Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

টাঙ্গাইলের দাইন্যায় মানিককে মারধর করে হত্যার অভিযোগ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
তুচ্ছ এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের দাইন্যা ইউনিয়নের ফতেপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মানিক মোল্লা (৫৫) নামের এক বৃদ্ধকে লাথি মেরে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় নিহত মানিকের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নের ফতেপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে বসবাস করতেন মানিক মোল্লা। মানিক মোল্লার ছোট মেয়ে রোজিনা ও তার স্বামী কালামকে নিয়ে বাপের বাড়িতেই থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) সকালে রোজিনা ও কালামের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার পর কাউকে না বলে কালাম শ্বশুর বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে স্বামীকে খুঁজতে রোজিনাও বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের আর কোন খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকার কিছু মহিলা কুৎসা রটাতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী বেশ কয়েকজনের সাথে মানিক মোল্লা ও তার স্ত্রী বাছাতন বেগমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। আর এ বিষয়টি গত সোমবার (১৩ মে) বিকালে প্রতিবেশী নাজমা তার ভাতিজা সাইদুরকে জানালে সাইদুর ক্ষিপ্ত হয়ে মোটরসাইকেলযোগে মানিক মোল্লার বাড়িতে গিয়ে মানিককে লাথি, ঘুষিসহ মারধর করে। এক পর্যায়ে মানিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারাত্মক আহত হয়। পরে আহত মানিককে তার পরিবারের সদস্যরা মাথায় পানি দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরদিন মঙ্গলবার (১৪ মে) মানিকের অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে সাইদুরের ভাতিজা বাবু, বুদ্দু, আলতাফ মেম্বারের ছেলে রফিক ও জাহিদ দলবল নিয়ে মানিক মোল্লার বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দিয়ে আসে। অপরদিকে এ ঘটনার পর থেকে প্রতিবেশী নাজমা বেগম ও অভিযুক্ত সাইদুর রহমান পলাতক রয়েছে।
নিহত মানিকের স্ত্রী বাছাতন বেগম টিনিউজকে জানান, আমার স্বামী ঘরের পিছনে বাগানে বসে ছিল। সাইদুর এসে আমার স্বামীর কথা জানতে চাইলে আমি বলে দেই বাড়ির পিছনে আছে। এ সময় সাইদুর গিয়ে আমার স্বামীকে লাথি, ঘুষিসহ ব্যাপক মারধর করে। পরে আমার মেয়ে, আমি ও আমার নাতনী মঙ্গলবার (১৪ মে) আমার স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সে মারা যায়। নিহতের ছেলে নুরুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, থানার এক দারোগা বলেছেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসার পর মামলা করা হবে। আমরা গরীব। প্রশাসনের কাছে আমি আমার বাবার হত্যাকারীর বিচার চাই।
এদিকে নাজমা বেগম ও সাইদুরের বাড়িতে গেলে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকজনের কাছে তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে কেউ তাদের খোঁজ দিতে পারেনি। তবে নাজমার মেয়ে জানায়, তার মা ডাক্তার দেখানোর জন্য পাহাড়ে গেছে।
এ ব্যাপারে দাইন্যা ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম লাবলু টিনিউজকে বলেন, আমি প্রশাসনের লোকজন ও স্থানীয় মেম্বারের সাথে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বিষয়টি সর্ম্পকে আমি তেমন কিছুই জানি না। পরিবারের লোকজন আমাকে কিছু তথ্য জানিয়েছে। যদি ঘটনা সত্য হয়, তবে অবশ্যই আমি এর বিচার চাইবো। আমি সব সময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার (এসআই) ওয়াজেদ আলী টিনিউজকে বলেন, খবর পেয়ে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। এটি হত্যা না সাধারণ মৃত্যু তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে পাওয়া যাবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ