ ও কাস্টমসের কতিপয় লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। মাঝে মধ্যেই তারা হানা দেয়। অনেক সময়ে গোপনে সমঝোতা করে ফেলা হয়। সমঝোতা না হলে বহু ঝামেলা করে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাদা পোশাকে কয়েক সদস্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে আসে। তাদের দাবি এবার নিজেদের কথার চেয়ে তাদের দাবি এবার বড় সাহেবদের ঈদ করাতে হবে। এবারের ঈদের বকশিশের অংকটাও একটু বেশি দেয়ার আবদারের সুরে বলেন। অপর এক ব্যবসায়ী টিনিউজকে জানান, ঈদের আগেই তারা চাঁদাবাজির শিকার। কয়েক সন্ত্রাসী এসে বলে গেছে, তাদের ঈদ করাতে হবে। ব্যবসায়ী এক মালিকের কাছে ভ্যাট অফিসের এক কর্তা এসে বলে গেছেন, তার সাথে দেখা করার জন্য। এখন ভ্যাট অফিসারের ঈদ বকশিশের দাবি মিটানো যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া। গার্মেন্টসে এক মালিক টিনিউজকে জানান, কতিপয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য খবর পাঠিয়েছেন। দেখা করা মানেই টাকা পয়সা দেয়ার দাবি। ইনকামট্যাক্সের এক কর্মকর্তা এক কাপড়ের ব্যবসায়ীর কাছে এসে খবর নিয়ে গেছেন তিনি ইনকামট্যাক্স দেন কিনা?
এদিকে কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের ঈদ বকশিশের নামে নিরব চাঁদাবাজির কৌশলটা ব্যতিক্রমী। পরিচিত বড় ধরনের ব্যবসায়ীদের বড় ভাই, চাচা, মামা ইত্যাদি সম্বোধন করে এলাকার গরিব, দুঃখীদের জাকাত প্রদান, সাহায্য-সহযোগিতার করার জন্য নগদ টাকা, জামা-কাপড় দাবি করেন। যেসব ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের কাছে এ ধরনের আবদার জানানো হয় তারাও আবার ব্যবসায়িক কাজে সারা বছর ধরে রাজনৈতিক নেতাদেরও ব্যবহার করেন। ঈদের আগে দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে ঈদ বকশিশ বা নীরব চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিষয়টা মিটমাট করে ফেলেন। আপনজন স্বজন ছাড়া কেউ এটা জানতে পারেন না। ফলে রাজনৈতিক নেতাদের ঈদের বকশিশ নামের নিরব চাঁদাবাজির ঘটনাগুলো বাইরে খুব একটা প্রকাশ পায় না কিংবা প্রকাশ পেলেও কেই এটা নিয়ে ঘাটাতে চান না।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ