ছানোয়ার-মুরাদ সিদ্দিকীর প্রচারণায় মুখর টাঙ্গাইল সদর আসন

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥
দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তারপরও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনে সর্বত্র চলছে জল্পনা-কল্পনা, চুলচেরা বিশ্লেষণ আর হিসাব-নিকাশ। সংসদ নির্বাচনের যখন কোন সাড়াশব্দ নেই দেশে। ঠিক সেই বিগত ২০১৫ সাল থেকেই টাঙ্গাইল সদর আসনে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছিলেন দুই সংসদ সদস্য প্রার্থী। প্রার্থী দু’জন হলেন- সরকার দলীয় এমপি প্রার্থী ও বর্তমান এমপি ছানায়োর হোসেন এবং গত নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জননেতা মুরাদ সিদ্দিকী।
সর্বশেষ তারা দুইজন পুরো রোজার মাসেই ইফতারী দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন টাঙ্গাইল সদরবাসীকে। এমপি ছানোয়ার হোসেন তার নিজ বাসায় মাসব্যাপী ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন। এখানে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ উপস্থিত হয়। পাশাপাশি জননেতা মুরাদ সিদ্দিকী রোজার মাসে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মুসুল্লীদের সাথে ইফতারে অংশ নিয়েছেন। নিজ বাড়িতেও ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন।
সেই দুইবছর আগে থেকেই তারা দু’জন অপ্রতিদ্বন্ধি হয়ে মানুষের মাঝে উপস্থিত থেকে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সময় থেকেই টাঙ্গাইল সদর আসনে সংসদ নির্বাচনী আমেজ বয়ে চলেছে। দুই বছর আগের সেই প্রচারণা এখন ব্যাপকতা ও প্রসারতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দিন যতই গড়াচ্ছে তাদের প্রচারনার লড়াই ততই তুঙ্গে উঠছে। প্রচারনায় জননেতা মুরাদ সিদ্দিকী এবং ছানোয়ার হোসেন একে অপরের কট্টর প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন। অথচ আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের শেষের দিকে টাঙ্গাইল জেলার অন্যান্য আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন নির্বাচনী প্রচারনায়।
টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনে আগামী নির্বাচন নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে কৌতূহলের যেন শেষ নেই। নির্বাচন কবে হবে। সব দল নির্বাচনে থাকছে কিনা। নির্বাচন পদ্ধতি কী হবে। আর কে হচ্ছেন দলীয় প্রার্থী। কার যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা কেমন। নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার উন্নয়নে কে-কি ভূমিকা রাখতে পারবেন। আগে যারা নির্বাচিত হয়েছেন এলাকার উন্নয়নে কার কি অবদান ছিল। আলোচনার ঝড় চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রভাব পড়েছে।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৫ সংসদীয় আসন। নদী-চর ও সমতল নিয়ে এ আসন। টাঙ্গাইল সদর ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, বিগত ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা করেন ৪ জন প্রার্থী। বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ৯৬,৫৪৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার ভোটের গড় ছিল ৩২.২%। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল মান্নান ভোট পান ৮৩,৪৫৮। তার ভোটের গড় ছিল ২৭.৮%। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন মুরাদ সিদ্দিকী। তিনি ৬৮,১৬৭ ভোট পান। তার ভোটের গড় ছিল ২২.৭%। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী আবুল কাশেম ভোট পান ৫০,২৫৬। তার ভোটের গড় ছিল ১৬.৮%।
বিগত ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা করেন ৩জন প্রার্থী। মহাজোট সমর্থিত জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী আবুল কাশেম ভোট পান ১,৪৭,১৫২। তার ভোটের গড় ছিল ১৬.৮%। বিএনপি প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ৭২,৮০৫ ভোট পান। তার ভোটের গড় ছিল ২৭.৮%। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মুরাদ সিদ্দিকী ৪০,৪৫৬ ভোট পান। তার ভোটের গড় ছিল ১৫.৪%।
সর্বশেষ বিগত ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা করেন ৩ জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন ভোট পান ৬৭,৯৫৯। তার ভোটের গড় ছিল ৫৩.১%। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মুরাদ সিদ্দিকী ৫৯,৩৫৮ ভোট পান। তার ভোটের গড় ছিল ৪৬.৪%। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাদেক সিদ্দিকী ভোট পান ৪০০। তার ভোটের গড় ছিল ০০.৩%। বিএনপি এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।
স্থানীয় ভোটার ও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা বা বিশ্লেষণ না হলেও চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে গত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। দলীয় নেতাকর্মীরা ৯ম সংসদ নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে নানা কর্ম কৌশল নির্ধারণ করছেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পরে রাজনৈতিক সংঘাত আর দন্দে অস্থির ছিল জেলার এই সংসদীয় এলাকা। রাজনৈতিক অস্থিরতায় জেলাজুরে ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দেশে রাজনৈতিক সংঘাতে ঘটে একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও। ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনাগুলো ঝেড়ে ফেলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা স্থানীয় ভোট বিশ্লেষকদের। বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে আসনটিতে চালকের আসনে রয়েছে আওয়ামী লীগ।
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের লড়াই জমে উঠবে দুই শিবিরেই। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২০০৮ সালের নির্বাচনে হাতছাড়া হওয়া আসনটি পুনরুদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালাবে। অপরদিকে, ধারবাহিকতা ধরে রাখতে চেষ্টা চালাবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এখনও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কে হচ্ছেন প্রার্থী, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় এমপি ছানোয়ার হোসেন বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলছেন, শেখ হাসিনা নামই হচ্ছে উন্নয়নের বাংলাদেশ। তারই নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে পরিচিতি হতে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা মানেই শান্তি, উন্নয়নের অগ্রগতি। আজকে রোহিঙ্গাদের মানবতার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বের মধ্যে এনে দিয়েছে এক নতুন রুপে সম্মান। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে রুপান্তর করতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প আর কোন নেতৃত্ব নেই। স্বাধীনতার আগে ও পরে অনেকেই ক্ষমতায় এসেছে। দেশে উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশে শুধু উন্নয়নই সম্ভব হয়নি বাংলাদেশ আজ বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
ছানায়োর হোসেনের কর্মীসমর্থকরা টিনিউজকে বলেন, বাংলাদেশ আজকে বিশ্বে রোল মডেল। এদেশের সকল উন্নয়ন আজ প্রতিটি মানুষের নিকট দৃশ্যমান। পদ্মা সেতু বিশ্বে নজরবিহীন উদাহরণ আর এ সকল শুধু সম্ভব হয়েছে দেশরতœ শেখ হাসিনার কারণে। কাজেই আগামীতে দেশকে এবং টাঙ্গাইলকে আরও উন্নয়ন করতে হলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আর এজন্য ছানোয়ার হোসেনের মতো জনপ্রিয় মানুষকে প্রয়োজন। যিনি জনগনের পাশে থেকে টাঙ্গাইলকে সারাদেশে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ আসনের তিনবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছেন মুরাদ সিদ্দিকী। গত নির্বাচনের পর থেকেই তিনি প্রচারণায় রয়েছেন। জননেতা মুরাদ সিদ্দিকী বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলেছেন, আমি আপনাদের ঘরের ছেলে, আপনাদেরই আত্মীয়-ভাই-বন্ধু। আপনাদের আদরে-শাসনে হামাগুড়ি দিতে দিতে বড় হয়েছি। আমি সিদ্দিকী পরিবারের সন্তান বলে আমার গর্ব আছে, অহঙ্কার নেই। ছোট বেলা থেকে আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি, আর ভবিষ্যতেও থাকব। রাজনীতি হচ্ছে মানুষের অধিকার আদায়ের পথ- সেবা করার মাধ্যম। আজ রাজনীতির ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসা, নারী ও শিশু পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। এটা হতে দেয়া যায় না। সচেতন মানুষ হিসেবে আমরা তা মানতে পারি না।
মুরাদ সিদ্দিকীর কর্মীসমর্থকরা টিনিউজকে বলেন, তিনি মুরুব্বিদের মধ্যে আস্থার প্রতিক হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি তরুনদের সংগঠিত করে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জনগনকে সাথে নিয়ে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। গত তিনবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগন ভোট দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে মুরাদ সিদ্দিকীর উদারতা, মহানুভবতা দেখে জনগন ভোট দিবেন। আগামীতে জনগনের ভালবাসা পেয়ে তিনি জয়লাভ করবেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ব্রেকিং নিউজঃ