টাঙ্গাইলের বাজারগুলোতে চাহিদা বেড়েছে মৌসুমি ফলের

শেয়ার করুন

জাহিদ হাসান ॥
টাঙ্গাইলের বিভিন্ন আড়ত, বাজার ও ফলের দোকান এখন ভরে উঠেছে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, লটকন, আনারসসহ নানা রকম মৌসুমি ফলে। বেড়েছে মৌসুমি ফলের চাহিদাও। চাহিদা বাড়ায় বেড়েছে বেচাকেনা। পাইকারি ও খুচরা বাজারে পুরোদমে বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি ফল।
জেলার বাজারগুলোর বিক্রেতারা বলছেন, দাম কিছু কমে যাওয়ায় চাহিদা বেড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, এসব দেশি ফল সারা বছর পাওয়া যায় না। তাই এই সময়ে দেশি ফল বেশি কিনছেন। এতে কমেছে আপেল, মালটা, আঙুরের মতো বিদেশি ফলের চাহিদা। তবে গত মাস থেকে মৌসুমি ফল বাজারে উঠতে শুরু করলেও লকডাউনের কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় মৌসুমি ফলের ক্রেতা কিছুটা কম। আবার ফলের দামও কিছুটা কম।
টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, ফলের স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি অস্থায়ী বেশ কিছু দোকান বসেছে। যেখানে মৌসুমি ফল বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে আম, লিচু, কাঁঠাল ও আনারস। হিমসাগর, লক্ষণভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, খুদিখিরশাসহ বিভিন্ন জাতের আম বিক্রি হচ্ছে। ৫০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে আম এবং ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যেই কাঁঠাল। বোম্বাই লিচু ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুম শেষ হওয়ায় লিচুর দাম বেশি। ভ্যানগাড়িতে করে বিভিন্ন এলাকার মোড়ে মোড়ে আনারস কেটে কেটে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। প্রতি পিস ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার কম দামেই মিলছে জাম ও লটকন।
ফলের এ মৌসুমে বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজের পেশা বাদ দিয়ে ফল বিক্রি করে বেশ আয় করে থাকেন। এমনই একজন সাইফুল ইসলাম। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। মৌসুম শুরুর পর থেকেই ভ্যানগাড়িতে করে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আম বিক্রি করছেন। তিনি টিনিউজকে বলেন, ফলে নগদ লাভ বেশি। ঝুঁকি কম, আর বিক্রিও ভালো। তাই প্রতিবছর এই সময়ে এই ব্যবসা করি। আমার মতো অনেকেই এই সময়ে এই ব্যবসায় নেমে পড়েন। খুচরা বিক্রেতা হাবিব হোসেন টিনিউজকে বলেন, আড়ত থেকে আম পাইকারি দামে কিনে খুচরা বিক্রি করি। লক্ষণভোগ প্রতি কেজি ৫০ টাকায়, হিমসাগর ৭০ থেকে ১০০ টাকা ও আম্রপালি ৭৫ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করছি। দাম তুলনামূলক কম থাকায় বিক্রিও হচ্ছে অনেক। তাই কেজিতে পাঁচ টাকা লাভে বিক্রি করে দিচ্ছি।
টাঙ্গাইল শহরের ফলপেট্টির ব্যবসায়ী রাশিদুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, দাম কিছু কম হওয়ায় আগের চেয়ে তুলনামূলক বিক্রি বেড়েছে। এরপরও অনেক ফল পঁচে যাচ্ছে। কারণ মৌসুমি ফল বেশি দিন রাখা যায় না। ফল কিনতে আসা কবির হোসেন টিনিউজকে বলেন, দেশি ফল আমাদের বাসার সবার পছন্দ। সারা বছরই ফল খাওয়া হয়। তবে দেশি ফল বাজারে এলে বেশি খাওয়া হয়। দাম কমায় চাহিদা বেড়েছে মৌসুমি ফলের।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ