জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সভা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টারঃ টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯আগস্ট) দুপুরে জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে মামলা দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ঈর্ষানিত হয়ে আমার নামে মামলা দিয়েছেন। জেলা জাতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শামসুদৌহা যুব রাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আহসান খান আছু, মির্জাপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, ধনবাড়ী উপজেলার সভাপতি জীবন মাহমুদ শক্তি, প্রচার সম্পাদক সাকেদুল ইসলাম, ভূঞাপুর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রাজু।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হকসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাই, হত্যার হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম চাকলাদার। গত ১ আগস্ট বুধবার টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মোছাম্মৎ মনিরা সুলতানা মামলাটি গ্রহণ করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তালিকাভুক্ত (রেকর্ড) করার জন্য টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, জাপা সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, তার ছেলে মোবিন, রাজু ও সানি এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শামসুদ্দোহাসহ আরও দু’জন শুক্রবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টাঙ্গাইল গোরস্থান জামে মসজিদের কাছে আব্দুস সালাম চাকলাদারকে ঘিরে ধরে। এসময় তারা জাতীয় পার্টির সম্মেলন উপলক্ষে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একই ব্যক্তিরা রোববার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে শহরের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় রোডে তাকে আবারও গতিরোধ করে জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে আনে। এসময় পিস্তল ও ছুরি বের করে তারা ভয়ভীতি দেখায় এবং চাঁদা না দিলে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এসময় সৈয়দ শামসুদ্দোহা তাকে ঘুষি মারে এবং পকেটে থাকা মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। যার মধ্যে ১৬ হাজার টাকা ছিলো বলে বিবনণীতে জানা যায়।
মামলায় আরও অভিযোগ করেন, এসডিএস আইটিসিএল নামক একটি এনজিও গ্রাহকদের টাকা মোজাম্মেল হক আত্মসাৎ করেছেন। গ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে মামলার বাদী গ্রহকদের পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। এনজিওটির সম্পত্তি বিক্রি করে পাওনা পরিশোধের জন্য আদালত রায় দিয়েছেন। কিন্তু জেলা জাপা’র সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক কিছু ভুয়া জাল দলিল করে ওই এনজিওর জমি আত্মসাতের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে মামলার বাদী সালাম চাকলাদারের বিরোধ চলছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ